মেজর (অবঃ) আবু সাঈদ মিঞা : এক নক্ষত্রের বিদায়! –ডঃ মুহাম্মাদ সাঈদুল ইসলাম

মেজর (অবঃ) আবু সাঈদ মিঞা (৪৫; মৃত্যুঃ ২০ শে ফেব্রুয়ারী ২০১৭) শুধু একটা নাম নয়, বরং এক প্রেরণা, একটি প্রতিষ্ঠান, এক জ্বাজল্যমান ইতিহাস, এক নক্ষত্র। দীর্ঘ দুই বছর ক্যন্সারে ভুগে অসংখ্য ভক্ত এবং গুণগ্রাহীদের কাঁদিয়ে তিনি ১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০১৭ কুয়ালালামপুরে সানওয়ে হসপিটালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিয়ুন। ১৯শে ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার পেটালিংজায়া ক্যম্পাস মসজিদে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ২০শে ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা সেনাবাহিনী হেডকোয়ার্টার মসজিদে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে বনানী আর্মী গোরস্থানে যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাধিস্থ করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৪৫। তিনি তার স্ত্রী, দুই ছেলে এবং এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। তার মৃত্যুটা ছিলো যেন এক নক্ষত্রের বিদায়।

বর্ণাড্য কেরিয়ারঃ

আবু সাঈদ মিঞার (রহঃ) বাড়ি পাবনা জেলায় হলেও বড় হয়েছেন সাভারে। তার ছিলো এক বর্ণাড্য কেরিয়ার। প্রখর মেধা এবং অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী আবু সাঈদের পেশা শুরু হয় আর্মী অফিসার হিসাবে। খুব দ্রুত তিনি মেজর এবং অফিসারদের ইন্সট্রাকটর হন, কাজ করেন ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চে, জাতিসংঘ মিশনে যান সিয়েরা লিয়নে। আমেরিকা সহ অনেক দেশ পরিভ্রমণের পর উন্মূক্ত বিশ্বে পা রাখার জন্য অনেকের নিষেধ সত্ত্বেও তিনি তার চাকরীতে ইস্তোফা দেন ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে। সিটি ব্যাংকে জেনারাল এন্ড ইনফ্রাসটাকচার সার্ভিসেস এর প্রধান হিসাবে যোগদান করলেও সুদভিত্তিক ব্যাংকে না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৭ সালে এরিকসন কোম্পানীর বাংলাদেশের প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে চাকুরী শুরু করেন। ২০০৮ সালে মালয়েশিয়াস্থ ব্রাঞ্চে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিকিউরিটি ম্যানেজার পদে যোগ দেন, এবং ২০১০ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এরিকসনের রিজিওনাল সিকিউরিটি ডিরেক্টর হিসাবে কর্মরত ছিলেন। আরো প্রোমোশনসহ কোম্পানীর হেডকোয়ার্টার সুইডেনে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি প্রমোশন না নিয়ে শেষাবধি মালয়েশিয়াতেই থেকে যান। প্রফেসনাল কাজে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ইতালী, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইন্ডিয়া, চীন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ সফর করেন। প্রফেশনে তিনি ছিলেন অসম্ভব রকমের দক্ষ এবং সৎ। আর্মী অফিসার থাকাকালে তিনি সবসময় নিজ ব্যাগে একটি প্রিন্টিং করার কার্ট্রিজ রাখতেন। একদিন তাকে জিজ্ঞেস করা হলে জবাব দেনঃ “অফিসে যখন নিজের প্রয়োজনে প্রিন্ট করি, তখন নিজের কার্ট্রিজটা ব্যবহার করি”।

দক্ষ ও সৃজনশীল নেতৃত্ব এবং অনুপম চরিত্রঃ

আবু সাঈদ মিঞা মালয়েশিয়াতে প্রতিষ্ঠা করেন Bangladeshi Muslims in Malaysia (BDMM) নামে এক অরাজনৈতিক সংগঠন, এবং প্রফেসনাল বাংলাদেশী প্রবাসীদেরকে তিনি এক কাতারে শামিল করেন। তার চারিত্রিক মাধুর্য এতটায় আকর্শনীয় ছিলো যে তার সান্নিধ্যে এলে ছোট-বড় যে কেউ তার ভক্তে পরিণত হতো। মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো। মানুষের বিপদে-আপদে তিনি ছুটে যেতেন দুর্বার গতিতে, বিলিয়ে দিতেন সবকিছু। প্রয়োজনে নিজের গাড়ীটা অন্যকে দিয়ে তিনি আসতেন পাবলিক ট্রান্সপোর্টে। বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট তিনি মোকাবেলা করতেন হাসিমুখে এবং অত্যন্ত কনফিডেন্স সহকারে। অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি তার বাচ্চাদেরকে সময় দিতেন, খেলতেন তাদের সাথে, নিজহাতে খাইয়ে দিতেন। বাচ্চাদের কাছে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় বন্ধু। তিনি সবসময় কর্মচঞ্চল থাকতেন এবং কখনোই ক্লান্ত হতেন না। উনার ব্যাপারে একজন লিখেছেনঃ

