মুসলিম বিশ্বের সাম্প্রতিক নির্বাচন পর্যালোচনা : শাহ্ আব্দুল হান্নান

মুসলিম বিশ্বে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তুরস্কের ২৪ জুনে। এ নির্বাচনে জনাব রিসেপ তাইয়েপ এর্দোগান ৫৩% ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তার দল একে পার্টি তাদের সহযোগীদের সঙ্গে মিলে পার্লামেন্টে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। একে পার্টি একটি ইসলামি দল এবং তারা সাবধানে তুরস্ককে ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

এর্দোগান একজন জ্ঞানী যোগ্য, সাহসী ব্যক্তি। তিনি ইতিমধ্যেই তার স্থান প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছেন। তুরস্কের অর্থনীতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। আশা করা যায় যে তিনি ভবিষ্যতে মুসলিম বিশ্বের একনম্বর নেতা হবেন এবং মুসলিম বিশ্বের আশা-আখাঙ্কা পূরণে বড় ভূমিকা পালন করবেন।

তুরস্কের পূর্বে মালয়েশিয়ায় নির্বাচন হয়েছে। সেখানেও ইসলাম পন্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। মাহাথির মোহাম্মদ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তবে ভবিষ্যতের মূল নেতা হচ্ছেন আনোয়ার ইব্রাহিম, তার স্ত্রী হিজাব পালনকারী তুন আজিজাহ ও তার কন্যা নূরুল ইজ্জাহ তুন আজিজাহ এখন উপ প্রধানমন্ত্রী। মালয়েশিয়ার নির্বাচনের উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে মূল ইসলামি দলের পার্টি প্রধান ও ২নং পদে রয়েছেন দুজন ইসলাম পন্থী নারী। যাদের নাম পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ইসলামি আন্দোলনে নারীদের অগ্রগতির এটি প্রমাণ।

২/৩ বছর পূর্বে ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচনে ইসলামপন্থী পার্টিগুলি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। প্রেসিডেন্টও ইসলামের পক্ষে। ইন্দোনেশিয়ায় ইসলাম ব্যাপকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে ৫০টিরও বেশী আধুনিক ধরনের ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার দুই যুগ পূর্বে সেকুলারিজম চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

আবর বিশ্বের যেসব জায়গায় রাজারা শাসন করেছেন বা একনায়করা শাসন করেছেন সেখানে ইসলাম পন্থীরা সামনে আসতে পারছে না, তবে তারাই জনগণের সমর্থিত।

মিসরে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ইসলামী দল ক্ষমতায় এসেছিল কিন্তু পরবর্তীকালে বৈদিশিক শক্তির সহায়তায় ও উষ্কানিতে সেখানকার সামরিক বাহিনী মিশরের নেতৃত্বাধীন ইসলামি সরকারকে উৎখাত করে। যেকোনো স্বাধীন নির্বাচনে সেখানে ইসলামপন্থীরা আবার ক্ষমতায় আসবে।

তিউনিশিয়া, মরক্কো ও মালয়েশিয়ায় নির্বাচনে ইসলাম পন্থীরা বিজয় লাভ করে এবং একা বা কোয়ালিশনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আছে।

নাইজেরিয়ায় নির্বাচনে ইসলামি শক্তিই ক্ষমতায় আছে। পাকিস্তানে ২৫ শে জুলাই নির্বাচন হবে। সেখানে কেয়ারটেকার সরকার, দেশে ও প্রদেশে, গঠিত হয়েছে। নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে প্রধান ৪টি দল প্রতিদ্বন্দিতা করছে; মুসলিম লীগ, পিপলস পার্টি, পাকিস্তান তাহরিকে ইনসাফ ও মুত্তাহিদা মজলিশ আমল। এরা কেউই ইসলাম বিরোধী নয়। শেষের দুটি ইসলামপন্থী। তাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাহরীকে ইনসাফের সভাপতি জনাব ইমরান খান এবং মুত্তাহিদা মজলিশের প্রধান শরীক জামায়াতে ইসলামি পাকিস্তান।

ইরান ও আফগানিস্তানে ইসলামি দলই ক্ষমতায় আছে। আশা করা যায় যে তালেবান ও সরকারের মধ্যে সমঝোতা হয়ে যাবে। সউদী আরবে সত্যিকার অর্থে নির্বাচন নাই। তবে এখন কিছু কিছু নির্বাচন হচ্ছে। নারীদের ভূমিকাও রয়েছে। নারীদের ভূমিকা বাড়াতে এরাও ইসলামের পক্ষেই কাজ করবে। সউদী নারীদের ৯৫ ভাগ পাশ্চাত্য বেহায়াপনা পছন্দ করে না।

বাংলাদেশে নির্বাচন হওয়ার কথা ২০১৯ সনে। নির্বাচন নিয়ে এখন জটিলতা চলছে। বাংলাদেশে কেয়ার টেকার সরকার সংবিধান সংশোধন করে চালু করা হয়েছিল। পরে সুপ্রীম কোর্টের রায়ে (৩ বনাম ৩) এটা বাতিল করতে বলা হয়েছিল। সরকার এর বিরুদ্ধে রিভিশনে যেতে পারতেন, কিন্তু তখনকার সরকার তা করেনি। সংবিধান সংশোধন করে কেয়ারটেকার বাতিল করা হয়। ফলে ২০১৪ সনের নির্বাচন বলতে গেলে হয়নি। এর পর যে সব নির্বাচন হয়েছে, প্রায় সবখানেই কারচুপি হয়েছে। এখন প্রায় সবার দাবী কোনো না কোনো ধরনের কেয়ারটেকার বা নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা করা । তা হলেই বাংলাদেশে সঠিক নির্বাচন ও গণতন্ত্র আসবে।

উপসংহারে বলতে হয় যে, সত্যিকার জনমত সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ইসলামের পক্ষে। জনগণ সুযোগ পেলে সার্বিকভাবে মুসলিম বিশ্বের কল্যাণ হবে এবং ইসলামের কল্যাণময় ব্যবস্থা ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠা হবে।

লেখক সাবেক সচিব,
বাংলাদেশ সরকার

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!