সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও ইন্ডিয়ান এজেন্টদের এজেন্ডা।

সিলেট সিটি কর্পোরেশেন নির্বাচনকে কিন্দ্র করে বিএনপি আপাতত নিজেদের ঘরের অস্থিরতা কাটিয়ে উঠেছে। বদরুজ্জামান সেলিমকে বহিস্কারের আগেই এই উদ্যোগ নেওয়া হলে আরো সুন্দর হত বিষয়টি। ক্ষমতা আছে বলেই সেটা প্রয়োগ করতে হবে! এমন ধারনাটা যে সঠিক নয়, এটাই এখানে প্রমাণিত হয়েছে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ কেন হয়েছিলেন?! সেটার পেছনেও কিন্তু কোন কারন ছিল। সেই গুলো আগেই মিটানোও সম্ভব ছিল। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত পানি অনেক গোলা করে সেই উদ্যোগই নিতে হল। যদি উদ্যোগই নিতে হবে বহিস্কার করার দরকার ছিল কি! বহিষ্কার যে চুড়ান্ত সামাধান নয় এখান থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

বিএনপি’র অভ্যন্তরীন বিষয়টি মিটমাটের পাশাপাশি ভোটাররা আশা করেছিল জোটের ভেতরের অস্থিরতাও দূর করা হবে। কিন্তু ২০ দলীয় জোটের একটি অন্যতম দল জামায়াতে ইসলামী। তাদের একজন প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রেখে নির্বাচনের ফলাফল কেমন হবে সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। এতে জোটের ভেতরেও বাইরে ভাল সিগন্যাল যায় না। ভোটাররাও বিষয়টা ভাল চোখে দেখে না। ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালের ভোটের হিসাব কষলে দেখা যায় তাদের ঠেলা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মত নয়। পাশাপাশি এহসান মাহবুব জোবায়েরের ব্যক্তি ইমেজও কম নয়। একটি বড় ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব ভোটের পাশাপাশি এহসান মাহবুব জোবায়েরের ব্যক্তি ইমেজ এবং তাদের প্রতি কিছুটা সিমপ্যাথি ভোটও থাকবে। এতে আওয়ামী বিরোধী ভোট যারা কোন দল করে না, অথচ তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে চায় না, তাদের ভোট ভাগাভাগি হবে।

জোটের দুই প্রার্থীর পক্ষ থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও যেভাবে কাঁদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে সেটাও অনেক দৃষ্ঠিকটু লাগে। এতে মনে হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সাথে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই কারো। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে! এতে নিজেদের ভেতরে তিক্ততা কমে না, বরং বাড়ছে। দায়িত্বশীল অনেক নেতারাও যেভাবে জোটের শরীক দলকে নিয়ে অবাঞ্চিত মন্তব্য করছেন তাও ভাল লক্ষণ নয়।

বিগত উপজেলা নির্বাচনে শুধু সিলেটের চিত্রটা সামনে রাখলেই চলে। কি ঘটেছিল জোটের এই কাঁদা ছোড়াছুড়ির ফলে!
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় জামায়াতে ইসলামীর রানিং উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। সেখানে বিগত নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে পৃথক প্রার্থী দেওয়ায় আওয়ামী লীগ সহজ জয় পায়। জামায়াতে ইসলামীর রানিং উপজেলা চেয়ারম্যান দ্বিতীয় এবং বিএনপি তৃতীয় হয়েছিল। একই অবস্থা ঘটেছিল ছাতকে। সেখানেও জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপি উভয় দলের প্রার্থী ছিল। জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় এবং বিএনপি তৃতীয় হয়েছিল। এরকম বহু ঘটনা ঘটেছে বিগত উপজেলা ইলেকশনে। যেখানে জোটের বিরোধ এড়িয়ে নিজেদের সমন্বয়ে প্রার্থী ১জন থাকলে বিজয় ছিল সুনিশ্চিত। নিজেদের মাঝে বোঝাপড়ার মাধ্যমে এসব বিষয় মিটমাট করা সম্ভব।

সিলেটের সিটি কর্পোরেশন ইলেকশনের রেশ যদি আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত থাকে, তাইলে কি ঘটবে এখনই বলা মুশকিল। তারপরও অতীত রেকর্ড থেকে বলা যায় জোটের ভেতরে রেষারেষির ফলাফল খুব ভাল হয় না। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের রেষারেষির খেসারত কিন্তু জাতি এখনো দিচ্ছে! জোটের ভোট ভাগ করাটাই কিন্তু ইন্ডিয়ান এজেন্টদের এক নাম্মার এজেন্ডা।

সত্য হউক আর মিথ্যা হউক, আলোচনায় কিন্তু এখনই উঠে আসছে বিভিন্ন বিষয়। কেউ বলছেন, বিএনপি’র সাম্প্রতিক ইন্ডিয়ামুখি রাজনীতির প্রচারণায় বলা হচ্ছে জোট থেকে জামায়াতে ইসলামীকে বের করা। ইন্ডিয়া এমনটা বলে দিয়েছে বলে কেউ কেউ প্রচার করছেন। সিলেটের নির্বাচনের মাধ্যমে ইন্ডিয়ান প্রচারণাই হালে পানি পাচ্ছে।

এখানো সময় গড়িয়ে যায়নি। খুলনা, গাজিপুর হারানোর পর এবার অন্তত সিলেটে জোটের বিজয় ধরে রাখতে দুই দলের দায়িত্বশীলদের উদ্যোগী ভুমিকা দরকার।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!