‘মেধাবীকে বাদ দিয়ে কোটায় নাতি-নাতনি নেয়া মানবাধিকারের লঙ্ঘন’ সৈয়দ আবুল মকসুদ

দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ২৫৮ ধরনের কোটা বিদ্যমান। শতাংশের হিসাবে যেটি ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি একশ জন চাকুরিপ্রার্থী থেকে ৫৬ জন কোটা ও ৪৪ জন মেধা অনুসারে নিয়োগ দেয়া হয়। এই অনুপাত মেধাবীদের প্রতি অবিচার উল্লেখ করে সারাদেশে এখন কোটা সংস্কার আন্দোলন চলমান। এরই মাঝে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা, তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা, কোটার অনুপাত, বর্তমানে চলমান তরুণদের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সামগ্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কী ভাবছেন দেশের শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবদরা।

‘মেধাবীকে বাদ দিয়ে কোটায় নাতি-নাতনি নেয়া মানবাধিকারের লঙ্ঘন’

কোটা প্রসঙ্গে গবেষক, প্রাবন্ধিক, লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদের মুখোমুখি হয়েছিলো টোয়েন্টিফোর লাইভ নিউজপেপার

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘মেধার মূল্যায়ন সর্বাগ্রে। কোটা ব্যবস্থায় মেধার প্রতি অবিচার হয়। কোটা একজন যোগ্য মেধাবীকে বাদ দিয়ে দিচ্ছে, যেটা মানবাধিকার লঙ্ঘন। যোগ্য মেধাবীকে বাদ দিয়ে কারো নাতি, নাতনি বা কোন কোটায় কাউকে নিলে সেটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন হয়। সুতরাং কোটা সংস্কারের যেই আন্দোলন হচ্ছে, এটা (আমলে নিয়ে) অবশ্যই সরকারের বিবেচনা করা দরকার।’

তিনি যোগ করেন, ‘তবে যারা অনগ্রসর গোষ্ঠী যেমন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এদের ছাড়া বর্তমানে অন্য কোন কোটা থাকার কোন রকম যৌক্তিকতা নাই। এদের জন্য সর্বোচ্চ ৫% কোটা থাকতে পারে। বাকি ৯৫% মেধা থেকে নেয়া উচিত।

বর্তমানের ৫৬% কোটার ব্যাপারটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এইভাবে অতিরিক্ত কোটা রাখলে মেধাবী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হবে। এই হতাশা থেকে তারা অনেক রকম অসামাজিক কাজ বা চরমপন্থার দিকে যেতে পারে। সুতরাং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সরকারকে বিবেচনা করতে হবে।’

টোয়েন্টিফোর লাইভ নিউজপেপার

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!