May Allah accept good deeds of Brother Sayed…and place him in Jannat and give courage and wisdom to overcome the difficulties. May Allah raise his children with the expectation of my beloved brother Abu Sayed whom I closely know since 1992. He was a personality with all good admirable human attributes, kindness, generosity, helpful, considerate, polite, smart, decent, and respectful to all, ABOVE ALL FIRM BELIEF ON HIS FAITH AND PRACTICE. He was the center for knowledge dissemination [through] family get-together among his friends in Malaysia. His companionship is endearing and desirable. He was dependable, trustworthy, dynamic, always in favor of justice. He had unparalleled mental stamina by which he conquered pains of Retroperitoneal liposarcoma. I never observed him gloomy or ungrateful for his cancer or sufferings. He was always smiling. We did not lost brother Abu Sayed, we lost his smile, love, care and affection for ever. He died like a Mohsin, I am envious of his great contribution and good deeds which I missed to do forever! Brother Sayed! Our warm salam, love and affection will remain for you. We fervently hope to meet again in Jannat.

আবু সাঈদ মিঞা (রহঃ) কে নিয়ে আরেক জনের ভাষ্যঃ “হে সাইয়েদুশ শাবাব! আপনার মধ্যে নেতৃত্বের যে বিচক্ষনতা, হৃদয়ের কোমলতা ও সুন্দর ব্যবহার এবং অপর ভাইকে ভালবাসা, অন্যের সাহযোগীতায় সেচ্ছায় এগিয়ে যাওয়ার অনুপম দৃষ্টান্ত দেখেছি তা কোন দিন ভোলা যাবেনা। গত চার বৎসর প্রবাস জীবনে যাকে দায়িত্বশীল এবং একমাত্র অভিবাবক হিসাবে পেয়েছি তিনি হলেন সকলের প্রিয় আবু সাইদ ভাই”। তার কাছের বন্ধু ডঃ রেজা লিখেছেনঃ “মানুষকে যে কিভাবে আপন করা যায়, কিভাবে মানুষের সুখে ও দূখে কাছে আসা যায়, তার পাশে থাকা যায়, অসুস্থ বা কষ্টেপড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে পূনরায় কিভাবে উজ্জ্বিবিত করা যায়, এসব সাঈদ ভাইয়ের সহজাত। আমরা তার কাছ থেকে দেখেছি, শিখেছি ও অনুপ্রাণীত হয়েছি। তেমনি যারাই তার কাছে এসেছেন, তারা দেখেছেন ও উপকৃত হয়েছেন। মানুষ তো মানুষই, মহামানুষ কখনো নয়! কিন্তু কিছু কিছু মানুষ যে অন্যরকম, এত্ত ভালো, এত্ত সুন্দর চরিত্রের হয়, তার এক নজীর জনাব আবু সাঈদ। সাহাবা আজমাইনদের চরিত্র কেমন ছিল? বাস্তবে জানা অসম্ভব, কিন্তু কিছুটা আঁচ করা যায় এমন ক্ষণজন্মা সাঈদের প্রাত্যহিক জীবন দেখলে। তাদের কাছে আসলে যে আনন্দ ও সুখ পাওয়া যায় তা অনন্য”।

তিনি আরো লিখেছেনঃ “জনাব আবু সায়ীদের অন্তর ভিজে যেতো কষ্টে থাকা মানুষের কথা চিন্তা করে। তাদের সাহয্যে এগিয়ে আসতেন, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন- কি কায়িক কি আর্থিক। নিজের জন্য বেছে নিয়েছিলেন সাদাসিধা জীবন যাপন। এরিক্সনের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদে আসীন থেকেও সবার সাথে মিশেছেন, সুখ দূখের সাথী হয়েছেন অবলীলায়। তাদের জানতেও দেননি তিনি কত উচ্চ স্তরের একজন নির্বাহী, পাছে তারা তার সাথে মিশতে সংকোচ বোধ করেন”।

