যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ প্রকৌশলী হিসেবে সম্মাননা পেলেন বড়লেখার পারভেজ ইকবাল

সিলেট প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ প্রকৌশলী হিসেবে ‘আমেরিকান কাউন্সিল অব ইঞ্জিনিয়ারিং’র বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বড়লেখার পারভেজ ইকবাল। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা শহরের বাখহেড গ্র্যান্ড হায়াত হোটেল মিলনায়তনে ‘ইয়াং ইঞ্জিনিয়ার অব দ্য ইয়ার’ পদকে প্রকৌশলী পারভেজ ইকবালকে ভূষিত করা হয়। অনুষ্ঠানে জর্জিয়া পরিবহন প্রশাসনের প্রধান কমিশনার আলোচিত ব্যক্তিত্ব প্রকৌশলী রাসেল ম্যাকমারিকেও সম্মাননা পদক দেওয়া হয়।মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার ৪নং উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ভাটাউছি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোহাম্মদ আরকান আলী ও জুবেদা খাতুনের জ্যেষ্ঠ সন্তান তরুণ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার পারভেজ ইকবাল ২০০২ সালে পরিবারের সাথে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং জর্জিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শেষ করে ২০০৭ সাল থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সহধর্মিণী মায়েশা চৌধুরী ও ছোট ভাই আসিফ ইকবালকে নিয়ে শ্যাম্বলী শহরে বাস করছেন। উল্লেখ্য, পারভেজ ইকবালের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোহাম্মদ আরকান আলী ছাত্র রাজনীতির সংগঠক ছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা গ্রুপের কমান্ডার হিসেবে অসীম সাহস ও বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধে মহান বিজয়ের প্রাক্কালে সিলেট অঞ্চল মুক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি প্রকৌশলী পারভেজ ইকবাল প্রকৌশল পেশার পাশাপাশি আটলান্টার বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। তিনি জর্জিয়ার লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেশাদার প্রকৌশলী হিসেবে বর্তমানে জর্জিয়ার অন্যতম বড় পরিবহন কোম্পানি এইচএনটিবিতে কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে তিনি সিলেটের ব্লু বার্ড হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের পাস করেন। প্রকৌশল সংগঠন আমেরিকান সোসাইটি অব হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স’এর জর্জিয়া শাখার পরিচালক এবং জর্জিয়ার নেস্কট জেনারেশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্ক ফোর্সের সাথেও তিনি যুক্ত রয়েছেন। তিনি মূলধারার রাজনৈতিক দল ডিকাব কাউন্টির ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্যপদ লাভসহ বাংলাদেশি আমেরিকান ডেমোক্র্যাটসের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন। এছাড়া বিগত ১০ বছর ধরে পারভেজ মিডিল স্কুলভিত্তিক জাতীয় প্রকৌশল বিষয়ক প্রতিযোগিতার সঞ্চালক ও বিচারক হিসেবে নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন।এক প্রতিক্রিয়ার পারভেজ ইকবাল সবার আগে মা জুবেদা খাতুনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যিনি সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছেন তিনি আমার মা। তিনি বলেন, অভিবাসী হিসেবে মাতৃভূমিকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে। এদেশে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মকেও শেকড় চিনতে হবে, আর এ জন্য এগিয়ে আসতে হবে ছোট বড় সবাইকে।logo

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!