১৬ জুন সংবাদ পত্রের কালো দিবস ও আজকের বাংলাদেশ  –মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন

পৃথিবীর ইতিহাসে যা কখনো ঘটেনি এবং ভবিষ্যতে ঘটবে কিনা  সন্দেহ আছে। ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন তৎকালিন রাস্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের একদলীয় বাকশাল সরকার তাদের মত সর্মথনকারী চারটি পত্রিকা বহাল রেখে সংবাদ -পত্র ব্যবস্থাপনা আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল সংবাদ -পত্র বন্ধ করে দেয়। আর এরই মধ্য দিয়ে স্বাধীন স্বার্বোভৌম বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল সংবাদ -পত্রের উপর র্নিযাতন। গ্রেফতার করা হয়েছিল দৈনিক গনকন্ঠের বিপ্লবী সম্পাদক বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি আল মাহমুদ সহ অসংখ্য সংবাদ কর্মীকে। রক্ষী বহিনীর হাতে ধৃত অনেককেই পরবর্তীকালে আর খুঁজে পাওয়া যায়নী। আওয়ামীলীগের অপকর্মের ধারনকৃত ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করার হুমকী দেওয়াতে সাংবাদিক ও বাংলা চলচিত্রের ক্ষনজন্মা পরিচালক জহির রায়হান তৎকালিন শাসকের রোষানলে পরে গুমের শিকার হন। আজ পর্যন্ত তাঁর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নী। সেই র্নিযাতনের ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশে আবারও সংবাদ -পত্র রাস্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে । গ্রেফতারের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ,সাপ্তাহিক যায় যায় দিন সম্পাদক সফিক রেহমান এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ । ঘড় ছাড়া হয়েছে অনেক সংবাদ কর্মী। দেশান্তরী হয়েছে আমার দেশ এর বিশেষ প্রতিনিধি ওয়ালী উল্লাহ নোমান সহ আরও অনেকে। রাস্ট্রের স্বার্থ সংস্লিষ্ট বিষয়ে ভুমিকা রাখতে যেয়ে আমার দেশ, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি সহ আরও অনেক মিডিয়া বর্তমান শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ সরকারের ফ্যাসীবাদী রোষানলে পরে বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়েছে শত শত সংবাদ র্কমী। সাগর-রুনী সহ আরও অনেক সংবাদ কর্মী হত্যা কিংবা গুমের শিকার হয়েছে । ৫৭ ধারায় অহরহ মামলা হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের কারন। ইতিহাসের ধারাবহিকতায় আজ সেই কালো দিন । ১৯৭৫ এর চাইতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি আজকের বাংলাদেশে। সব জায়গায় একটা গুমোট পরিবেশ। দেশের মানুষ চায় এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি । এ চরমতম জাতীয় সংকটকালে জাতিকে মুক্ত করতে এবং সংবাদ -পত্রের স্বাধীনতা এবং অধিকার পূনঃ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সকলের জন্য শপথ হোক “পরিবর্তনের জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম” ।

লেখকঃ সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!