সাতচল্লিশে পাকিস্তান না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না

সাহাদত হোসেন খান
প্রায় প্রতিদিন কেউ না কেউ ইসলামপন্থী ও জাতীয়তাবাদীদের পাকিস্তানে প্যাকেট করে পাঠিয়ে দিতে বলে। সর্বশেষ বললেন কুষ্টিয়ার এসপি তানভীর আরাফাত। তিনি আলেমদের লক্ষ্য করে বলেছেন, ‘আপনার যদি বাংলাদেশ পছন্দ না হয় তাহলে ইউ আর ওয়েলকাম টু গো ইউর পেয়ারা পাকিস্তান।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ কত জনকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। বাংলাদেশে জীবন শুরু হওয়ার আগে কখনো কাউকে দেশত্যাগ করার জন্য হুমকি দিতে শুনিনি। মতের সঙ্গে অমিল হলেই হলো। যাচ্ছে তাই ভাষায় গালাগালি। যারা এমন আচরণ করেন তারা একটি বিশেষ দলের। তাদেরকে আমরা চিনি। আমার জন্মভূমি থেকে আমাকে যখন পাকিস্তানে চলে যেতে বলা হয় তখন মুখ বুঝে সহ্য করা ছাড়া উপায় থাকে না। আমরাই তাদের ক্ষমতায় এনেছি। ২১ বছর কান্নাকাটি করায় তাদের প্রতি আমাদের দয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই তারা আমাদের গলা চেপে ধরে। গোটা দেশে এক রুদ্ধশ্বাস পরিবেশ কায়েম করে। তারা কী না পারে! প্রতিবাদ করতে গেলে হয়তো নেমে আসবে জেল জুলুম নয়তো ক্রসফায়ার নয়তো রিমান্ড নয়তো গুম। সামনাসামনি বলা সম্ভব নয়। তাই মনে মনে বলি, তোমরা পাকিস্তানকে কথায় কথায় গালি দাও। সুযোগ পেয়েছো গালি দিয়ে যাও। তবে একটা কথার জবাব কি দেবে, পাকিস্তান না হলে আমরা কি বাংলাদেশ পেতাম? তোমাদের ঘৃণিত পাকিস্তান আমলে কি কোনো রাজনীতিবিদকে রিমান্ডে নেয়া হতো? কাউকে ক্রসফায়ার করা হতো? কাউকে গুম করা হতো? মৌলিক গণতন্ত্র হলেও ছিল। তোমাদের আমলে তো তাও নেই।
আমি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা মরহুম মিজানুর রহমান চৌধুরীর আত্মজীবনী পড়েছি। তার আত্মজীবনী ‘রাজনীতির তিন কাল’-এর একটি তথ্য আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয়। মিজানুর রহমান চৌধুরীকে প্রায়ই কারাগারে যেতে হতো। কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বহু উপঢৌকন ও ভাতা নিয়ে বের হতেন। আর এখন? এখন বন্দিদের মানুষের মর্যাদা দেয়া হয় না। কারাগারে ¯ে¬া পয়জনিং করা হয়। চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হয় না। চিকিৎসার প্রয়োজন হলে উপহাস করা হয়। দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ৩৯ দিন রিমান্ডে রাখা হয়েছে। তাকে খেতে দেয়া হতো না। ঘুমাতে দেয়া হতো না। কেন, তিনি কি খুনি নাকি দুর্বৃত্ত? হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গেও একই আচরণ করা হয়েছে। কথিত হত্যা মামলায় তাকে ৯ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয় এবং খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়ে তাকে মুক্তি লাভের প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়, নয়তো তাকে জেলে মরতে হবে। ছেলেমেয়ের মুখ দেখবেন না। মানবতার মৃত্যু হলে কোনো সমাজে বন্দির সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ করা হয়।
অনেক কথা হজম করতে হয়। মুখে অনেক কথা আসতে চায়। সময় খারাপ বলে চেপে যাই। বলতে ইচ্ছে করে, তোমরা এ দেশ পেলে কোথায়? ভারত কি আমাদেরকে এক টুকরো জমি দিয়েছে? ভালো করে শুনে রাখো, পাকিস্তান না হলে কখনো বাংলাদেশ হতো না। পাকিস্তানকে গালি দেয়ার অর্থ হলো তুমি তোমার পূর্বপূরুষকে গালি দিচ্ছো। তুমি তোমার ইতিহাসকে বিদ্রুপ করছো।
