স্বপ্নের তা’বীর ও নহরে জোবাইদা :শাইখ আবু সামিহা সিরাজুল ইসলাম

খলীফা হারূন আর-রশীদ (রহিমাহুল্লাহ) এর প্রিয়তমা বেগম ও চাচাতো বোন জ়ুবায়দা একটা স্বপ্ন দেখলেন। স্বপ্ন শেষে জাগরিত হয়ে তাঁর গা ঘিনঘিন করতে লাগল। তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন। শেষে চিন্তা করলেন বাগদাদের তৎকালীন সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আলিমের কাছে এর তা’বীর জানবেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন দর্শনটা এতই জঘন্য ছিল যে তিনি নিজে এই স্বপ্ন দেখেছেন এটা বলতে চাইলেন না।

তিনি এক দাসীকে ঐ আলিমের কাছে পাঠালেন ঐ স্বপ্নের বিবরণ দিয়ে এবং তাকে বলতে বললেন যে স্বপ্নটা সে নিজে দেখেছে। দাসী এসে ঐ আলিমের কাছে স্বপ্নের ঘটনা জানালে তিনি বললেন, “তুমি এই স্বপ্ন দেখতে পারো না।” আলিম সাহেবের চাপাচাপিতে দাসী নেহায়েৎ বলে দিল যে স্বপ্নটা খলীফার সবচেয়ে প্রিয় বেগম জ়ুবায়দা দেখেছেন। আলিম সাহেব তখন বললেন যে তাঁকে বলবে, তিনি এমন একটা ভাল কাজ করবেন যা থেকে অসংখ্য মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে উপকৃত হতে থাকবে।

বাগদাদের রাণী কী স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং তিনি কী করেছিলেন সে সম্পর্কে একটু পরে আসি।

আমাকে বিভিন্ন ভাইয়েরা বিভিন্ন সময়ে তাঁদের স্বপ্নের কথা বলে তা’বীর জিজ্ঞেস করেন। মুশকিল হল আমি স্বপ্নের তা’বীর করতে জানি না। আমি আসলে স্বপ্ন নিয়ে খুব ভাবিও না। আমার নিজের দেখা অধিকাংশ স্বপ্নই ঘুম থেকে উঠার পর আমার মনে থাকে না। আমি মনে হয় স্বপ্ন খুব দেখিও না।

যাই হোক স্বপ্ন সম্পর্কে নিচে কিছু কথা বলছি। স্বপ্ন সাধারণত তিন রকমের হয়ে থাকে।

১ম প্রকার হল আল্লাহর তা’আলার কাছ থেকে। এগুলো এক ধরণের ওহীর মতন। এগুলোর কোন মানে থাকতে পারে। হাদীসে এসেছে সত্য স্বপ্ন নবুয়্যতের অংশ।

দ্বিতীয় প্রকার হল, শয়তানের পক্ষ থেকে। এগুলো সাধারণত দুঃসপ্ন টাইপ। শয়তান ভীতি প্রদর্শন ও বিপথ গামী করার জন্য মানুষদের এ ধরণের স্বপ্ন দেখাতে পারে।

তৃতীয় প্রকার হল আমাদের মনের অস্থির বিচরণ। এগুলো মূলত সাইকোলজিকাল একটা প্রতিক্রিয়া। আমাদের চিন্তা-ভাবনা ও অস্থির মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

এখন কোন্‌ স্বপ্ন কার পক্ষ থেকে হয়েছে তা আমাদের বুঝার সাধ্য নেই। তাই স্বপ্ন যদি ভাল মনে হয় তাহলে আপনি আপনার কাছের ও ভাল লোকজনকে বলতে পারেন। সেজন্য তারা আপনার জন্য দু’আ করতে পারে। কারো যদি তা’বীর করার মত জ্ঞান থাকে তবে তারা তাও করতে পারেন, অথবা কোন ভাল নির্দেশনাও দিতে পারেন। আপনি এ ধরণের স্বপ্নের জন্য আল্লাহর প্রশংসা আদায় করতে পারেন, জ্ঞানী লোকদের নির্দেশনানুযায়ী আমলও করতে পারেন।

যদি খারাপ স্বপ্ন দেখেন তবে সেগুলো কাউকে না বলাই শ্রেয়। তবে কোন ভাল আলিম যদি স্বপ্নের তা’বীর করতে পারেন তাঁকে জানাতে পারেন এবং তাঁর মতামত নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সাধারণ করণীয় যা তা হল, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা ও তাঁর সাহায্য কামনা করা, কিছু দান খয়রাত ও অন্যান্য ভাল কাজ করা।

শয়তানী স্বপ্ন কীভাবে বুঝবেন? তার সাধারণ নিয়ম হল আপনাকে কোন ওয়ালী আল্লাহ বানিয়ে দেবে, দীনের সাধারণ হুকুম আহকাম থেকে আপনাকে মুক্তি দিয়ে দেবে, মারাত্মক কোন দুঃস্বপ্ন দেখিয়ে অন্তরে ভীতি সৃষ্টি করে দেবে, ইত্যাদি।

আর যা মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া সেক্ষেত্রে সাধারণভাবে কিছুই করার নেই। নিজের মনকে স্থিতিশীল করার জন্য কুর’আন হাদীস ও বিভিন্ন ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন করা যেতে পারে এক্ষেত্রে।

আমাদের ছোটবেলায় আমরা দেখতাম ঘরে ঘরে সুলেমানী খাবনামা। ঐ সমস্ত খাব নামাগুলোর বেশিরভাগই ছিল ভূঁয়া, যদিও কিছু কিছু ইমাম মুহাম্মদ ইবন সিরীন থেকে রেওয়াত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তো বেগম জ়ুবায়দা কী স্বপ্ন দেখেছিলেন? তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন যে অসংখ্য মানুষ একে একে তাঁর সাথে সঙ্গম করে পরিতৃপ্ত হয়ে ফিরে যাচ্ছে। দাসী যখন আলিম সাহেবকে এই স্বপ্নের কথা বলেছিল তখন তিনি তাকে বলেছিলেন, তুমি এই স্বপ্ন দেখতে পারো না, কারণ এই স্বপ্নের যে তা’বীর তা পূর্ণ করার মত সামর্থ তোমার নেই।

বেগম জ়ুবায়দা কী করেছিলেন? তিনি ইরাক ও হিজাজ়ের মাঝে বিরাট একটা খাল খনন করে দিয়েছিলেন। যেখানে সুপেয় পানি জমা করা হয়েছিল, যা থেকে অনেক অনেক বছর ইরাক ও পূর্ব দিক থেকে হিজাজ়ের দিকে সফরকারীরা পানি নিতে পারতেন, বিশেষ করে হজ্জযাত্রীরা।

নোটঃ বেগম জ়ুবায়দার ঘটনাটার জন্য কেউ রেফারেন্স চাইবেন না। সেই ৩৫ বছর আগে পড়া কোন এক বইয়ের ঘটনা। বইয়ের নাম এখন মনে নাই।
(বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ শাইখ আবু সামিহা সিরাজুল ইসলাম এর টাইম লাইন থেকে)

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!