সিপিবি,বাসদ ও কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের যোগাযোগ :জাস্ট সৌজন্য সাক্ষাৎ , বললেন কাদের

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ে গিয়ে দলটির দুজন নেতার সঙ্গে বৈঠককে ‘কোনো অফিসিয়াল আলাপ’ নয় বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সিপিবি কার্যালয়ে যান ওবায়দুল কাদের। পরে বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
আজ সিপিবি কার্যালয়ে গিয়ে কাদের দলটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কোটা আন্দোলন, আগামী নির্বাচন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে বলে দুই দলের রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

তবে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাস্ট এটা সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমি বাসদের খালেকুজ্জামানের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছি। আমি ফোনে কাদের সিদ্দিকী সাহেবের সঙ্গেও কথা বলেছি। উনি গতকাল আমাকে কল করেছিলেন কিন্তু খেয়াল করতে পারিনি। আজকে তাঁকে কল করেছি, কথা বলেছি। এটা একটা সৌজন্যবোধের ব্যাপার।’ কাদেরের কথা, ‘একটা ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ রাজনীতিতে থাকা উচিত।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে, ততই দৃশ্যপটের মধ্যে কিছু কিছু পরিবর্তন আসবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেলে এ ব্যাপারে মেরুকরণ স্বাভাবিক ব্যাপার। আমাদের এখানে মেরুকরণ কীভাবে হবে, সেটা দেখার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে?

জাতীয় পার্টির এইচ এম এরশাদের ভারত সফর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, এটা এরশাদ সাহেবকেই জিজ্ঞেস করেন।
বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে কাদের বলেন, ‘ভারতভীতিটা যাদের এত প্রবল, ইলেকশন এলে ভারতপ্রীতি কেন বেড়ে যায়? যারা সারা বছরই ভারতভীতিতে ভোগে, নির্বাচন এলেই তাদের ভারতপ্রীতি কেন? এত ঘন ঘন যাচ্ছেন কেন?’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত কাউকে ক্ষমতায় বসাবে—এটা আমরা বিশ্বাস করি না। এ জন্য আমরা তোষামোদিও করি না।’
বিএনপির রাজনীতি ‘ছদ্মবেশী বিদ্বেষপ্রসূত’ দাবি করে কাদের বলেন, এই ছদ্মবেশী বিদ্বেষপ্রসূত নেতিবাচক রাজনীতির কারণে আগামী নির্বাচনে বিএনপির পরাজয় হবে এবং আগামী নির্বাচনে মাশুল দিতে হবে।

ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুরনাহার লাইলী, কার্যনির্বাহী সদস্য এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওসার, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!