‘অগণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশের’ বিরুদ্ধে ১৫ আন্তর্জাতিক সংগঠনের বিবৃতি

বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘নিয়ন্ত্রণমূলক নির্বাচনী পরিবেশ’ বিরাজ করছে বলে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে নির্বাচন ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা ১৫টি আন্তর্জাতিক সংগঠন।

৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের নির্ধারিত তারিখের এক দিন আগে আজ শনিবার ব্যাংককভিত্তিক এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (অ্যানফ্রেল) এই বিবৃতি পাঠায়। ১৫টি সংগঠনের মধ্যে অ্যানফ্রেলও আছে।

‘অগণতান্ত্রিক নির্বাচনী পরিবেশের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে এ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ সরকার দেশের সুশীল সমাজ, বিরোধী দল ও গণমাধ্যমের খড়গহস্ত হয়েছে।’

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, ১০ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর বিরোধীদের গাড়িবহরে ৩০ বার হামলা হয়েছে। ১৫৯টি আসনে ২০৭টি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৪৩ প্রার্থী হামলার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এযাবৎ বিরোধী দলের ১৭ প্রার্থী আটক হয়েছেন। নির্বাচনী সহিংসতায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৮২ জন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিরোধী দলের সদস্যরা মারধরের শিকার হচ্ছেন, তাদের দলীয় ভাংচুর করা হচ্ছে, এমনকি বিরোধী নারী সদস্যরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। বিরোধী প্রচারণা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এসব সহিংসতা বাংলাদেশের ভোটারদের মনে ভীতি সঞ্চারের একটি প্রক্রিয়া। এ কারণে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

বিবৃতিতে বিরোধী দলগুলোর সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়, গত নভেম্বর থেকে পুলিশ এযাবৎ তাদের ২১ হাজার কর্মী ও সমর্থককে গ্রেফতার করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, নির্বাচনী তফসিলের পর দেশে ব্যাপক হারে গায়েবি মামলার সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিরোধী জোটের নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার ও ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, চাঁদাবাজি ও মাছ চুরির মতো মামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেই একটি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয় না; নির্বাচনী পরিবেশের ওপরই বহুলাংশে নির্ভর করে সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনের আগে সুশীল সমাজের সংগঠনগুলো এবং গণমাধ্যম নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের বিষয়ে বলা হয়, শুধু গত নভেম্বরেই সাংবাদিকদের উপর ৭২টি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ৩৯ জন এবং ৯ জন গ্রেফতার হয়েছেন ডিজিটাল সিকিউরিটি মামলায়।

বলা হয়, ফটোসাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী শহীদুল আলমকে গ্রেফতার বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বাধীন ও সমালোচনামূলক কণ্ঠের প্রতিকূল আচরণের উদাহরণ।

মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করা সংগঠন অধিকার সম্পর্কে বলা হয়, সংস্থাটির বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধিতা’ ও ‘দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। তাই তারা তাদের কর্মকাণ্ডে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তাদের অধিকারকে নিষিদ্ধ করেছে। অবশ্য এনজিও বিষয়ক ব্যুরো সংস্থাটির নিবন্ধন দিতে দেরি করছে।

  • নয়া দিগন্ত অনলাইন

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!