সর্বাধিক জনপ্রিয় দল বিএনপি আজ দেশ-বিদেশে বন্ধুহীন কেন?

মীর জাহান
দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় দল হয়েও কেন বিএনপি আজ দেশ-বিদেশে বন্ধুহীন এবং নিজেদের প্রতি সন্দেহ, অবিশ্বাস থাকার পরেও কেন আওয়ামী লীগের মতো একটি ফ্যাসিবাদী দলকে গত একযুগ ধরে অনৈতিক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে সামরিক বাহিনী? আসুন জবাব খোঁজার চেষ্টা করি।👇👇
দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে নিজের অনুকূলে ধরে রাখার মতো কঠিন কাজটি অত্যন্ত চাতুরতার সাথেই করছেন শেখ হাসিনা। ভারতের ইন্দিরা গান্ধি পারেননি, শেখ মুজিব পারেননি, জিয়াউর রহমান পারেননি, এরশাদও না। বেগম খালেদা জিয়া একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন, কিন্তু মেজর জেনারেল আব্দুল মতিন, মেজর জেনারেল রেজাকুল হায়দার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম কর্তৃক তারেক রহমানের কর্মকাণ্ড নিয়ে বারবার সতর্কতার পরেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়া বা তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার এক পর্যায়ে সেই নিয়ন্ত্রণ ছুটে যায়।
শেখ হাসিনা এদিক থেকে অনেকটা সতর্ক এবং অনেক সাবধান। তিনি রীতিমতো ভারতীয় ‘র’কে ব্যবহার করেছেন বলা যায়। ‘র’ এর এখন সেই ক্ষমতা নেই, হাসিনাকে চাইলেই উৎখাত করবে বা চাইলেই অন্য কাউকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে।
প্রায় একযুগ আগে আমেরিকা-বৃটেনের সহায়তায় মাইনাস টু ঘটলেও ভারতের সহায়তায় হাসিনা ক্ষমতায় বসেন। এর পিছনে মূল নিয়ামক শক্তি ছিল রাশিয়া, (খুবই আড়ালে, একমাত্র প্রফেশনালের চোখে রুশ প্রভাব ধরা পড়ে, আর কারো চোখে না) এবং তখন ভারত সবচেয়ে বেশি প্রকাশ্য সহায়তা করে থাকে। মাইনাস টু ফর্মুলার আগের বছরেই কিন্তু ডক্টর ইউনুস নোবেল পুরষ্কার পান।
তাঁকে মূলত তখনই লাইমলাইটে নিয়ে আসা হয় এই নোবেল পুরষ্কারের মধ্যমেই। ২০০৭ সালে যখন মাইনাস টু ফর্মুলা প্রয়োগ করে দুই নেত্রীকেই জেলবন্দি করা হয়, তখন একেবারে শেষ মূহুর্তে ভারতের কংগ্রেসের হস্তক্ষেপেই শেখ হাসিনা টিকে যান। তাই ডক্টর ইউনুস কার্ড সেখানেই থেমে যায়। বেগম খালেদা জিয়ার কথা কিছুই বলার নেই, বিএনপি মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্ধুহীন হয়ে পড়ে।
তখন থেকেই বাংলাদেশে ভারতীয় ‘র’ প্রায় ওপেনলি কাজ করা শুরু করে, এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের মেরে ফেলার ছক কষে। সেটা বাস্তবায়ন করে ডিজিএফআই, বিডিআর বিদ্রোহের স্টিকার মেরে। নাহয় চাল-ডাল এর জন্যে নিজ দেশের সেরা অফিসারদের প্রাণে মেরে ফেলবে, কোন দেশের প্রশিক্ষিত সেনারা এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সেনাকর্মকর্তাদের প্রতি বিডিআর জওয়ানদের ক্ষোভ ছিল বটে, সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে আসল কাজটি করেছে মূলত ডিজিএফআই যাদের পিছনে ছিল ‘র’।
যাঁরা সেদিন মারা যান, তাঁরা প্রায় সবাই সেনা পরিষদের সদস্য ছিলেন। তাঁরা চেয়েছিলেন ক্যু এর মাধ্যমে হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে। কর্ণেল ফারুক গংদের বাঁচানোর উদ্দ্যেশ্যেই এই ক্যু ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো সেনা পরিষদ। ব্যর্থ হওয়াতে তাঁদেরকেই মেরে ফেলা হয়। নাম দেয়া হয় বিডিআর বিদ্রোহের!
