‘কওমি জননী’ শেখ হাসিনাকে ফের ক্ষমতায় দেখতে চান কওমিপন্থীরা

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফের ক্ষমতায় দেখতে চান কওমি আলেমরা। শেখ হাসিনা পুনরায় সরকারে আসলে ইসলামের জন্য কাজ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উন্নয়নেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন কওমি আলেমরা।

রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি সনদের স্বীকৃতির জন্য শোকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া সংবর্ধনায় কওমি আলেমদের বক্তব্যে এসব কথা উঠে আসে। এ শোকরানা মাহফিলে কওমি সনদের স্বীকৃতি দেওয়ায় শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে এই শোকরানা মাহফিলে সারাদেশের কওমি আলেমরা অংশ নেন।

আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কো চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, ‘জনদরদী নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার মাধ্যমে আমরা এ নেয়ামত (স্বীকৃতি) পেলাম। নজিরবিহীন এ নেয়ামত পেয়েছি। ব্রিটিশ শাসনামলে পাইনি, পাকিস্তান আমলে পাইনি, বাংলাদেশের দীর্ঘদিন হয়নি। এ জাতিকে, বাংলাদেশকে নজিরবিহীন উপহার দিয়েছেন। তাকে (শেখ হাসিনা) দীর্ঘায়ু দান করে আল্লাহ বাংলাদেশের খেদমতের করার তৌফিক দান করুন।’

জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘আজ কওমি মাদ্রাসার শুধু নয়, সারাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে ইসলামের অনেক কাজ হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। এ দেশকে মহাকাশে নিয়ে গেছেন। দেশের এত উন্নয়ন করেছেন যে, পাকিস্তানের জনগণও আমাদের মতো হতে চায়।’

অনুষ্ঠানে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদানের দাবি করেন ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন, ‘আপনি এমন ব্যক্তি যা ওয়াদা করেন, সেই ওয়াদা রক্ষা করেন। আমরা নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করতে পারি সামনেও (শেখ হাসিনা) আপনি (ক্ষমতায়) আসলে ওয়াদা পূরণ করবেন। আপনি আসবেন ইনশাল্লাহ। আপনাকে আমরা আশা করতেই পারি। আল্লাহ আপনাকে কবুল করুন।’ বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রসঙ্গেও স্মৃতিচারণ করেন ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

গওহরডাঙ্গা কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি রুহুল আমীন বলেন, ‘আমরা লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছিলাম যার অবদানে, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। তিনি শুধু আমাদের লাল-সবুজের পতাকাই দেননি, ইসলামের জন্য অবদান রেখেছেন। তিনি ইসলামি ফাউন্ডেশন করেছেন, তাবলিগ জামাতকে টঙ্গীতে ও কাকরাইলে জায়গা দিয়েছেন। তার ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর কলিজার টুকরো শেখ হাসিনা টঙ্গীর যে বাকি কাজ করেছেন, সে কাজ সর্ম্পূণ করবেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা, আপনি স্বীকৃতি দিয়েছেন, সব কিছু উপেক্ষা করে।’

শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেন মুফতি রুহুল আমীন। তিনি বলেন, ‘আমরা আপনার কাছে দাবি রাখবো আপনার পরবর্তী জেনারেশন আমাদের সজীব ওয়াজেদ জয় আংকেলকেও ওলামা কেরামদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করে দিয়ে যাবেন। আজকে তার (জয়) অবদান, দেশে ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমরা কওমি মাদ্রসারা সামান্য তথ্যও ঘরে বসে মেসেজের মাধ্যমে পেয়ে যাই।’

স্বীকৃতির জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে রুহুল আমীন বলেন, ‘আমাদের কিছু দাবি এখনও রয়ে গেছে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করবো, এ সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে সব দাবি পূরণ করবেন।’

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-১ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে আগ্রহী মুফতি রুহুল আমীন। তিনি মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)-এর সন্তান, আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের সদস্য ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) সাবেক মহাসচিব।

বেফাকুল মাদারসিলি আরাবিয়া বাংলাদশের (বেফাক) সহ-সভাপতি ও ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘আমরা শুকরিয়া আদায় করি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় যার অবদান। কওমি আলেমদের প্রতি ভালোবাসার কারণে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতার সঙ্গে কোরআন ও সুন্নাহর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি (শেখ হাসিনা) ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি (শেখ হাসিনা) দেশের ওলামা কেরাম, ছাত্র সমাজ এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।’

শেখ হাসিনা একজন মহিয়সী নারীর ভূমিকায় অবর্তীর্ণ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন মুফতি ফয়জুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ওলামা এবং ছাত্ররা আপনাকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে দোয়ার মধ্যে সব সময় স্মরণ করবেন। আমরা বিশ্বাস করি, মহান রাব্বুল আলামিন তাকে (শেখ হাসিনা) এবং যারা কওমি স্বীকৃতির জন্য সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের দুনিয়ার জীবনে ও আখেরাতে পরির্পূণ সফলতা দান করবেন, উত্তম বিনিময় পাবেন।’

বেফাকের মজলিসে আমেলার সদস্য ও ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী বলেন, ‘এ শোকরানা মাহফিল থেকে বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশে বড় পরিবর্তন এসেছে। অতীতে কখনও সরকারপ্রধানকে এত আনন্দিত হয়ে এদেশের আলেমরা ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী কওমি অঙ্গনের জন্য যে কাজ করেছেন, আমার বিশ্বাস যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন কাজের শুকরিয়া আদায় করবেন ওলামা কেরাম।’

বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে আবুল হাসনাত আমিনী বলেন, ‘আমরা যাদের কাছ থেকে স্বীকৃতি চেয়েছিলাম তারা আমাদের ধোঁকা দিয়েছে। আজকে তাদের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে আপনারা সবাই জানেন।’

আবুল হাসনাত আমিনী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলবো আরও অনেক ছোট ছোট কাজ আছে। পরিষ্কার ভাষায় বলছি, আপনি (শেখ হাসিনা) এ কাজ (স্বীকৃতি) করেছেন অবশ্যই ওলামায় কেরাম আপনাকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় দেখতে চাইবেন। আমরা আশা করবো, আপনি আবারও ক্ষমতায় আসেন এবং এক এক করে আলেমদের সমস্যা সমাধান করবেন।’

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘কওমি মাদ্রাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিসের (তাকমীল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান আইন, ২০১৮’ পাস করা হয়। এর মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রিকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান দেওয়ার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিতে এ শোকরানা মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

উৎসঃ   বাংলা ট্রিবিউন

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!