মাহমুদুর রহমানই জয়ী হতে চলেছেন : ফরহাদ মজহার

ফরহাদ মজহার ২০ ঘন্টা আগে তার ফেসবুক পেইজে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার প্রসঙ্গে তাঁর এই পোস্টের সাথে তিনি প্রথম আলোর ‘কুষ্টিয়ায় আদালত চত্বরে হামলায় রক্তাক্ত মাহমুদুর রহমান, অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে’ শীর্ষক প্রতিবেদনের লিংকটিু যুক্ত করেছেন। লেখাটি সংক্ষিপ্ত আকারে দেয়া হলো-

‘মাহমুদুর রহমানই জয়ী হতে চলেছেন। কুষ্টিয়ায় আদালত প্রাঙ্গনে, বিচারিক হাকিম মাহমুদুর রহমা্নকে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির করা মামলায় জামিন মঞ্জুর করলে ছাত্রলীগ স-বাহিনী মাহমুদুর রহমানকে আদালতেই অবরুদ্ধ করে। আদালতের বারান্দা থেকে পুলিশের উপস্থিতিতে গাড়িতে ওঠার সময় ছাত্রলীগ মাহমুদুর রহমানকে হামলা এবং তাঁর মাথা ও মুখ মারাত্মক ভাবে জখম করে। গাড়ীতো ভাংচুর করেই।

সংবাদপত্র জানাচ্ছে, “এ সময় সেখানে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দীন, আদালতের পরিদর্শক মনিরউজজামানসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল”। হামলাকারী কারো বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা বা গ্রেফতার করেনি।

আমি তখন পাবনার একটি অজ পাড়াগাঁয়ে। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া আমন ধান যে বীজতলায় চাষ করেছিলাম তা সংগ্রহ করে জলাবদ্ধ একটি গ্রামে হাঁটু পানিতে রোপনের চেষ্টা করছি। যদি গজায়!! এটি আউশ আর দেশি আমনের এলাকা। কিন্তু গ্রামের পর গ্রামে এখন দেখি জলাবদ্ধ বিরান মাঠ, বিষ আর পঁচা পানির কারণে এই এলাকায় এখন গরু ছাগল হাঁস পালনও দুঃসাধ্য । পানিতে হাত পা গা চুলকায়, চামড়ার ঘা হয়। এই এলাকার বহু তরুণ খাদ্য ও কাজের অভাব বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। বড় একটি অংশের পক্ষে গুণ্ডামি, রাহাজানি মারপিট না করে বেঁচে থাকা অসম্ভব। রাজনৈতিক গুণ্ডামি উন্নয়ন নীতি বা রাষ্ট্রের গ্রাসাচ্ছাদন নীতি থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়, কারণ কেউই সমাজের বাইরে নয়।

মাহমুদুর রহমানের গাড়িতে ভারি পাথর মারা, রিমান্ডের নামে তাঁর ওপর অত্যাচার করা, হত্যার চেষ্টা ইত্যাদি নতুন কোনো ঘটনা না। আগেও হয়েছে। মাহমুদ সাহসী মানুষ। তাঁর ভয়ডর নাই। কিন্তু গ্রামে ছিলাম বলে বন্ধু হিসাবে তাঁর জন্য আমার উদ্বেগের কথা জানাতে পারিনি। কিন্তু এই ধরণের হামলা প্রতিরোধ করবার সামর্থ্য অর্জন করাই কর্তব্য; উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ যথেষ্ট নয়।

মাহমুদুর রহমানের কপাল বেয়ে রক্ত ঝরে পড়ার ছবি বলাবাহুল্য, ভালো লাগে নি। সেটা নিছকই একজন আহত মানুষের প্রতি দরদের ব্যাপার নয়। আরো বড় ছবির ক্যানভাসে আমাদের ভাবতে শিখতে হবে। আদালত প্রাঙ্গনে পুলিশের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে। মাহমুদুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আদালতের দায়িত্ব ছিল। আদালত বা বিচার বিভাগ তাঁদের আদেশ ‘বলবৎ’ করেন বল প্রয়োগের সংস্থা অর্থাৎ পুলিশ ও প্রশাসন দ্বারা। পুলিশ উপস্থিত ছিলো ঠিকই। পুরা হামলা ও আহত হবার ঘটনা পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘটেছে।’

  • নয়া দিগন্ত অনলাইন

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!