মাহাথিরের দেয়া সিনেটর হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান আনোয়ার ইব্রাহিমের

 মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মাদ আনোয়ার ইব্রাহিমকে সিনেটর হওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। সম্প্রতি সম্পূর্ণভাবে রাজকীয় ক্ষমায় সমকামিতার অভিযোগ থেকে ছাড়া পাওয়ার তিনদিন পর আনোয়ার ইব্রাহিমকে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়। যেটা আনোয়ারকে পাকাতান হারাপান (পিএইচ) প্রশাসনে যোগ দেওয়ার পথ সুগম করে।
পার্টি কিয়াদিলান রাকয়াত (পিকেআর)এর সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন প্রকাশ করেছেন যে, আনোয়ারের সাথে হাসপাতালে দেখা করার সময় মাহাথির এই প্রস্তাব করেছিলেন।
সাইফুদ্দিন মালয়েশিয়াকিনি’র সাক্ষাতকারে বলেন, ‘আনোয়ার ভালভাবেই বলেন, ওয়ান আজিজাহ ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার থাকাকালীন তার জন্য প্রশাসনে না যাওয়াই ভাল।’
সাইফুদ্দিন বলেন, যিনি দেশীয় বাণিজ্য ও ভোগবাদ মন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, তার মানে মাহাথির আনোয়ারকে প্রশাসনে আনতে চেয়েছিল কিন্তু তিনি (আনোয়ার) তাকে বলেন, মঞ্চটি আপনার এবং আপনারই অনুষ্ঠানটি চালানো উচিৎ।
সাইফুদ্দিনের কথা অনুযায়ী, এটা মাহাথিরের জন্য আনোয়ারের প্রতি পুরোপুরি বিশ্বাস ও সহায়তাকে প্রতিফলিত করে।
সাইফুদ্দিন বলেন, আনোয়ার জোর দিয়েছিলেন যে তিনি ‘দেওয়ান রাকয়াত’ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে ফিরে আসতেন কিন্তু তিনি এটা নির্বাচনের মাধ্যমে পান্দান আসনের মাধ্যমে করতে ইচ্ছুক ছিলেন যে আসনে তার স্ত্রী জিতেছে।
কথিত সমকামিতার অভিযোগে দণ্ডিত আনোয়ার ৩৯ মাস জেলে থাকার পর গত ১৬ মে ছাড়া পান।
ওইদিন তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তিনি রাজনীতিতে আসতে চান না। পিকেআর’র প্রকৃত নেতা এই বলে বিবৃতি দিয়েছিলেন যে, আনোয়ার একমাসের মধ্যেই সংসদে ফিরে আসবেন এবং প্রক্রিয়াগুলো ত্বরান্বিত করবেন।
সাইফুদ্দিন বলেন, পিকেআর এর আনোয়ারের রাজনীতিতে ফিরে আসার সময় নির্ধারণ করেনি এবং তা করার প্রয়োজনও নেই। তিনি ১৯৮০ থেকে সরকারে ছিলেন এবং তার অনেক অভিজ্ঞতা আছে।
তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ না আমরা মাহাথিরের পদত্যাগের সময় নির্ধারণ করতে পারছি, ততক্ষণ আনোয়ারের জন্য সময় নির্ধারণ করতে পারছি না। যে নিজেই ঠিক করতে পারে যে, সে এটা নির্বাচনের মাধ্যমে পেতে চায় অথবা সে নিজেই সিদ্ধান্ত নিবে।
এছাড়াও ৯ মে’র সাধারণ নির্বাচনে জেতার পর সাইফুদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে যে, মাহাথিরের ২৫ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যের শপথগ্রহণ করাতে ১০ সপ্তাহ দেরি করা পিকেআর এর মধ্যেকার ভাঙন এবং দালালির জন্য দায়ী।
মাহাথির ১২ মে তার মন্ত্রীপরিষদের প্রথম তিনজন সদস্যকে নিয়োগ করে, যখন কিনা ১৮ মে মন্ত্রীদের দ্বিতীয় ব্যাচের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
১৩ মন্ত্রীবিশিষ্ট তৃতীয় ব্যাচ এবং সকল প্রতিমন্ত্রীদের ২রা জুলাই শপথগ্রহণ করানো হয়েছিল।এটা সত্য নয়, অসৎ এইরকম অভিযোগ তৈরি করার জন্য।
তিনি বলেন, ‘বিশেষ ক্ষমতাবলে প্রধানমন্ত্রী পিএইচ রাষ্ট্রপতি পরিষদ সভায় প্রত্যেক দলকে তাদের নাম দিতে বলেছিল।’
পিকেআর ১৪ মে ১০ জনের নাম দিয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘এখানে পিকেআর এর কোনো দালালি নেই, আনোয়ার, ওয়ান আজিজাহ অথবা আমার কারো থেকেও নেই। আমরা এটা মাহাথির কে দিয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘পিকেআর এর দেয়া কিছু নাম মনোনীত করা হয়নি এবং এটা ‘ডিএপি’ এবং ‘আমানাহ’ এর জন্যও প্রযোজ্য, কিন্তু পিকেআর এ যাদের নাম মনোনীত করা হয়নি তার নাম প্রকাশ করতেই অস্বীকার করা হয়েছিল।’
যাহোক, সাইফুদ্দিন স্বীকার করেছেন, দলের সহ-সভাপতি পিকেআর এর মন্ত্রী পদপ্রার্থীর তালিকায় ছিল না, যিনি তখন সেলাংর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘পিকেআর এর কাছে এটা পরিষ্কার যে, মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রী হতে পারে না। অবশ্যই, পিকেআর বোকা না, সংবিধানে কি বলা আছে তা তাদের ভালই জানা আছে।’
তিনি বলেন, মাহাথিরই আজমাইন কে অর্থমন্ত্রীর পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
পিকেআর এর ২৮ সদস্যের মধ্যে মাত্র ৬ জন মন্ত্রীপরিষদ সদস্য এবং প্রথম থেকে তারা আজমাইনের সাথে সংঘবদ্ধ ছিল। সাইফুদ্দিন বলেন, অভিযোগ অস্বীকারকরণে দলটি দুভাগে বিভক্ত হয়, আজমাইন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট রাফিজ রামিল এ – ‘আমার মতে তারা সবাই পিকেআর দলের সব অংশ’।
শীর্ষনিউজ/এমই

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!