২৮ অক্টোবরের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আওয়ামী লীগকে বিচারের সম্মুক্ষীণ হতেই হবে -রিজভী

গতকাল রোববার নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

 নির্বাচন কমিশন কতিপয় আত্মবিক্রয় করা লোকজন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এরা সমস্ত শক্তি দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার চিরদিনের জন্য হরণ করে নিতে শেখ হাসিনার মনোবাঞ্ছা পূরণে নিরন্তর কাজ করছে। তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর এবং এরপর যেসব মানবতা বিরোধী কর্মকা- ঘটেছে তার জন্য আওয়ামী লীগকে বিচারের সম্মুখীন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। গতকাল রোববার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
রিজভী উল্লেখ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার খুলনায় বললেন, সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার হবে, আবার ইসি সচিব চট্টগ্রামে বললেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ৮৪ হাজার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কিনবে নির্বাচন কমিশন। এগুলো নাকি শহর এলাকায় ব্যবহার করা হবে। সিইসি ও ইসি সচিব দু’জনই আওয়ামী সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সদা তৎপর। এদিকে রংপুরে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বললেন, ইভিএম ব্যবহার করা হবে কী না, তা এখনও অনিশ্চিত। একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করার জন্য ভোটারদেরকে গোলক ধাঁধার মধ্যে ফেলতে কমিশনের কর্তাব্যক্তিরা এসমস্ত বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলছেন। আসলে ইভিএম এর নামে মহাজালিয়াতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তারা।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীনদের কিছু লোকের পকেট ভারী করার জন্য সারা দুনিয়ায় ধিকৃত ও বিতর্কিত ইভিএম মেশিন ৩৮২৫ কোটি টাকায় কেনা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কতিপয় কমিশনার ভোটারবিহীন সরকারের একনিষ্ঠ সেবক বলেই এদেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার নিয়ে বিরোধিতা সত্ত্বেও সেই ইভিএম পদ্ধতি নির্বাচন কমিশন আগামী নির্বাচনে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। সীমিত আকারের কথা বলা হলেও আরপিও সংশোধন করে তারা ব্যাপকভাবেই আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করবে। ভোটারবিহীন সরকারের প্রধান একতরফা নির্বাচন করতে সব অস্ত্র ব্যবহার করছেন, যাতে তার ক্ষমতায় থাকাটা নিষ্কন্টক হয়। এই কারণে তার আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন দিয়ে জালিয়াতির বাক্স ইভিএম চালু করতে চাচ্ছেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ভোট কেন্দ্রে সকলের চোখের সামনে পুলিশের সহায়তায় সরকারী দলের সন্ত্রাসীদের ভোট ডাকাতি দেখার পরেও শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইভিএম পদ্ধতি চালু করবেন, এটি শিশু ও পাগল কেউই বিশ্বা করবে না। শুধুমাত্র নৌকার পক্ষে ‘ডিজিটাল ভোট-ডাকাতি’ করতেই এই ইভিএম ব্যবহারের তোড়জোড়। সকলের মত অগ্রাহ্য করে নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে ইভিএম চালু ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার সামিল। আমি দলের পক্ষ থেকে ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে জনগণের ভোট ধ্বংসের ষড়যন্ত্রজাল ছেঁড়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
বিএনপির এই মুখপাত্র ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের  পৈশাচিক হত্যকান্ডের কথা স্বরণ করে বলেন, আজ ২৮ অক্টোবর সেই ভয়াল রক্তঝরা দিন। ২০০৬ সালের এই দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী রাজনৈতিক সহিংসতায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়। শেখ হাসিনার নির্দেশে লগী-বৈঠা দিয়ে পাশবিক প্রহার, গুলি আর ইট-পাটকেলের আঘাতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় ছয় জনকে হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করা হয়। এই আদিম অমানবিক উল্লাস দেখে দেশবাসীসহ সারা বিশ্ব আতঙ্ক ও বেদনায় শিহরিত হয়ে ওঠে। বর্তমানে আওয়ামী সরকারের সৃষ্ট অবিরাম রক্তপাতের ফলে দেশজুড়ে নিস্তবদ্ধতার আচ্ছাদন তৈরী করার চেষ্টা হলেও ২৮ অক্টোবরের সেই মৃত্যু-বিভিষিকা জনগণ এখনও ভুলে যায়নি। তারা সরকারেই থাকুক আর বিরোধী দলেই থাকুক, সহিংস সন্ত্রাসই যে আওয়ামী লীগের আদর্শ ও নীতি প্রতিমূহুর্তে সেটির প্রতিফলন ঘটে। ২৮ অক্টোবর ২০০৬ থেকে আজ পর্যন্ত আওয়ামী সন্ত্রাসের ছোবলে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হতে হয়েছে। এগুলো চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ, এজন্য আওয়ামী লীগকে বিচারের সম্মুক্ষীণ হতেই হবে।
রিজভী আরও বলেন, অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট রাজন ব্যাপারীকে এখনও জনসমক্ষে হাজির করেনি র‌্যাব। কেরানীগঞ্জ জেলগেগে সবার সামনে থেকে তাকে তুলে নেয়া হলেও এখনও তার কোন হদিস দেয়া হচ্ছে না। তার স্ত্রী গতকাল কেরাণীগঞ্জ থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। এটি রাষ্ট্রের সন্ত্রাসী রুপেরই বহি:প্রকাশ। রাজন ব্যাপারী র‌্যাবে হেফাজতেই আছে, কিন্তু তার কোন খোঁজ না দিয়ে গুম করে রেখে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকামী মানুষদের ভয় দেখানো হচ্ছে। আমি অবিলম্বে রাজন ব্যাপারীকে জনসমক্ষে হাজির করার আবারও জোরালো আহবান জানাচ্ছি।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী এ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রচণ্ড জ্বরে চোখ মেলতে পারছেন না, ডায়াবেটিস অত্যাধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। শারীরিকভাবে প্রচণ্ড খারাপ অবস্থার মধ্যে কাতরালেও জেল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার কোন ব্যবস্থাই করছে না। অবহেলা ও উপেক্ষায় জনাব শিমুল বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। আমি অবিলম্বে শিমুল বিশ্বাসের সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা সেলিমা রহমান, আহমেদ আযম খান, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আযাদ, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংগ্রাম

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!