সিরিয়ায় মার্কিন হামলা : কী বলছেন এরদোগান?

সিরিয়ার নিরীহ নাগরিকদের আরো আগেই রক্ষা করা উচিত ছিল

যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র ব্রিটেন ও ফ্রান্স যৌথভাবে শনিবার সিরিয়ায় আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিদ্রোহী অধ্যুষিত দামেস্কের উপকণ্ঠ দৌমায় মারাত্মক গ্যাস আক্রমণের এক সপ্তাহ পরই এ হামলা চালানো হলো।

দৌমার এ হামলার জন্য আসাদ সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে। এ হামলায় শিশুসহ অন্তত ৮৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে সহস্রাধিক মানুষ।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগান সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের এ হামলাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘এ হামলা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে একটা বার্তা দিচ্ছে।’

শনিবার জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির এক সমাবেশে তুরস্কের এরদোগান বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ হামলা এই বার্তা দেয় যে কোনো অপরাধীই শাস্তির ঊর্ধ্বে নয়’।

তিনি এ হামলাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘সিরিয়ার অসহায় নাগরিকরা দীর্ঘদিন যাবত অত্যাচার সহ্য করছে এর একটা জবাব দেয়ার দরকার ছিল’।

একই সাথে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর সকল রাসায়নিক ও ভয়ঙ্কর অস্ত্র বিলুপ্ত করা উচিত, আমাদের মানবতার সেবার জন্য প্রতিযোগীতা করা উচিত অস্ত্রের জন্য নয়।’

হামলার পরপরই এরদোগান এ পরিস্থিতি নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ফোনে কথা বলেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন’ ‘দৌমায় যে গ্যাস হামলা হয়েছিল তা অমানবিক এটা অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না।’ সূত্র: আল জাজিরা

সিরিয়ায় মার্কিন হামলা : এখন কী করবে রাশিয়া?
সিরিয়ায় এবার যে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা সেটি এক বছর আগের চেয়েও শক্তিশালী। সেবার যুক্তরাষ্ট্র একাই ছিল, এবার সাথে রয়েছে ব্রিটেন ও ফ্রান্স।

আগের বার হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি আর এবার অন্তত তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র।

কিন্তু এতসব সত্ত্বেও প্রশ্ন রয়ে গেছে সেই একই—আর তা হলো, আমেরিকা কি তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে?

অন্তত যেটি তারা মুখে বলছে যে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার থেকে নিবৃত রাখা- সেটি কি আসলেই সম্ভব হবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে?

গত বছর এপ্রিল থেকে দুটি মৌলিক বিষয়ের পরিবর্তন হয়েছে – একটি হলো আসাদ সরকার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট আসাদের হয়তো পুরো সিরিয়ার ওপর সমান কর্তৃত্ব নেই কিন্তু রাশিয়া ও ইরানের সহযোগিতার কারণে তার বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই।

আর দ্বিতীয়টি হলো ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি-যেটিকে অনেকে স্নায়ুযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি বলছেন।

সিরিয়ায় এবারের হামলার তিনটি লক্ষ্যবস্তুকেই বেছে নেয়া হয়েছে রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির জন্য।

এখন তাদের আশা আসাদ তার আচরণে পরিবর্তন আনবেন।

কিন্তু সিরিয়া সংকটের আসলে কী হবে? এই নিষ্ঠুর যুদ্ধের শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এই সর্বশেষ হামলা কী সিরিয়ার অবস্থার পরিবর্তন আনবে-এটিই এখন বড় প্রশ্ন। কিংবা এ সংকট শেষ হওয়ার কাছাকাছি কি যাওয়া সম্ভব হবে?

দুঃখজনক হলেও সত্যি যে দুটি প্রশ্নের উত্তরই হবে- না।

অন্যদিকে বারবার সতর্ক বার্তা ছিলো রাশিয়ার তরফ থেকে, তা সত্ত্বেও হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা।

এখন কী করবে রাশিয়া?

সিরিয়া নিজেই আমেরিকার এই হামলা কতখানি গুরুত্ব দিবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে এবং এখানে আমেরিকানদের বিরুদ্ধে কোনো লড়াইয়েও তারা যাবে না।

রাশিয়া তরফ থেকে প্রচারণা চলছে যে রাসায়নিক হামলার কোনো প্রমাণই নেই। আর পুরো বিষয়টিই সাজানো হয়েছে মস্কো ও আসাদকে বিপাকে ফেলতে।

আর মনে রাখতে হবে এটা সেই রাশিয়া যার বিরুদ্ধে পশ্চিমারা কূটনৈতিক যুদ্ধে নেমেছে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়েকে নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা অভিযোগ নিয়ে।

এটা সেই রাশিয়া যারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া দখল করেছে ইউক্রেনের একটি অংশকে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তাতে বিশ্ব আরেকটি স্নায়ুযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে-এটি বলছে জাতিসঙ্ঘও।

রাশিয়া হয়তো সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো বিশ্ব সুপার পাওয়ার নয়। কিন্তু রাশিয়ার স্বার্থে যা করা দরকার সেটি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ভ্লাদিমির পুতিন, আর সেটা যেভাবেই হোক না কেন।

আর এসব কারণেই আমেরিকার লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!