২১শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলা নিয়ে যা বললেন তারেক রহমান (ভিডিওসহ​)

Tarique Rahman, Senior Vice Chairman of Bangladesh Nationalist Party

২১শে আগষ্টের বোমা হামলা নিয়ে জনাব তারেক রহমানের বক্তব্য।

রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই ঐ দিন আওয়ামীলীগ ঐ হামলার পটভুমি তৈরী করেছিল। আওয়ামীলীগের জঙ্গি রাজনীতির ভয়াবহতা: বিএনপি সরকার পতনের লক্ষে চালানো হয় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা। ঘটনার ১৪ বছর পার হয়ে গেলেও ঐ ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়নি, শেখ হাসিনা এক দশক ক্ষমতায় থাকার পরেও এতবড় ঘটনার কোনো বিচার করেননি।

আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার সেনগুপ্ত বাবু পরিস্কার বলে গেছেন- এটি রাজনৈতিক মামলা। কাজেই মামলার রায়ও হবে রাজনৈতিক- এটাই স্বাভাবিক! তাই আজকাল আর এসবে অবাক হই না। নীচের পয়েন্টগুলো একটু ভালো করে খেয়াল করলে বুঝতে কষ্ট হবে না- কারা কেনো কি উদ্দেশ্যে ঐ হামলা করেছিল-

#পয়েন্ট এক: ২১ আগস্ট ২০০৪ শেখ হাসিনার মিটিং নির্ধারিত ছিল মুক্তাঙ্গনে। হঠাৎ করে সকাল বেলা পুলিশকে না জানিয়ে স্থান বদলে ফেলে আওয়ামীলীগ অফিসের সামনে। সেখানেই ঘটে ঘটনা। কেনো পাল্টিয়েছিল স্থান? যাতে করে নিজেদের এলাকায় সফলভাবে প্লানটা বাস্তবায়ন করা যায়?

#পয়েন্ট দুই: গ্রেনেড ফাটার সময় হাসিনা বক্তৃতা করছিলেন, কিন্তু তখন তার রাজনৈতিক সচিব সাবের চৌধুরী অবস্থান করছিলেন জিরো পয়েন্টে? কি করছিলেন উনি সেখানে? উনি কি জানতেন গ্রেনেড হামলা হবে?

#পয়েন্ট তিন: হাসিনার অফিসের সামনে যায়গা তাদের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ। কিন্তু বাইরের যে কারো জন্য চরম ঝুকির। কি কোনো পাগলে বিশ্বাস করবে যে, হাসিনার অফিসের সামনে বাইরের লোক গিয়ে গ্রেনেড হামলার মত রিস্ক নেবে? এতগুলা লোক হামলা করলো এক জনকেও ধরা গেলো না! হিসাবটা কি?

#পয়েন্ট চার: যে গ্রেনেডগুলো ছোড়া হয়েছিল, সেগুলোর উৎস কি? আসামের একটি পত্রিকা লিখেছিল, ওগুলো ভারতীয়।

#পয়েন্ট পাঁচ: গ্রেনেড হামলা হওয়ার ঠিক আগে আগে আইভি রহমানকে বার বার হাসিনা ডাকছিলেন রাস্তা ছেড়ে ট্রাকে উঠতে। অথচ আইভি ওঠেননি, এবং কিছুক্ষন পরে আহত হয়ে পরে মারা গেলেন। হাসিনা কি ঠিক জানতেন হামলাটি হচ্ছে?

#পয়েন্ট ছয়: হামলার পরে হাসিনা নিজের বাসায় চলে গেলো বিকল্প গাড়িতে। কিন্তু সাবের চৌধূরী নতুন কাপড় চোপড় পড়ে ধানমন্ডিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূতদের হাসিনার গাড়িতে গুলি হওয়ার চিহ্ন দেখায়। কিন্তু পরে যখন এফবিআই যায়, ডিবি তদন্ত করতে চায় সেই গাড়িটি আর দেখাতে পারেনি। গাড়িটা নাকি তারা ধংস করে ফেলেছে! কিন্তু কেনো? কি লুকাতে চেয়েছে তারা? এতবড় আলামত কেনো ধংস করলো? কি লুকাতে চাইলো?

#পয়েন্ট সাত: হাসিনা কি আসলেই অসুস্থ হয়েছিল? তারপরে বাম কান নস্ট, নাকি ডান কান নস্ট, এতে তো নাটকটা বেশ জমে উঠেছিল! পরে দেখা গেছে নস্ট কান দিয়েই সে টেলিফোন ধরে আছে।

