মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকার সম্মেলন

news-image

রশীদ আহমদ নিউইয়র্ক থেকে: মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা) আয়োজিত বাংলাদেশী আমেরিকান ফ্যামিলির সর্ববৃহৎ ইসলামিক সম্মেলন হিসেবে অনুষ্ঠিতব্য ‘মুনা কনভেনশন ২০১৮’ উপলক্ষে এক কোলাহলপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৬ জুন মঙ্গলবার রাত নয়টায় বাংলাদেশী অধুষ্যিত জ্যাকসন হাইটসের পালকি সেন্টারে মুনা কনভেনশন-২০১৮ এর কনভেনার ও মুনার ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট শিক্ষাবিদ আবু আহমদ নুরুজ্জামান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

সাথে সাথে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও প্রদান করেন। সংগঠনের নিউইয়র্ক সাউথ জোনের কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমান এর সঞ্চালনায় সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতে কুরআনে হাকিম থেকে তেলাওয়াত করেন মুহাম্মদ বাহার উদ্দীন। সমাপনী বক্তব্য দেন মুনার এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর হারুনুর রশীদ।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুনা নিউইয়র্ক নর্থ জোনের প্রেসিডেন্ট হাফেজ আবদুল্লাহ আল আরিফ।সাংবাদিক সম্মেলনে নিউইয়র্কের প্রায় অর্ধশতাধিক ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলন শেষে সংক্ষিপ্ত মোনাজাত পরিচালনা করেন মুনার ন্যাশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মুনা কনভেনশন ২০১৮ এর চেয়ারম্যান আবু আহমদ নূরুজ্জামান।

জনস্বার্থ ও প্রচারণার স্বার্থে সাংবাদিক সম্মেলনে পঠিত লিখিত বক্তব্যটি নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হল।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। বিসমিল্লাাহির রাহমনির রহীম।

সুপ্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ! আমরা আপনাদের মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা) কর্তৃক আয়োজিত আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাগত জানাচ্ছি। সু-স্বাগতম! আপনারা নিশ্চয়ই অবগত হয়েছেন যে মুনা এ বছরের ৭-৮ জুলাই ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত পেনসিলভেনিয়া কনভেনশন সেন্টারে বিশাল এক সম্মেলন/কনভেনশন করতে যাচ্ছে। যে সম্মেলন বাংলা ভাষাভাষিদের সর্ববৃহৎ ইসলামিক মিলনমেলা। এই সম্মেলন মুসলিম জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সোমনাথ মন্দির অভিযান নিয়ে অপপ্রচার এবং জবাব

আমরা মনে করি, আপনারা এও অবগত আছেন, মুনা একটি আদর্শিক দাওয়াতী ও সামাজিক সংগঠন। মানুষের ব্যক্তিগত, নৈতিক ও সামাজিক মান উন্নয়নের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা চালানোর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত হয় মুনা।

এই সংগঠনটি ১৯৯০ সালে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে কর্পোরেশন-ভুক্ত করা হয়। মুনা এদেশে মুসলিমদের প্রাত্যহিক সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ড এবং জাতীয় নাগরিক জীবনে ভূমিকা পালনের নিমিত্তে সংগঠিত করতে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে করে এই সমস্ত ব্যক্তিবর্গ আল্লাহ এবং তার রাসূল হযরত মোহাম্মদ সা.এর অনুসরণ ও কমিউনিটির সেবা করে যেতে পারেন সুচারুভাবেl

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ! একটি আদর্শিক সংগঠন হিসাবে মুনা মুসলিমদের আহবান করে তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইসলাম পালনের এবং অমুসলিমদের কাছে ইসলামের সঠিক শিক্ষা তুলে ধরতে।

কওমি মাদরাসা নিয়ে একমুঠো ভাবনা

একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন হিসাবে নিজস্ব স্বতন্ত্র সংবিধান এবং কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির আলোকেই এ সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছে জন্মলগ্ন থেকে। মুনা প্রধানত সেসব কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে যাতে করে একজন ব্যক্তিকে সংশোধনের মাধ্যমে সর্বাঙ্গীন ও সামাজিকভাবে কল্যাণকর ব্যক্তিতে পরিণত করা যায়।

এ লক্ষ্যে মুনা ব্যক্তিদেরকে আধ্যাত্মিক, নৈতিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। মুনা চায় এমন সব প্রশিক্ষিত মানব সম্পদ,যারা তাদের প্রতিপালক আল্লাহ তা’আলার সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলে এবং একই সময়ে সমাজের সর্বক্ষেত্রে উৎপাদনমুখী ভূমিকা পালন করে।

