মিডিয়া রহস্যের এপিঠ ওপিঠ — আবদুল কাদের তাপাদার

সাংবাদপত্রের হেডপিস, প্রথম পৃষ্ঠা থেকে শেষ পৃষ্ঠা
প্রিন্টার্স লাইন থেকে শুরু করে এর পেট পিঠ 
নাক কান গলা-সবই আমার খুব চেনাজানা
ভার্চুয়াল মিডিয়ার রসময় লেনাদেনার
খবরাখবরও বেশ জানি আমি
জানি মিডিয়া রহস্যের এপিঠ ওপিঠও।

রূপ-রহস্য ঘেরা এসবেই আমার আজীবন বসবাস

সেই জিয়ার আমল থেকে পরাক্রমশালী স্বৈরশাসক
কিংবা ছিয়ানব্বইয়ের বঙ্গুবন্ধু কন্যার আমল
এতসব আমলনামায়ইতো ঘিরে আছে আমার ঘরখানি।
পত্রিকার ফাইলের স্তুপ, দেশ বিদেশের খবরের কাগজ
ঈদ সংখ্যাসহ ঐতিহাসিক সাপ্তাহিকীগুলো
আমার বসার ঘর, শোবার ঘর থেকে প্রতিটি কক্ষেই যেনো
কালজয়ী এসব সংবাদপত্রের চির আধিপত্য।

এগুলোর প্রতি পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে
অসংকোচে চিরন্তন সত্য প্রকাশের এক প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা
সাথে ঘটনা দুর্ঘটনার জ্বলন্ত ইতিহাস।

ইতিহাসের নির্বাক সাক্ষী
পাতাগুলো পড়তে পড়তে দেখতে দেখতে
এখন আমি ভীষণ ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত।
ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা সংবাদপত্রের শতশত ফাইল
গোছাতে গোছাতে আমার অস্তিত্বের গিঁট বাঁধা আর খোলায়
ইদানিং ব্যতিব্যস্ত আমার ঘরণীও বড়ই কাতর অসহায়।

তিনদশকের ব্যবধানে সাদাকালো
পত্রিকার চোখে রঙিন চশমা এখন।
জমাটবাধা বিভ্রান্তি আর মিথ্যাচারের কল্পকাহিনীতে
ভরে উঠেছে পত্রিকার পৃষ্ঠাগুলো
ভার্চুয়াল মিডিয়ার অন্তরালের দৃশ্যগুলো পর্যন্ত একই রকম

আধুনিকতার গোলকধাঁধাঁয়
সবাই কি হারাতে বসেছে আপন সতীত্ব?

পত্রিকার পাতাগুলো, টিভি চ্যানেল, অনলাইনের
ভার্চুয়াল সাইট-সবখানেই
দালালিপনার বেপরোয়া প্রতিযোগীতায়
যেনো ঝাঁঝরা হয়ে গেছে জাতির বিবেক।

একের পর এক খুন আর ফাঁসির সংবাদ
লিখতে লিখতে ওগুলোও যেনো হয়ে উঠেছে
খুনি, ফাঁসির জল্লাদ।
ওদের কেউ কেউ সেজেছে দেশের সেবক
আবার শাসক বনেছে কেউ।

পাঠকের কাছে ওরা চরিত্রহীন, বর্বর খুনি
আমিও আজকাল এসবের নির্বাক এক দর্শক পাঠক।

সিলেট
১১.১১.২০১৪।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!