২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর ফেস দ্য পিপলে এক বিতর্কে দেশের প্রখ্যাত আলেম ড: এনায়েতউল্লাহ আব্বাসী দ্বিজাতিতত্ত্বকে অকুণ্ঠচিত্তে সমর্থন করে বলেছেন, পাকিস্তান না হলে বাংলাদেশ হতো না। আমরা হিন্দু শাসিত ভারতের অংশ হতাম। ভারতের অংশ হলে আমরা কখনো স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতাম না। লেখক শাহরিয়ার কবির এনায়েতউল্লাহ আব্বাসীর বক্তব্যের সময় নীরব ছিলেন।
সাতচলি¬শে আমাদের পূর্বপূরুষ এ ভূখণ্ডে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলনে ব্যর্থ হলে আজ আমাদেরকে ভারতীয় হিসেবে পরিচয় দিতে হতো। হ্যাঁ, ভারত ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে তার কৌশলগত স্বার্থে যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়েছে। অপ্রিয় সত্যি কখনো বলতে নেই। কিন্তু ইতিহাসের মুখ কি চাপা দিয়ে রাখা যাবে? বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অকুণ্ঠ ও সর্বাত্মক সমর্থন দানের অশুভ উদ্দেশ্য ভারতীয় লেখকগণও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। ভারতীয় লেখক রতন দাস ‘জয়প্রকাশ নারায়ণ: হিজ লাইফ এন্ড মিশন’ শিরোনামে একটি পুস্তকের ২৪৫ পৃষ্ঠায় লিখেছেন,
Both Vinoba and JP were very impressed with the diplomatic talent displayed by Indira Gandhi in dealing with the freedom of Bangladesh. She had even surpassed her father in establishing emotional attachment with a neighbour. The underlying intention of Indira Gandhi of openly participating in the liberation of Bangladesh was to unite the old Indian sub-continent. According to Vinoba, Indira Gandhi started the process of uniting the fragments of the sub-continent. The steps taken by her was not only difficult, but was risky.
অর্থাৎ ‘বিনোবা (গান্ধীর সহকর্মী আচার্য বিনোবা বাবে) ও জেপি (জনতা দলের নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণ) উভয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ইন্দিরা গান্ধীর অনুসৃত কূটনৈতিক প্রজ্ঞায় অত্যন্ত অভিভূত হয়েছেন। একটি প্রতিবেশির সঙ্গে আবেগমথিত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় তিনি তার পিতাকেও অতিক্রম করে গিয়েছেন। পুরনো ভারতীয় উপমহাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করা ছিল বাংলাদেশকে মুক্ত করার প্রচেষ্টায় ইন্দিরা গান্ধীর খোলাখুলি অংশগ্রহণের অন্তর্নিহিত অভিপ্রায়। বিনোবার মতে, ইন্দিরা গান্ধী উপমহাদেশের খণ্ডিত অংশগুলো একত্রিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তার গৃহীত পদক্ষেপ শুধু কঠিন নয়, তা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।’
একাত্তরে হঠাৎ করে ৯ মাসে বাংলাদেশ হয়ে যায়নি। আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস বহু দীর্ঘ। বাংলাদেশ হচ্ছে ১৯৪০ সালে গৃহীত লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৪৬ সালে গৃহীত দিলি¬ প্রস্তাবের ফসল। উপমহাদেশের মুসলিম চিন্তানায়কগণ ভেবে দেখলেন যে, লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে মুসলমানদের জন্য একাধিক রাষ্ট্র গঠন করা হলে সেগুলো হবে দুর্বল। বিশাল ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে না। কংগ্রেসও একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দেবে না। এ বাস্তবতার তাগিদে লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্ত বাংলা গঠনের চেষ্টা করেছিলেন। জিন্নাহ তার প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও কংগ্রেস সম্মতি দেয়নি। যুক্ত বাংলা গঠনে ব্যর্থ হয়ে বাঙ্গালি মুসলমানদের নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৪৬ সালের ৯ এপ্রিল দিলি¬তে মুসলিম লীগের আইন পরিষদ সদস্যদের অধিবেশনে লাহোর প্রস্তাবের সংশোধনী উত্থাপন করেন। তার সংশোধনীতে ভারতের পূর্বাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অঞ্চলগুলোকে নিয়ে ‘ওয়ান ন্যাশন ওয়ান স্টেট’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়। তার সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী পূর্বাঞ্চলের পূর্ব বাংলা এবং পশ্চিমাঞ্চলের সিন্ধু, বেলুচিস্তান, পাঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ নিয়ে পাকিস্তান গঠন করা হয়। এ প্রস্তাবের প্রতি জনসমর্থন রয়েছে কিনা সে প্রশ্নে ১৯৪৬ সালে গণপরিষদ নির্বাচন হয়। নির্বাচনে পূর্ব বাংলায় পাকিস্তান প্রস্তাবের পক্ষে ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পড়ে। আমরা গণভোটে পাকিস্তান পেয়েছিলাম। আমাদের ওপর কেউ পাকিস্তান চাপিয়ে দেয়নি। জিন্নাহ বরাবর চাইতেন বাংলা আলাদা থাকুক। কিন্তু আমরা আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে আলাদা রাষ্ট্র গঠনে রাজি হইনি। মানচিত্র সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে আমাদের পূর্বপুরুষদের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা অনুধাবন করা সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমার পিতৃতুল্য ব্যক্তিত্ব। আজ তিনি বেঁচে থাকলে আমি লাভবান হতাম। আমি কী বলতে চাই তিনি তা বুঝতে পারতেন। আমি তার অভাব অনুভব করি এবং তার হত্যাকা-কে সমস্ত অন্তর দিয়ে ঘৃণা করি।
শেষ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কার্যক্রমেও প্রমাণ পাওয়া যায় যে, তিনি পাকিস্তান ভাঙ্গতে চাননি। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তার ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানিদের বেশ কয়েকবার ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। উদাত্তকণ্ঠে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, ‘তোমরা আমাদের ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাক। কেউ তোমাদের কিছু বলবে না।’ আরেক জায়গায় তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘এখনো ভাই ভাই হিসেবে মিলেমিশে বসবাস করার সুযোগ আছে।’ ‘জয় বাংলা’ বলার পাশাপাশি তিনি ‘জয় পাকিস্তান’ উচ্চারণ করে রেসকোর্স ময়দানে তার ঐতিহাসিক ভাষণ শেষ করেছিলেন। তার ভাষণের টেপ থেকে ‘জয় পাকিস্তান’ শব্দটি মুছে ফেলা হলেও ইতিহাসকে মুছে ফেলা যাবে না। অন্তরে পাকিস্তানের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা না থাকলে তিনি ‘জয় পাকিস্তান’ উচ্চারণ করতেন না।
