সিলেটে জামায়াত প্রার্থী দেবার কারণ? টকশোতে ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপি এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব

গতকাল একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলর টকশোতে সিলেটের মেয়র প্রার্থী নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের মাঝে মূলত কি ঘটেছিলো তা নিয়ে মুখ খুললেন, ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জনাব শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জনাব ড. আহমদ আবদুল কাদের। টকশোর আলোচনার একটা পর্যায়ে তাঁরা পরিষ্কার করেই বলছিলেন, জামায়াত ২০১৩ সাল থেকে সিলেটের পৌরসভা মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী দেবে বলে জানিয়ে রেখেছিলো, কিন্তু সে ব্যাপারে বিএনপি জোটের বৈঠকে অনেকটা আলোচনা না করেই ঘোষণা দিয়েছে তাঁদের একক প্রার্থীর নাম, যা জামায়াত মেনে নিতে পারেনি। তাঁরা আর বলেন, জামায়াত বিএনপিকে ঢাকা এবং গাজীপুরে প্রার্থী ঘোষণা করেও পরে শুধু মাত্র বিএনপি এবং জোটের কল্যাণে প্রার্থিতা তুলে নিয়েছিল এবং আশা করেছিল সিলেট সিটি নির্বাচনে তাঁদের পূর্ব চাহিদাকৃত প্রার্থীকে জোটের প্রার্থী হিসেবে মেনে নেয়া হয়। কিন্তু সে ব্যাপারে বিএনপি অনেকটা স্বেচ্ছাচারিটার পরিচয় দিয়েছে।

এলডিপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, জুনের ২৭ তারিখ সিলেটের প্রার্থী চূড়ান্ত হবার যে জোটের সভা ছিল, সে সভায় সকল দলের নেতার উপস্থিত থাকলেও আলোচনা করে চূড়ান্ত হবার আগেই পল্টন অফিস থেকে রিজভি আহমেদ আরিফুল হককে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়, যা শুনার পর সে মিটিংয়ে জামায়াতের উপস্থিত প্রথিনিধি মাত্র ৩০ সেকেন্ড উপস্থিত থেকে চলে যান এবং বলে যান সিলেটে জামায়াতের প্রার্থী থাকছে। সেলিম মনে করেন সিলেট সিটি নিয়ে জোটের বড় দুই দলের প্রার্থী দেয়ার এ বিষয়টি সমাধা করা সহজ ছিল যদি বিএনপি তাঁদের প্রার্থী ঘোষণা করার পূর্বে জামায়াতের সাথে একা বৈঠক করতেন। যা তাঁরা করেননি বা করার প্রয়োজন মনে করেননি।

আলোচনার এ পর্যায়ে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন বড় দলগুলোর একটা বাজে স্বভাব তারা প্রার্থিতা ঘোষণা করে জোটের দলগুলোকে সে প্রার্থীকে মেনে নিতে বাধ্য করে, এ কালচার বিএনপি’তে যেমন আছে একই সমস্যা আওয়ামীলীগেও আছে। তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থীকে হয়তো সবাই মেনেই নিত, কিন্তু আলোচনা করে সে বিষয়টি ঘোষণা হলে বিষয়টি এমন হতোনা।

ড. আহমদ আবদুল কাদের আরো বলেন, আমরা জানতে পেরেছি জামায়াত সিটি নির্বাচনগুলোর মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী ঘোষণা করবে বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে একটি দাবি করেছিল এবং বলেছিল বাকি ১১ সিটিতে তারা বিএনপিকে সমর্থন দিবে, তিন মাস আগে এ বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপির সাথে কথাও হয়েছিল কিন্তু তাঁদের সাথে তা করা হয়নি।

শাহাদাত হোসেন সেলিম আরো বলেন, জামায়াতের একজন ভাল প্রার্থী আছে তা তারা অনেক আগেই ঘোষণা করেছিল যা না শুনে বিএনপি চরম একটি ভুল করেছে এবং এ ধরনের ভুল অব্যাহত থাকলে আগামী নির্বাচনে ভাল করতে পারবেনা।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!