আজ ১৪ই জুলাই ফ্রান্সের জাতীয় দিবস

ফ্রান্সের জাতীয় উৎসব (ফরাসি: Fête Nationale ফেত্ নাসিওনাল্; ইংরেজি ভাষায়: Bastille Day) প্রতি বছর ১৪ই জুলাই উদযাপন করা হয়। ফ্রান্সের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষায় এটি ল্য কাতর্জ জুইয়ে (le quatorze juillet) অর্থাৎ ১৪ই জুলাই নামে পরিচিত। এই উৎসবে ১৭৮৯ সালের ১৪ই জুলাই তারিখে ফ্রান্সের সাধারণ জনগণের বাস্তিল দুর্গ দখলের ঘটনাটিকে স্মরণ করা হয়। ঐ ঘটনাটিকে ফরাসি বিপ্লব ও আধুনিক ফ্রান্সের একটি প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির সম্মুখে প্যারিসের শঁজেলিজে অ্যাভেনিউতে ( Avenue Champs-Elysées) ১৪ই জুলাই সকালে উৎসব শুরু হয়। একোল পলিতেকনিক, একোল স্পেসিয়াল মিলিতের দ্য সাঁ-সির, একোল নাভাল, ইত্যাদি বিদ্যালয়ের ক্যাডেটদের কুচকাওয়াজ, সাধারণ সৈন্যদের কুচকাওয়াজ, সাঁজোয়া গাড়ির বহর, ইত্যাদি চলতে থাকে। উপরে আকাশে পাত্রুই দ‍্য ফ্রঁসের বিমানগুলি উড়ে যায়। সম্প্রতি ফ্রান্সের মিত্রদেশের সৈন্যরাও এই কুচকাওয়াজে অংশ নেবার আমন্ত্রণ পান।
এই দিন ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি সাধারণত দেশের অবস্থা সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকার দেন এবং ছোট খাটো অপরাধীদের ক্ষমা করে দেন।সবাইকে ফ্রান্সের জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাই।

স্বাধীনতা

 

ফ্রান্সের সর্বপ্রথম অধিবাসীদের সম্পর্কে তেমন বিশেষ কিছু জানা যায় না। দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গুহায় পাওয়া ছবিগুলো প্রায় ১৫০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের বলে অনুমান করা হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতক থেকে কেল্টীয় ও অন্যান্য গোত্রের লোকেরা ফ্রান্সে বসবাস করতে শুরু করে। প্রাচীনকালে ফ্রান্স অঞ্চল কেল্টীয় গল নামে পরিচিত ছিল।

প্রাচীন রোমানরা খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতকে ফ্রান্সের দখল নেয় এবং খ্রিস্টীয় ৫ম শতকে রোমান সাম্রাজ্যের পতন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অঞ্চলটি শাসন করে। রোমের পতনের পর অনেক রাজবংশ ধারাবাহিকভাবে ফ্রান্স শাসন করে। মধ্যযুগে রাজতন্ত্রের প্রভাব খর্বহয় এবং স্থানীয় শাসকভিত্তিক সামন্তবাদের উত্থান ঘটে।

১৪০০-১৮০০ শতক পর্যন্ত রাজতন্ত্রের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এ সময় ফ্রান্সের রাজারা ও তাদের মন্ত্রীরা ধীরে ধীরে একটি কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্র এবং বড় আকারের সামরিক বাহিনী গড়ে তোলেন। ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং এর পর বহু দশক ধরে ফ্রান্স রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হয়। এ সত্ত্বেও নাপোলেয়োঁবোনাপার্তের শাসনামলে ফ্রান্স একটি সংহত প্রশাসনিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

১৯০০-২০০০ শতকের শুরুতে ফরাসি শক্তি ও আর্থিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। এ সময় ফ্রান্স একটি সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রায় পুরোটাই ফ্রান্সের মাটিতে সংঘটিত হয় এবং ফলে দেশটির ব্যাপক ক্ষতি হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি উত্তর ফ্রান্স দখল করলে মধ্য ফ্রান্সের ভিশিতে একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্স তার ধূলিসাৎ অর্থনীতিকে আবার গড়ে তোলে এবং বিশ্বের একটি প্রধান শিল্পরাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়।

বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ফ্রান্সের উপনিবেশগুলোতে সাম্রাজ্যবিরোধী আন্দোলন জেগে ওঠে। ফলে ফ্রান্স অচিরেই তার বেশিরভাগ উপনিবেশ হারায়। ১৯৫৮ সালে আলজেরিয়ায় ফরাসিবিরোধী আন্দোলন ফ্রান্সকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। এ সময় ফরাসি সরকার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম ফরাসি নেতা শার্ল দ্য গোলকে একনায়কের ক্ষমতা দান করে।

দ্য গোল বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে ফ্রান্সকে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!