অনন্য নজীর জীবনের শেষ দিনগুলোওঃ

আশ্চর্যের বিষয় ছিলো তিনি কখনোই দুঃখভারাক্রান্ত হতেন না, ভেঙ্গে পড়ার মানুষ তিনি ছিলেন না, কিংবা অভিযোগ দায়ের করতেন না। ক্যান্সারে আক্রান্ত নিশ্চিত মৃত্যুপথযাত্রী সাঈদ ভাই’র মুখ থেকে মুচকি হাসির রেশ কখনো কমেনি। এ নিয়ে কেউ তার মুখ থেকে অভিযোগ শোনেননি। আল্লাহর ফায়সালার প্রতি তার ছিলো অগাধ বিশ্বাস ও সন্তুষ্টি। তার ছিলো এক অসাধারণ আত্মমর্যাদাবোধ। মানুষের কাছে কিছু চাওয়া তো দূরে থাক, কিভাবে মানুষের উপকারে নিজেকে এবং নিজের সম্পদকে বিলিয়ে দেয়া যায়, সেই চিন্তাই করতেন তিনি সবসময়। তার চিকিৎসার খরচ বাংলাদেশী কমিউনিটি কিছুটা নিতে চাইলে তিনি সরাসরি না করেন দেন। তিনি দৃঢ় বিশ্বাস করতেন “যিনি মানুষের কাছে হাত পাততে চান না, আল্লাহ কখনোই তাকে হাত পাতান না”। মৃত্যুর দুইদিন আগে হাসপাতালের বিশাল বিল বহনে অক্ষম সাঈদ ভাই তার মাকে অনুরোধ করেন আল্লাহর কাছে দোয়া করার জন্য যাতে একটা ব্যবস্থা হয়ে যায়। মা দোয়া করলেন। ঠিক তার পরের দিনই এরিকসনের এক প্রতিনিধি হাসপাতালে এসে জানালেন যে কোম্পানী সকল বিল পরিশোধ করবে। সাঈদ ভাই তার মাকে ডেকে বললেনঃ “মা, বলেছিলাম না, আল্লাহর কাছে চাইলেই তিনি ব্যবস্থা করে দিবেন”। তার জীবনের শেষ দিনগুলো সম্পর্কে ডঃ রেজা লিখেছেনঃ

জীবনের শেষ দিনগুলিতেও তিনি ছিলেন এক অনন্য নজীর। কখনো তাকে ভেঙ্গে পড়তে দেখিনি। ক্যান্সারের ভয়াবহতা তাকে এক বিন্দু বিচলিত করতে পারেনি। তার বন্ধু, পরিজনরা কাতর হলে বরঞ্চ তার কাছে তার চোখে শান্তনা খুজে পেতেন। ডায়াগনোজ হবার পর দীর্ঘ প্রায় দুবছর তিনি প্রতিনিয়ত ক্যান্সারকে পরাজিত করে দিয়েছিলেন। সবাই তার মুখে মিষ্টি হাসি আর কন্ঠে দরাজ ভালোবাসা আর আশা জাগানিয়া কথা শুনে আলোড়িত হয়েছেন। অবলীলায় বিভিন্ন দাওয়ার কাজে শামিল হয়েছেন কেমোথেরাপী নেয়ার আগে বা পরের দিনও। কখনো মনে হয়নি তিনি এমন এক জীবন বিদ্ধংশি অসুস্থতায় ভুগছেন, কষ্ট পাচ্ছেন। নিজের কষ্টকে লুকিয়ে রেখে সদাহাস্য থেকেছেন, পাশে থেকে উৎসাহ যুগিয়েছেন সবাইকে। এমন নজীর সত্যি অনন্য। যখন ডাক্তাররা জানিয়ে দিলেন যে আর কোন চিকিৎসার পরিকল্পনা তারা করতে পারছেন না, সেই সময়েও তাকে বিচলিত হতে দেখা যায় নি। তার পাশে যারা ছিলেন তাদের বরঞ্চ তিনি সাহস জাগিয়েছেন, মহান আল্লাহর উপর ভরসা করতে বলেছেন। একবারের জন্য ও একথা শোনা যায়নি “আমার শরীর টা খারাপ”। সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, বলেতেন- আমার জন্য দোয়া চাই যেন মহান আল্লাহ নেক হায়াত বাড়িয়ে দেন আর দ্বীনের কাজে নিজেকে আরো নিয়োজিত করতে পারি। তার জন্য কেউ কষ্ট করুক তাও আবার চাননি একেবারে শেষ দিন পর্যন্ত। শেষ দিনগুলোতে যারা তার পাশে ছিলেন সবাইকে কষ্ট না করে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে বলতেন। বেশ ক্রিটিক্যাল অবস্থাতেও কেউ হাসপাতালে তার কাছে থাকতে চাইলে তাকে সহাস্যে বলতেন “আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভালো আছি, আরো ভালো হয়ে যাব ইনশাআল্লাহ, আমার জন্য দোয়া করবেন- এখানে কষ্ট করার দরকার নেই এখানেতো ডাক্তাররা আছেন”।