এরপর থেকেই শেখ হাসিনা ক্ষমতায় জেঁকে বসেন। ভারতের ‘র’ সবরকমের সহায়তা দিয়ে যায়। কিন্তু ‘র’ যে আসলেই শেখ হাসিনার বুদ্ধির কাছে হেরে যায়, এটা প্রমাণ হয় গত ডিসেম্বরের ৩০ তারিখের নির্বাচনে। ২০১৪’র নির্বাচনে চীন-রাশিয়ার যেমন সমর্থন ছিল, ভারতেরও ঠিক তেমনই সমর্থন ছিল। ২০১৪’র নির্বাচনে ২০০৯ এর তাইওয়ান ইস্যু অবশ্যই আসবে, তা নাহলে এমনি এমনি হাসিনা চীনের সমর্থন পেতেন না।
২০০৪ সালে বিএনপির জোট সরকার চীনের প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করে তাইওয়ানকে ঢাকায় একটি বানিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক অফিস খোলার অনুমতি প্রদান করে। শুধু তাই নয় তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরূপ অফিস খোলার প্রতিশ্রুতি দেয়। এটা ছিল দ্বিপাক্ষিক কুটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পথে বড় পদক্ষেপ। জানা যায় এর পিছনে তৎকালীন হাওয়া ভবনের বিশেষ প্রভাব কাজ করছিল যার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দিয়েছিল গোয়েন্দারা।
ঢাকায় স্থাপিত তাইওয়ানের অফিসটি বন্ধ করে দেয়ার জন্য চীন সরকারের কাছ থেকে ব্যাপক চাপের মুখেও বিএনপি সরকার নতি স্বীকার করেনি। বিএনপি তাইওয়ানকে অফিসিয়াল রিকগনিশন দিয়ে ফেলেছিল, এবং এটা ছিল চীনের জন্যে অপমানজনক। চীন এটাকে সিরিয়াসলি নেয়। এর ফলে চীনের সাথে বিএনপি সরকারের সম্পর্ক হয়ে পড়ে অত্যন্ত শীতল যা আর মেরামত করা সম্ভব হয়নি।
২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া চীন সফর করেও সেই বরফ গলাতে পারেননি। তাইওয়ানের সাথে মাখামাখি করাকে চীন গুরুতর বিষয় বলে গন্য করে। এই নিষিদ্ধ সম্পর্কের মূল্য বিএনপিকে দিতে হয়েছে ২০০৭ সালে এসে ১/১১ এর মাধ্যমে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহৃত প্রায় ৮০% ভাগ অস্ত্রের যোগানদাতা হচ্ছে চীন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তাইওয়ানের ঢাকাস্থ অফিসটি বন্ধ করে দেয় এবং তাইপেতে বাংলাদেশ মিশন চালু করার সিদ্ধান্ত বাতিল করে। বলা বাহুল্য আওয়ামী সরকার কেন এটা করেছিল। তখন থেকেই চীনের সাথেই ঘনিষ্ট সর্ম্পক তৈরী হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। যার ফলে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে ঝামেলা হবার পর পদ্মাসেতু তৈরিতে চীন এসে যায় দ্রুতই।
বাংলাদেশে চীন বড় ধরণের বিনিয়োগে আগ্রহী হয়, এবং বিএনপির চেয়ে অধিক বিশ্বস্ত হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারে। এরই মাধ্যমে বিগত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামি লীগ সরকার চীনের সমর্থন লাভে পুরোপুরি সফল হয়। যদিও ভারতের ‘র’ এই নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কাজ করে, কিন্তু তারাও রীতিমত হতভম্ব হয়ে যায় এই বিপুল আসনে জয়লাভ দেখে। এই নির্বাচনে চীনা এজেন্ডা নিয়ে সরাসরি কাজ করেছিল সেনাবাহিনী, যার ফলে দেখা যায় সেনাপ্রধান বিবৃতি দিলেন, তার জীবনে এতো ভালো নির্বাচন দেখেননি।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে এই নির্বাচনে চীনেরও হাত ছিল। বরং শেখ হাসিনা ডিজিএফআই এর মাধ্যমে ভারতীয় ‘র’কে টিস্যুর মতই ব্যাবহার করলেন। সাধারণতঃ সরকার গঠনের পর অন্য যেকোন দেশ শুভেচ্ছা জানায়, কিন্তু চীন নির্বাচনের পরেরদিনই শুভেচ্ছা জানায়! অর্থাৎ চীন কোন না কোনভাবে এই নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অবশ্যই জড়িত ছিল।
