৯ বছরে ৪২২ জন গুম ১৪৮০টি কথিত ক্রসফায়ারে আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলো জড়িত – বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট

৯ বছরে ৪২২ জন গুম ১৪৮০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডে আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলো জড়িত বলে বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরেছে বিএনপি । আজ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এয়াজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।

ইউরোপ , এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরেছে বিএনপি।
হুবুহু বক্তব্য  ———–
মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে, গুমকে ফৌজদারী অপরাধ গণ্য করতে এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার ও তাদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে সলিডারিটি গ্রুপ ফর বাংলাদেশ। এক বিবৃতিতে তারা গণগ্রেফতার করা বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সরকারের প্রতি তারা সুপারিশ করেছে। আহ্বান জানানো হয়েছে ফৌজদারি বিচার বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে। সুপারিশ করা হয়েছে জোরপূর্বক গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন চলছে। সেই সাথে সরকারের সমালোচকদের ওপর ক্রমাগত আক্রমণ হচ্ছে এবং মত প্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে আইন তৈরি হচ্ছে। এশিয়ান ফেডারেশন এগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিজঅ্যাপেয়ারেন্সেস (এএফএডি), এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফোরাম-এশিয়া), এশিয়ান লিগ্যাল রিসোর্স সেন্টার (এএলআরসি), সিভিকাস গ্লোবাল এলায়েন্স, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস (এফআইডিএইচ), অধিকার, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস ও ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এগেইনস্ট টর্চার (ওএমসিটি)-এর সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সলিডারিটি গ্রুপ ফর বাংলাদেশ। এ গ্রুপে ২০১৮ সালে যোগ দিয়েছে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন নামে একটি গ্রুপ। সলিডারিটি গ্রুপ ফর বাংলাদেশ ২২ মার্চ এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছে। কড়া নিন্দা জানিয়েছে গণগ্রেফতারের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মৃত্যু ও নির্যাতনে গভীর উদ্বগ প্রকাশ করেছে। বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে শুরু হয় গ্রেফতার অভিযানের ব্যাপক হিড়িক। ওই মামলায় রায় দেয়া হয় ৮ ফেব্রুয়ারী। ব্যাপক হারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার শুরু করে কর্তৃপক্ষ। এক মাসের মতো সময়ে গ্রেফতার করা হয় ৫০০০ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে। পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় বিএনপির ছাত্র বিষয়ক রাজনৈতিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা উত্তর ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকির হোসেন মিলন মারা যান। এছাড়াও ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিরাপত্তা হেফাজতে পর্যায়ক্রমিক নির্যাতনের ফলে বাংলাদেশে ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা অবস্থায় পায়ে গুলি করায় (নিক্যাপিং) বহু ডজন মানুষ স্থায়ীভাবে বিকলাঙ্গ হয়েছেন। একই সময়ে ৪২২ জন মানুষকে জোর করে গুম করে দেয়া এবং ১৪৮০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডে আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলো জড়িত বলে অভিযোগ আছে। যৌথ এ বিবৃতিতে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়। জোরপূর্বক গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে বলা হয়। ফৌজদারি বিচার বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বলা হয়। এ বছর শেষের দিকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। এ সময়ে বাংলাদেশে গুরুতর ও চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সলিডারিটি গ্রুপ ফর বাংলাদেশ।
এদিকে মানবধিকার সংগঠন এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশের বিরোধী দলের ওপর দমননীতি বৃদ্ধি করেছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ প্রতিনিয়ত বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর সহিংস মনোভাব দেখাচ্ছে। পক্ষান্তরে দুর্বল মানবাধিকার পরিস্থিতি চরমভাবে আতঙ্কজনক। বর্তমান সরকারের আওতায় ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রকাশ ঘটছে।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!