ইনকিলাবের প্রবীণ সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ভাষা সৈনিক অধ্যাপক আবদুল গফুর আমার সঙ্গে একান্তভাবে কথা বলতেন। তার বাড়ি রাজবাড়ি। তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সমসাময়িক এবং রাজনৈতিক সহকর্মী। একই সঙ্গে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার শে¬াগান দিতেন, মিছিলে যেতেন। ১৯৭১ সালের শুরুতে কোনো সময় তিনি বুঝতে পারেন যে, পাকিস্তান ভেঙ্গে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি তার ক্ষোভ জন্ম নেয়। একদিন শীতের সকালে স্কুটার নিয়ে ধানমন্ডিতে তার বাসায় যান। ভেতরে খবর পাঠিয়ে তিনি ড্রয়িং রুমে বঙ্গবন্ধুর শৈশবের ছবি দেখছিলেন। হঠাৎ বঙ্গবন্ধু কখন এসে উপস্থিত হয়ে যান টের পাননি। বঙ্গবন্ধু তাকে পেছন থেকে টোকা দিয়ে বললেন, ছেলে ছোকরার ছবি দেখছেন কেন। অধ্যাপক আবদুল গফুর হকচকিয়ে যান। দুজন মুখোমুখি বসেন। আলাপে আলাপে অধ্যাপক আবদুল গফুর আসল কথায় আসেন। জানতে চাইলেন, তিনি কি সত্যি সত্যি পাকিস্তান ভেঙ্গে দিতে চান? তার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুর চোখ ছলছল করে ওঠে। তিনি তার চোখে চোখ রেখে বললেন, ‘আপনি কি বিশ্বাস করেন?’ অধ্যাপক আবদুল গফুর নাসূচক জবাব দেন।
অধ্যাপক আবদুল গফুরের কাছ থেকে আমি কয়েকবার এ ঘটনা শুনেছি। তিনি ২০২০ সালেও জীবিত। তিনি আমাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, আমরা রক্তপাত ছাড়া স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতাম। তিনি বহুবার আমাকে এ কথা বলেছেন। আমি তার কথার সঙ্গে একমত। বঙ্গবন্ধু ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনের একজন বলিষ্ঠ কর্মী। কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে পড়াশোনা করতেন। প্রতিদিন বিকেলে কলকাতায় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ অফিসে যেতেন। আজাদ পত্রিকা পড়তেন। ১৯৪৩ সালে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগে যোগদান করেন এবং ১৯৪৯ সালে ঢাকায় মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন করেন। তার জীবনের এসব ঘটনা সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, তিনি বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের নির্মাতা হলেও মুসলিম জাতীয়তাবাদের বিপক্ষে ছিলেন না। তার মতো অনেকেরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল। থাকাটাই স্বাভাবিক। বাঙ্গালি মুসলমানরা ছিল পাকিস্তানের জন্মদাতা। মুসলিম লীগের জন্ম না হলে পাকিস্তান নামে উপমহাদেশে আলাদা কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হতো না। স্যার সলিমুল¬াহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগের জন্ম হয়েছিল ঢাকার শাহবাগে ১৯০৬ সালে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও স্যার আল¬ামা ইকবাল ছিলেন প্রথম জীবনে কংগ্রেসী। মুসলিম লীগের জন্ম না হলে তারা কংগ্রেস ছেড়ে মুসলিম লীগে যোগদানের সুযোগ পেতেন না। পাকিস্তান সৃষ্টিতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে বাঙ্গালিদের অবদান বেশি। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার শে¬াগান ‘লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান’ গ্রহণ করা হয়েছিল বাঙ্গালি মুসলিম কবি ফররুখ আহমদের একটি কবিতা থেকে। বাঙ্গালি মুসলিম রাজনীতিক মাওলানা আকরাম খাঁ সম্পাদিত দৈনিক আজাদ ছিল পাকিস্তান আন্দোলনের মুখপত্র। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকালে বাঙ্গালি মুসলমানরাই পাকিস্তান আন্দোলনের জন্য প্রথম রক্ত দিয়েছিল। ১২ শো মাইল দূরের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়ার আগে যেন এসব ইতিহাস মনে রাখা হয়।
(লেখাটি সাহাদত হোসেন খানর ‘জাতীয় ও বহির্বিশ্ব’ থেকে নেয়া। বইটি প্রকাশ করবে আফসার ব্রাদার্স)।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!