দক্ষিণ এশিয়ার নাটাই এখন রাশিয়ার হাতে। চীন এই অঞ্চলে শুধুমাত্র রাশিয়ার প্রক্সি হিসেবেই কাজ করছে। ভারত যদিও এখনও আমেরিকার বলয়ে আছে, কিন্তু পুরোপুরি রাশিয়ার বলয় থেকে বের হয়নি, যদি রাশিয়াকে পুরোপুরি ছাড়তে যায় তাহলে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানকেই এই ভারতের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিবে রাশিয়া এবং এই দুই দেশকে সেইভাবে প্রস্তুতও করে দেবে। এই দায়িত্ব চীনের। আওয়ামি লীগ গত দশ বছর ধরে পাকিস্তান বিরোধী বক্তব্য দিলেও পাকিস্তান কোনরকম প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। কারণ, তারাও জানে যে এসব আওয়ামী সরকারের শো-অফ। বাংলাদেশ আর্মির সাথে পাকিস্তান আর্মির সম্পর্ক বরাবরই ভালো। বাংলাদেশ যদি বাস্তবিক পক্ষেই ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকতো, তবে ভারতের নেতারা দুই দিন পরপর বাংলাদেশ দখলের হুমকি দিতো না। এর মাধ্যমে বোঝা গেল, পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালোই রয়েছে।
এই ভালো সম্পর্কের আবার ঐতিহাসিক কারণও আছে। চীন তার বিরুদ্ধ অক্ষের কোন শক্তির কাছেই অস্ত্র বিক্রি করে না। চীনের অস্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার একেবারে প্রথম সারির ক্রেতা। আর বাংলাদেশ আর্মি যে পরিমাণ পাকিস্তানের তৈরী বহনযোগ্য অস্ত্র ব্যাবহার করে, তা প্রকাশ করলে ভারত রীতিমতো ঘাবড়ে যাবে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙ্গার মূল প্ল্যান ভারত বাস্তবায়ন করলেও, পাকিস্তান সরকার চেয়েছিল তার দেশকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করতে। আর এই কারণেই শেখ মুজিবকে তারা বন্দি করে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। এবং তারা শেখ মুজিব এর পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে নেয়। ঠিক এই কারণেই মুজিব পরিবারের কোন সদস্য সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধ বা পাকিস্তানের সশস্ত্র গৃহযুদ্ধে অংশ নেয়নি।
সশস্ত্র গৃহযুদ্ধ বলার কারণ, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আলাদা কোন সামরিক বাহিনী ছিল না, যার মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে। বাংলার সামরিক বাহিনীর অফিসাররা শুধুমাত্র “বিদ্রোহ” ঘোষণা করেই তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেন, আর এইসব যোদ্ধাদের সবরকমের সহায়তা দেয় ভারত।
আমেরিকা এবং রাশিয়ার যে পাল্টা নৌবহরের মহড়া দেখা যায়, তা ছিল মূলত শেষ পর্যায়ের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ বা পাকিস্তানের গৃহযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের কৃতিত্ব ঘরে তোলার চেষ্টা। অর্থাৎ, যদি পশ্চিম পাকিস্তান সেই যুদ্ধে জয়লাভ করত, তাহলে এর পুরো কৃতিত্ব নিয়ে নিত আমেরিকা, আর বাংলাদেশ জিতলে রাশিয়া।
যেহেতু এই দুই দেশের কোন দেশই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই যুদ্ধে কোনভাবেই জড়িত ছিলনা, তাই বাঙ্গালীদের বিজয়ের পুরো কৃতিত্ব ভারত নিয়ে নেয়। পাকিস্তান কোন বাঙ্গালী অফিসারের নিকট আত্মসমর্পন না করে ভারতীয় অফিসারের নিকট আত্নসমর্পন করে, কারণ তা তাদের জন্যে চরম মাত্রার লজ্জাজনক ঘটনা হতো। ভারত শেখ মুজিবকে সবরকমের সহায়তা দেওয়া এবং তা রাশিয়ার সাহায্য করার সুবাদে আওয়ামী লীগের সাথে রাশিয়ার তখন থেকেই ভালো সম্পর্ক তৈরী হয়, যা এই ২০২০ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান। রাশিয়া আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করার সবচেয়ে বড় যে কারণ তা হলো, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে রাশিয়া থেকে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয় করে এবং তাতে দূর্নীতির আশ্রয় নেয়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে মিগ-২৯ দূর্নীতি