ইসলামিক শিক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে; যাতে শিক্ষা দান করা হয় ইসলামের বিভিন্ন দিক ও বিভাগ এবং মানুষের দৈনন্দিন সাধারণ সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনসম্পর্কিত বিষয়াবলী। মানুষের ব্যক্তিগত মানোন্নয়ন ছাড়াও মুনা স্থানীয় ও জাতীয় জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা সামাজিক ও নাগরিক অধিকার সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে থাকে।

নিজেদের সাধ্য ও সামর্থানুযায়ী মুনা সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদেরকে বিভিন্ন ধরনের দাতব্য ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত ও সংযুক্ত করছে; যাতে করে তারা যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্নস্থানে দুঃস্থ মানবতার পাশে দাঁড়াতে পারে।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ! মুনা নিজের জনশক্তি ও অন্যান্য মুসলিমদের নিয়ে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিতে চায় যাতে করে তারা অন্যধর্মাবলম্বী ও ভিন্ন ভাষাভাষী, বর্ণ ও গোত্রের জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবেশীদের সাথে পারস্পরিক সংলাপে নিয়োজিত হতে পারে,যার মাধ্যমে অন্ত: ও আন্ত:সাম্প্রদায়িক বোঝাপড়া, সামাজিক প্রসার ও উন্নয়ন ঘটানো যায়। মুনা মনে করে, এ প্রক্রিয়ায় এ সমাজে সৌহার্দ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা! মুনা আমেরিকায় জাতীয়ভিত্তিক সংগঠন হলেও মুনার প্রাথমিক ফোকাস হচ্ছে বাংলা ভাষাভাষী তথা বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটি। মুনা প্রধানত: বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝেই এর কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে। এদের দুনিয়াবী ও পরকালীন কল্যাণ নিশ্চিত করতেই মুনা তার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই দেশে বাংলাভাষাভাষী মুসলিমরা ও অন্যান্যরা কিভাবে এখানকার মূলধারার জীবনে অংশ গ্রহণ করে নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করবে এবং একই সাথে নিজের আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের সংরক্ষণ করবে সে বিষয়ে মুনা সচেতন।

আর তাই মুনা চায় বাংলাদেশী-আমেরিকানরা মুনার কর্মতৎপরতায় বেশি বেশি করে সক্রিয় অংশগ্রহণ করুক। সাথে সাথে বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে গড্ডলিকা প্রবাহ থেকে বাঁচাতে মুনা চায় প্রতিটি বাংলা ভাষাভাষী অভিভাবক তাঁদের সন্তানদেরকে ইসলামিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করুক।

ইসলামে শ্বাশত বিধানের সাথে সম্পৃক হউক।ইসলামে শ্বাশত বিধানের সাথে সম্পৃক হউক। এক্ষেত্রে মুনার ইয়ুথ সংগঠন ‘মুনা ইয়ুথ’ এবং ‘ইয়াং সিস্টার অফ মুনা’র সাথে সম্পৃক্ত হউক।

বাংলাদেশী-আমেরিকানদের কাছে মুনার কর্মকান্ড তুলে ধরা এবং তাদের জন্য আমেরিকার মূলধারার মুসলিম স্কলার ও নেতৃবৃন্দ থেকে জ্ঞানগর্ভ দিকনিদের্শনা নেয়া এবং নতুন প্রজন্মকে একি ষ্ট্রান্ডারে উন্নতি করার নিমিত্তেই বিগত কয়েকটি কনভেনশনের মতো আরো ব্যাপকভাবে মুনা এবারও আয়োজন করেছে ‘মুনা কনভেনশন’ ২০১৮।

এ লক্ষেই এ বছরের কনভেনশনের মূল থীম (কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়) (মুহাম্মাদ (সাঃ) শান্তি ও রহমতের পয়গম্বর)। এবারের ইংরেজী আলোচকদের সাথে সাথে থাকবেন বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশ থেকে আগত বাংলা ভাষার আলোচকগণ।

সচেতন সাংবাদিক বন্ধুগণ, আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনের সকল সমস্যা সমাধানের সর্বোত্তম পন্থা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়লা কর্তৃক প্রদত্ত পন্থা। তিনি তার প্রেরিত রাসুল সা. কে দিয়ে তা বাস্তবায়ন ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দিয়েছিন।

আল- কুরআন আল্লাহ তায়ালা তার স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন। “নিশ্চয় তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহ সা. এর জীবনেই রয়েছে অনুকণীয় সর্বোত্তম আদর্শ”। একজন মুসলিম হিসেবে একই সাথে একজন উত্তম মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অভিপ্রায়ী প্রতিটি মানুষের জন্য মুহাম্মদ সা. এর অনুসরণের কোন বিকল্প নেই।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!