২০২০ সালে রাশিয়ার এক পঞ্চমাংশ জনসংখ্যার মুসলমান হওয়ার প্রত্যাশা!

  

 

রাশিয়ার মুসলিম জনসংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে রাশিয়ায় ২৫ মিলিয়ন মুসলমানের বসবাস বলে জানান রাশিয়ার গ্র্যান্ড মুফতী শেখ রাইল গাইনেদ্দিন।

আনাদোলু এজেন্সীর কাছে এক সাক্ষাতকারে তিনি জানান,

রাশিয়ার মুসলমানরা রাশিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা। তারা রাশিয়ায় অন্যান্য বিশ্বাসের মানুষের সাথে সহমর্মিতার সম্পর্ক বজায় রেখেই রাশিয়ায় বসবাস করে আসছে বলে তিনি জানান।

 

রাশিয়ার মুসলিম

  • মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি: বর্তমানে ২৫ মিলিয়ন রাশিয়ান মুসলিম কমিউনিটির জনসংখ্যা ক্রমাগতই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাইনেদ্দিন বলেন,

“এর পেছনে মূলত দুইটি কারন রয়েছে। প্রথমত, মুসলমানদের উচ্চ জন্মহার এবং মধ্য এশিয়া থেকে অভিবাসী হয়ে রাশিয়ায় মুসলমানদের আগমন।”  

  • শিকড়: গাইনেদ্দিন বলেন, সপ্তম শতাব্দীতেই ইসলাম রাশিয়াতে প্রবেশ করে। রাসূল (সা.) এর ইন্তেকালের ২২ বছর পরেই তার সাহাবীরা রাশিয়ায় আগমন করেন।

  • দক্ষিণ দাগেস্তানের বর্তমানে দারবান্দ নামক শহরে ইসলামের প্রথম আগমন ঘটে। রাশিয়ার মধ্যে দাগেস্তানের মাটিতেই প্রথম আজান প্রদান করা হয় বলে জানান শেখ গাইনেদ্দিন।

  • রাশিয়ায় ঐতিহাসিকভাবে ৫৮টি জনগোষ্ঠীর লোক ইসলাম পালন করতো বলে তিনি জানান।

  • শেখ গাইনেদ্দিন বলেন, মস্কো ও অন্যান্য বড় শহরেই রাশিয়ার অধিকাংশ মুসলমানরা বর্তমানে বসবাস করে।

  • তিনি জানান, রুশ ভূখন্ডের কিভান রুসে অর্থোডক্স খ্রিস্ট ধর্মের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতির ৬৬ বছর পূর্বে ভলগা বুলগারিয়ায় ৯২২ খ্রিস্টাব্দে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্মের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

  • রাশিয়ার অধিকাংশ মুসলমানই সুন্নী হানাফী মাযহাবের অনুসারী। এছাড়া কিছু শাফেয়ী ও শিয়া মুসলমানও রাশিয়ায় বসবাস করে।

  • রাশিয়ার শিয়া মুসলমানরা মূলত আজেরী ও তাজিক জনগোষ্ঠীর লোক এবং তাদের অধিকাংশই বর্তমানে দাগেস্তানের দারবান্দের নিকটে থাকে বলে জানা শেখ গাইনেদ্দিন।

সামাজিক সংগঠন

রাশিয়ায় মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয়াদি দেখাশোনার জন্য তিনটি ফেডারেল সেন্টার রয়েছে বলে গ্র্যান্ড মুফতি জানান।

১. মস্কোর মুফতি কাউন্সিল

২. উফার মুসলিম স্প্রিচুয়াল অথরিটি

৩. ককেশাসের মুসলিম স্প্রিচুয়াল অথরিটি

গাইনেদ্দিন বলেন,

‘আমরা কোন মুসলমানকেই শিয়া-সুন্নীর ভিত্তিতে বিভক্ত করিনা। সকলেই আমাদের কাছে এক মুসলিম উম্মাহর সদস্য।’

তিনি আরো বলেন,

‘ইসলাম এক গণতান্ত্রিক ধর্ম। খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের মত আমাদের কোন পোপতন্ত্র নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী মুসলমানদের দেশভিত্তিক নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবস্থান রয়েছে।’

ইসলামী বার্তা

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!