মামলা করে এবং রাশিয়ার সাথে চুক্তি বাতিল করে দেয় যার ফলে অর্থনৈতিকভাবে বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হয় রাশিয়া। চুক্তি বাতিল করে নতুন কোন চুক্তিও করেনি বিএনপি সরকার, এমনকি বিমান বাহিনীর জন্য অন্য কোন দেশ থেকেও যুদ্ধবিমান কেনা থেকে বিরত থাকে জোট সরকার। যার ফলে, রাশিয়ার পাশাপাশি নিজ দেশের বিমান বাহিনী তথা সামরিক বাহিনীর কাছেও বিএনপি বিরাগভাজন হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রাশিয়ার বিনিয়োগও তাই প্রমাণ করে। এই ২০২০ সালে এসেও শেখ হাসিনা তার বাবার দেখানো বন্ধুরাষ্ট্র রাশিয়াকেই বিশ্বাস করে এসেছেন, যেটা জিয়াউর রহমানের দেখানো চীনের মতো বন্ধুরাষ্ট্র পেয়েও বিএনপি ধরে রাখতে পারেনি। এই ব্যর্থতাই বিএনপির ধ্বংসের সবচেয়ে বড় কারণের একটি।
পাকিস্তান যেমন শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত চেয়েছিল শেখ মুজিবকে ধরে রেখে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগকে নিজেদের বন্ধু হিসেবে রাখতে, শেখ মুজিবও চেয়েছিলেন পাকিস্তান না ভেঙ্গে শুধুমাত্র পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের আচরণ বন্ধুত্বপূর্ণ রাখতে। তা না হলে যুদ্ধের পর ভারতের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শেখ মুজিব পাকিস্তান সফরে যেতেন না।
পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হয়ে গেলেও আওয়ামী লীগের সাথে পশ্চিম পাকিস্তানের যে ভালো বোঝাপড়া, তা মোটেও কমেনি, বরং তা বরাবরই ভালো ছিল। শুধুমাত্র কৌশলগত কারণে শেখ হাসিনা তা গত দশ বছরে প্রকাশ করেননি। রাজনীতিতে আজকের বন্ধু যেমন কালকের শত্রু, তেমনি রাশিয়ার বন্ধু এখন আমেরিকার বন্ধু। রাশিয়া এখন পাকিস্তানকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে অনেক তৎপরতা শুরু করেছে। মাঝে কিন্তু আওয়ামি লীগ এবং পাকিস্তানের বোঝাপড়া ঠিকই আছে। এখন তা প্রকাশ করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আওয়ামী লীগ নিঃসন্দেহে ভারতপন্থী দল, কিন্তু এই ভারতের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই গত একযুগ ধরে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে এই ভারতপন্থী দলটিই। সিলেট, বরিশাল এবং কক্সবাজারের রামুতে নতুন তিনটি পদাতিক ডিভিশন হয়েছে, নৌবাহিনীর জন্য এসেছে সাবমেরিন। বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য এসেছে আধুনিক যুদ্ধবিমান। পক্ষান্তরে, বিএনপি সরকার সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়ন বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
উপরের কারণগুলো ছাড়াও বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন অফিসারদের সাথে তারেক রহমানের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে যা সেনাবাহিনী ভালোভাবে নেয়নি। শুধু তাই নয়, সদ্য প্রয়াত সাবেক বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অবঃ) আনোয়ারুল কবীর তালুকদারকে হাওয়া ভবনে ডেকে মন্ত্রণালয়ের ফাইলসহ দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন তারেক রহমান। যার ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাই, একজন সদ্যসাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির ছেলেকে রিমান্ডের নামে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছিল ১/১১’র কারিগররা। হাসিনা সরকারকে পুলিশ টিকিয়ে রাখেনি, টিকিয়ে রেখেছে সেনাবাহিনী। আপনি যতোবড় হোমরাচোমরা হননা কেন, সেনাবাহিনীকে দূর্বল ভাবার কোন কারণ নেই।
লেখক : মীর জাহান, সাবেক সেনা কর্মকর্তার,এফবি টাইমলাইন থেকে!

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!