২০২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ

২০২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ

দুই বছরে দাখিল পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী অংশ না নেয়ায় দেশের ২০২টি মাদ্রাসা বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

ইতিমধ্যে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি ও একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল, মাদ্রাসার কোড বা অনলাইন পাসওয়ার্ড, ইআইআইএন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এসব মাদ্রাসার এমপিও কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না- এর কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তা অবহিত হতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরকে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের সহকারী সচিব মো. আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব মাদ্রাসা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের সচিব মো. আলমগীর বুধবার যুগান্তরকে বলেন, কোনো শিক্ষার্থী থাকবে না আর বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠান চলবে তা হতে পারে না। এভাবে যারা সরকারের টাকা লুটপাট করে খাবে অথচ এর কোনো সুফল জাতি পাবে না তা হতে পারে না।

এ কারণে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। পাশাপাশি যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান অন্যায়ের শিকার না হয় সে ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, দুই বছরে অর্থাৎ ২০১৭ ও ২০১৮ সালের দাখিল পরীক্ষায় ২০২টি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থী অংশ নেয়নি। অর্থাৎ পরীক্ষার উপযুক্ত কোনো শিক্ষার্থী ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই।

অথচ সবগুলো মাদ্রাসাই এমপিওভুক্ত। তাদের পেছনে সরকারের প্রতি মাসে ব্যয় হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা। যেসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর শূন্য পাস, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ছাত্র নেই সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সময় এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি ও একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল ও অনলাইন পাসওয়ার্ড ইআইআইএন কেন বন্ধ করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। এসব মাদ্রাসার তালিকা দিতেও বারবার গড়িমসি করে মাদ্রাসা বোর্ড।

শেষ পর্যন্ত তালিকা দিতে বোর্ড বাধ্য হয়। তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বন্ধ হওয়া মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের ২৭টি, দিনাজপুরের ১৯টি, গাইবান্ধার ১২টি, রাজশাহী ও পাবনার ১১টি করে, সিরাজগঞ্জ ও নাটোরের ১০টি করে, রংপুরের আটটি, পটুয়াখালী ও পঞ্চগড়ের সাতটি করে, ভোলার ছয়টি, সাতক্ষীরা, লালমনিরহাট, বগুড়া, বরগুনা ও যশোরের পাঁচটি করে, খুলনা, ময়মনসিংহ ও বাগেরহাটের চারটি করে, নীলফামারী, টাঙ্গাইল ও কুষ্টিয়ার তিনটি করে প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এছাড়া কয়েকটি জেলায় দুটি ও একটি করে মাদ্রাসা এ তালিকায় রয়েছে। দাখিল পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস না করায় আরও ৯৬টি মাদ্রাসাকে মে মাসে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

এ নোটিশে বলা হয়, ২০১৮ সালের দাখিল পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার শূন্য হওয়ায় মাদ্রাসাগুলোর প্রাথমিক পাঠদান স্থগিত, একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিলসহ এডুকেশনাল ইন্সটিটিউশন আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ইআইআইএন) কেন বন্ধ করা হবে না, তা চিঠি পাওয়ার ২১ দিনের (কর্মদিবস) মধ্যে জানাতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো কারণ দর্শানোর জবাব দিয়েছে।

তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের জবাব সন্তোষজনক নয়। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। মাদ্রাসা বন্ধে সরকারের এমন কঠোর পদক্ষেপে দেশের ভুঁইফোড় মাদ্রাসাগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একই কারণে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলেও এ ব্যাপারে কার্যত কোনো উদ্যোগ নেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এ অভিযান সব স্তরের প্রতিষ্ঠানের জন্য সমানভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!