#পয়েন্ট আট: হাসিনার গাড়িটা ছিলো মার্সিটিজ বেঞ্জ বুলেটপ্রুফ। মার্সিটিজ কোম্পানী বলেছে, ঐ গাড়িতে গুলি প্রবেশ করা অসম্ভব। অথচ হাসিনার লোকজন দাবী করে- গুলি গাড়িতে প্রবেশ করে নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়। কিন্তু বিশ্বস্ত সুত্র জানিয়েছে, সাবের হোসেন নিজের পিস্তল দিয়ে ৬ রাউন্ড গুলি করে গাড়িটিতে ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। যাতে মিডিয়াকে বলে হাসিনাকে হত্যার জন্য গাড়িতে গুলি করা হইছে। কিন্তু বুলেট প্রুফ গাড়িতে গুলি স্লিপ খেয়ে তৎকালীন ছাএলীগের দপ্তর সম্পাদক আহত হয়। পরের দিন দেশের দৈনিক গুলো, বিশেষ করে আওয়ামি সমর্থক পত্রিকাগুলো বিভিন্ন কল্প কাহিনী ছাপাতে থাকে। Daily Star হাছিনার বরাত দিয়ে ছাপে, “বুলেট প্রুফ মার্সিডিজের কাঁচ ভেঙ্গে ভিতরে গুলি ঢুকেছে” কিন্তু বিষয়টি মার্সিডিজ কোম্পানির নজরে আসলে তারা তীব্র প্রতিবাদ জানায়, এবং পরীক্ষার জন্য গাড়িটি ফেরত চায়। কিন্তু মার্সিডিজ কোম্পানী চাপ দিলে হাসিনা লিখিতভাবে তার ব্যক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তীতে ব্যালাস্টিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় নাটক ধরা পড়ার ভয়ে গাড়িটেকে ধংস করে ফেলার কথা দাবী করে আ’লীগ।

#পয়েন্ট নয়: এই মুফতি হান্নানকে আটক করা হয় ২০০০ সালের কোটালিপাড়ায় হাসিনার জনসভায় ৬৩ কেজি বোমা পোতার অভিযোগে। অথচ ঘটনার পরপরই জানা যায়, পুরো জিনিষটা ছিল তখনকার আওয়ামীলীগ সরকারের সাজানো, যাতে করে বিএনপি-জামায়াতের ওপর দোষ চাপানো যায়!

#পয়েন্ট দশ: ২১ আগস্টের হামলাকারীরা হাসিনার সমাবেশে ঢুকেছিল ওলামালীগের তখনকার সভাপতি আকতারের নেতৃত্বে, এই কথা ফাঁস করে দেয় ওলামা লীগের পরবর্তী সভাপতি হেলালী। আর এই অপরাধে পরে হেলালীকে জবাই করার চেষ্টা করে প্রতিপক্ষরা।

#পয়েন্ট এগার: বিএনপির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বেকুব বাবর মামলাটা ধামাচাপা দেয়ার জন্য জন্ম দেয় জজ মিয়া নাটক। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ হাজির করে মুফতি হান্নানকে। এই হান্নানকে পিটিয়ে তারা স্বীকারোক্তি রেকর্ড করায় যাতে বলা হয় – তারেক রহমান জড়িত! অথচ, বছরখানেক পরে মুফতি হান্নান আদালতে লিখিতভাবে জানায়, তারেক রহমানকে জড়িয়ে দেয়া জবানবন্দি পুরোটাই ছিল পুলিশের বানানো।

মূলত, বিএনপি সরকার পতনের লক্ষে ঐ বছরেই অন্তত তিনটি ষড়যন্ত্র চালায় ভারতের র এবং আওয়ামীলীগ।

১) প্রথমটি ছিল, ঐ একই বছরের ১লা এপ্রিল ভারতের জ্ঞাতসারে ১০ ট্রাক অস্ত্র প্রবেশ করানো, ধরা পড়া, এবং বিএনপির বিরুদ্ধে অস্ত্রের বাজার সৃষ্টির অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করা।

২) ঐ একই মাসের ৩০ তারিখে সরকার পতনের জন্য আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আবদুল জলিলের ঘোষিত ‘ট্রাম্প কার্ড!’ র-আ’লীগের ঐ প্লানের আওতায় ১০ লাখ লোক ভাড়া করবে একটি এনজিও, বিএনপির ১০০ এমপি কিনে নিয়ে সরকার পতন ঘটাবে। সেটাও ব্যর্থ হয়।

৩) তৃতীয় প্রয়াসে, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ঘটায় নিজেদের সমাবেশে। এতে এত হতাহত হবে যে, তাদের ধারনা ছিল বিএনপি সরকারের পতন ঘটে যাবে। সেটাও সফল হয়নি।

৪) এর পরের বছর হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে ৬৩ জেলায় ৫০০ স্থানে একযোগে বোমা হামলা চালায় জেএমবি। এর মূল পরিকল্পনা ও অস্ত্র সরবরাহ করে ভারত, আর এ কাজে সহায়তা করে যুবলীগ। ভারতের খাতায় এর নাম ছিল ‘অপারেশন পারপল’। যুবলীগ সাধারন সম্পাদক মীর্জা আজমের দুলাভাই শায়খ আবদুর রহমান ছিলেন ঐ জেএমবির আমির। শায়খ আবদুর রহমানকে বিএনপি সরকর গ্রেফতার করে, পরে ফাঁসি হয়। কিন্তু জঙ্গিবাদের মূল হোতা হাসিনা, নানক, আজমরা রয়ে যায়। এখনও তারা চালিয়ে যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন রকম জঙ্গী হামলা, আর তাতে নিরিহ মানুষ মরে, বা জেলে যায়, কিন্তু রাজনৈতিক ফায়দা ওঠায় আ’লীগ।

 

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!