সাতক্ষীরা-৪ : কারবন্দী ধানের শীষ প্রার্থীর স্ত্রী ও মেয়ে আটক

সাতক্ষীরা – ৪ (শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ আংশিক) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের ২০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর কারবন্দী গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী, কন্যা ও দুই নাতি-নাতনিকে (বড় ছেলের শিশু পুত্র ও কন্যার মেয়ে) তুলে নিয়ে গেছে ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সাতক্ষীরা কারা ফটকের সামনে থেকে তাদেরকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

গাজী নজরুল ইসলাম – ছবি: সংগৃহীত

ধানের শীষের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের বড় ছেলে গাজী মঞ্জুরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, তার আম্মা মাকসুদা ইসলাম, তার শিশু পুত্র গাজী শামসুল আরেফিন, তার এক মাত্র বোন শারমিন ফেরদৌসী ও তার মেয়ে স্কুল পড়ুয়া নাইমা সুলতানা দোলাকে সাতক্ষীরা কারাফটকের সামনে থেকে ডিবি পুলিশ একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। কারাগারে থাকা তার পিতা ধানের শীষে প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ শেষে ফিরে আসার সময় দুপুরের সাড়ে ১২ দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গাজী মঞ্জুরুল ইসলামের দাবি তুলে নিয়ে যাওয়ার এক ঘণ্টা পর ভাগ্নির মোবাইল থেকে জানানো হয় তারা সাতক্ষীরা ডিবিতে আছে। পরিবারের কোন সদস্য গেলে ডিবি পুলিশ তাদেরকে ছেড়ে দেবে। পরে বিকেলে তাদের পরিবারের এক সদস্য ডিবিতে গেলেও পুলিশ তাদেরকে ছেড়ে দেয়নি। বিষয়টি তারা জেলা রিটর্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালকে জানান। তিনি জানান, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ধানের শীষের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের বড় ছেলে গাজী মঞ্জুরুল ইসলাম আরো জানান, এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে গাজী নজরুল ইসলামকে তার শ্যামনগর সদরের বাসা থেকে আটক করে শ্যামনগর থানা পুলিশ। এর দু দিন পরে তার স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম স্বামীর মুক্তির দাবি, নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় বাধা দেয়া ও নিবাচনের পরিবেশ তৈরীর জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে তার নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সন্মেলন করেন। সংবাদ সন্মেলনের পর দিন থেকে পুলিশ তাদের বাড়ি ঘিরে রাখে। তিনি বলেন, আমরা বাড়িতেই অবরুব্ধ হয়ে আছি। মঙ্গলবার সকালে আমার মা ও বোন আব্বাকে দেখতে যায়। সেখান থেকে ডিবি পুলিশ তাদেরকে আটক করে বলে আমার ভাগ্নি মোবাইল ফোনে জানায়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আলি আহমেদ হাসেমী জানান, গাজী নজরুলের স্ত্রী ও মেয়ে নির্বাচনী প্রচারের আড়ালে নাশকতার লক্ষ্যে লোকজন সংগঠিত করছিলেন। এ সময় তাদের আটক করা হয়ে। গাজী নজরুল ইসলাম কারাগারে আটক রয়েছেন।

এর আগে সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জেলায় ৮টি থানায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আরো ৭৮ জনকে গ্রেফতার করে।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!