মৃত্যুর এই উপত্যকা:মুহম্মদ জাফর ইকবাল

আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ। মাঝে মাঝেই আমি খবরের কাগজের কোনো কোনো খবর পড়ার সাহস পাই না। হেড লাইনটা দেখে চোখ সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। যেন চোখ সরিয়ে নিলেই খবরটা অদৃশ্য হয়ে যাবে। খবর অদৃশ্য হয় না, থেকে যায়। তখন সাহস সঞ্চয় করে একটু একটু করে খবরটা পড়তে হয়। এয়ারপোর্ট রোডে বাস দিয়ে ধাক্কা দিয়ে রাজীব আর মীম নামে দুটি কিশোর-কিশোরীকে মেরে ফেলার খবরটি সে রকম একটি খবর। খবরের কাগজে তাদের ছবি দেখে বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠেছে। আমার অনেক বয়স হয়েছে কিন্তু কেন জানি সব সময় মনে হয় আমার বয়সটা এই বয়সী ছেলেমেয়েদের বয়সের সঙ্গে আটকে আছে। এদের দেখলে মনে হয় আমি এদের বয়সী, এরা কীভাবে কী কল্পনা করে আমি বুঝি অনুমান করতে পারি। তাই এই দুটি কিশোর-কিশোরীর ছবিটা দেখার পর থেকে খুব মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হলে নানাভাবে মৃতুকে মেনে নিতে হয়, আমরা মেনে নিই। কিন্তু খুনকে মেনে নিতে হয় কে বলেছে? সবাই কী জানে আমাদের দেশে যে ঘটনাগুলোকে ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ বলে সেগুলোর বেশিরভাগ দুর্ঘটনা নয়- সেগুলো পরিষ্কার খুন? ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে একজনকে মেরে ফেলা আর দুটি বাস একটি আরেকটির সঙ্গে কম্পিটিশন করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কতগুলো কিশোর-কিশোরীর ওপর সেই বাসটি তুলে দেয়ার মাঝে যে কোনো পার্থক্য নেই সেটি কী সবাই জানে? সবাইকে জানতে হবে। দুর্ঘটনার ওপর কারো হাত নেই, আমরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দুর্ঘটনাকে মেনে নিই, কিন্তু বাংলাদেশের ‘সড়ক দুর্ঘটনা’গুলো তো দুর্ঘটনা নয়, সেগুলো কেন আমরা দিনের পর দিন মেনে নিই?

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!