ইজতেমা মাঠে মারামারি “দেওবন্দ মাওলানা সাদ-এর বিরুদ্ধে কোনো ফতোয়া দেয়নি “মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদ

মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদ

দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সংবাদে দেখা গেছে তাবলীগের বিতর্কিত আমীর মাওলানা সা’দের ব্যাপারে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাও. ফরিদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন,


দেওবন্দ মাওলানা সাদ’কে সতর্ক করে বলেছে, তোমার বক্তব্যে অনেক ভুল আছে, তুমি ওই ভুলগুলো থেকে রুজু করবে এবং এসব বিষয়ে সতর্ক থাকবে। ভারতের প্রখ্যাত ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দ মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে ভালোবাসে। “দেওবন্দ মাওলানা সাদ-এর বিরুদ্ধে কোনো ফতোয়া দেয়নি বরং তাকে সতর্ক করেছে বলেও মন্তব্য করেন মাওলানা মাসঊদ”


তাবলীগের বিবাদমান পরিস্থিতিতে দেশের আলেম ওলামা, মাদরাসা শিক্ষক, তাবলীগের বাংলাদেশের প্রধান মুরুব্বী মাও. যোবায়েরসহ বড় একটা অংশ মনে করে মাওলানা সা’দ সাহেবের জোর করে আমীর থাকাটাই সব সমস্যার মূল। তিনি জোর করে আমীর থাকতে চাওয়ার চেষ্টা না করলে এত কিছু হতো না। বিবাদ এত দুর পর্যন্ত গড়াতো না।

ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে মাওলানা সা’দের কিছু বক্তব্যের কারনে তাঁর অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে ফতোয়া জারী করেছিল। দেওবন্দের স্পষ্ট ফতোয়ার কারনেই মাওলানা সা’দের ব্যাপারে বাংলাদেশ উত্তপ্ত হয়েছিলো। তবে সা’দ অনুসারীরা সে ফতোয়া মানতে রাজি না।

এ ব্যাপারে দেশের প্রথম সারির একজন আলেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,

মাওলানা মাসউদ গত ২ ডিসেম্বর এক টক-শোতে দাবি করেছিলেন, তিনি এই ফতোয়া দেখেননি! ৪ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে এসে দাবি করেছেন, দেওবন্দ কোন ফতোয়াই দেয়নি।

এ ব্যাপারে মাওলানা মাসঊদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে তাঁর কাছের একজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি সা’দপন্থী এবং সা’দবিরোধী কোন পক্ষেই নেই। তিনি উভয়পক্ষের সমঝোতার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশে তাবলীগের বিবাদমান পরিস্থিতিতে মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদকে বরবারই মাওলানা সা’দের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। এর আগে বেশ কয়েকটা সাক্ষাতকার এবং টক-শো আলোচনায় তিনি কৌশলে সা’দপন্থীদের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করেছেন বলেই অনেকের দাবি, যা নিয়ে আলেম সমাজের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। মাওলানা মাসঊদ পরিচালিত জামিয়া ইকরা থেকে প্রকাশিত পাথেয় পত্রিকায় সা’দ সাহেবের পক্ষ হয়ে একশ আলেমের স্বাক্ষর প্রকাশের ঘটনাও ঘটেছিল। যা নিয়ে বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল আলেম ওলামাদের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও যা নিয়ে বেশ ট্রল এবং ঝগড়ার সূত্রপাত ঘটেছিল।

 সা’দপন্থীদের টঙ্গীতে হামলার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের মিছিলে মাও. মাসঊদের বিপক্ষে স্লোগাণ দেয়া হয়। ছবি : ফেসবুক

সর্বশেষ ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর মাঠের ঘটনায় মাও. মাসঊদকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা সমালোচনা শুরু হলে বেশ কয়েক জায়গায় তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয় এবং তার ছবি সম্বলিত ব্যাণার ফেস্টুন পদদলিত করা হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করারও দাবি আসে। তবে তাঁর ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন পাদদলিত করার ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

এভাবেই পায়ের নিচে পিষ্ট করা হয় মাও. মাসঊদের ছবি

“দাড়ি টুপি এভাবে পায়ের নিচে কেন” লিখে ফেসবুকে অনেককেই প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে। কারন ঐ ব্যানারে ফরিদ উদ্দীন মাসউদের মাথায় টুপি ছিলো মুখে সাদা দাড়ি ছিলো। এটা প্রকৃতপক্ষে দাড়ি টুপিকে অপমান করা হয়েছে এবং এসব হুজুগে কর্মকান্ড থেকে কওমী ছাত্রদের বিরত থাকা উচিত বলে মনে করছে অনেকেই।

পাবলিক ভয়েস 

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!