ডঃ রেজা আরো লিখেছেনঃ
শেষ রাতের প্রতিটি ক্ষণ বেশ মনে পড়ছে। এ রাতে তার বেশ শ্বাসকষ্ট ছিল, অক্সিজেন মাস্ক পরা ছিলেন তিনি। মধ্যরাতে যারা কাছে ছিলেন তাদের বললেন, এসবের (চিকিৎসা) আর দরকার নেই। আমার কাছে খবর এসেছে আজ ফজরের পর আমাকে চলে যেতে হবে, ডাক্তারের করনীয় কিছু নেই। সুস্পষ্ট ভাবে কালেমা পড়েছেন, ইস্তেগফার পড়েছেন। তার শাহাদাত আংগুলটি সব সময় খাড়া ছিল, যেন তিনি এক আল্লাহর একত্বকে মনে-প্রাণে ও কাজে দেখিয়ে গেছেন। এই শহাদাত আংগুলটি তার শেষ নিঃশ্বাস নেয়া পর্যন্ত স্বাক্ষী দিয়েছিল সেই এক আল্লাহর একত্ববাদকে।

রাত সোয়া পাঁচটায় আমি হাজির হই তার পাশে। আমাকে দেখে বললেনঃ আসেন রেজা ভাই, দুমিনিট আপনার সাথে কথা আছে। আমরা সবাই উদ্গ্রীব আর চিন্তিত তার ঘুম দরকার, সারা রাত ঘুমান নি! আমি বললাম, ‘আমি আছি সাঈদ ভাই, এখন আপনি একটু ঘুমান, পরে আপনার কথা শুনবো’। কিন্তু উনি কথা শুরু করে দিলেন- দেখেন ভাই, আমাকে চলে যেতে হবে! এসবে তো কোন কাজ হবে না! আমার ডাক এসে গেছে!!’ এবার আমরা তাকে বুঝাতে চেষ্টা করলাম, ইনশাআল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে আপনি একটু ঘুমান। উনি বললেন, ‘আর এক মিনিট কথা বলি রেজা ভাই!’ কিন্তু আমরা ভাবলাম তার এখন বিশ্রামের খুব প্রয়োজন। আমি তার কক্ষ থেকে বের হয়ে এলাম এই ভেবে এতে তিনি একটু শান্ত হবেন। কে জানতো তার এই শান্ত হওয়া যে একেবারেই শান্ত হয়ে যাওয়া, অন্যরকম এক শান্তির ছায়ায় তার চলে যাওয়া! কে জানতো! জানলে তো সেই মহামূল্যবান শেষ এক মিনিটের কথা শুনতে চাইতাম সবাই!! আমরা না জানলেও প্রিয় আবু সাঈদ ভাই জানতেন, তিনি তখন অন্যরকম শান্তির ছায়ায় ছিলেন। রহমতের ফেরেস্তাদের রাজ্যে তিনি ছিলেন। আমরা মূক ও বধিররা তা বুঝতে পারিনি। তিনি চলে গেলেন আরশে আজিমে, মহান আল্লাহর রহমতের ইল্লীনে!! জেহাদের ময়দানে শহীদ ছাড়াও যারা শহীদি মর্যাদা পাবেন, পেটের পীড়ায় আক্রান্তরা তাদের মধ্যে সামীল হবে। প্রিয় আবু সাঈদ ভাই- একপ্রকার পেটের পীড়াতেই মৃত্যুবরন করেছেন। মহান আল্লাহ প্রিয় আবু সাঈদ ভাইকে শুহাদা আজমাঈনদের মাঝে কবুল করুন। আমীন।

একজন আবু সায়ীদ চলে গেলেন, আর এই কথাটি স্পষ্ট করে জানিয়ে গেলেন যে একদিন আমাদের সবাইকে একে একে চলে যেতে হবে এই পৃথিবী ছেড়ে! যে মানুষটি চলে গেলেন তার চলে যাওয়া কি যে এক চলে যাওয়া যারা তাকে কাছ থেকে দেখেছেন, তার সাথে চলেছেন বা মিশেছেন তারা যেভাবে উপলব্ধি করছেন তা উপস্থাপন করা দূরূহ। এক কথায় এভাবে বলা যায়- এক ক্ষণজন্মা ইসলামের সেবক ও কান্ডারি চলে গেলেন এই পৃথিবী ছেড়ে যার উপস্থিতি অনেক বেশি বেশি দরকার ছিল তার পরিজন ও সমাজের জন্য। মৃত্যু মানুষের জন্য এক অতি বড় কঠিন বাস্তবতা! একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে যেভাবে একজন নিরেট ভালো মানুষ জনাব আবু সাঈদ চলে গেলেন!!

[ছবিঃ মরহুম আবু সাঈদ (বামে), ডঃ আব্দুল বারী (মাঝে) এবং লেখক (ডানে), পুত্রাজায়া মসজিদের পাশে]

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!