মাদক সম্রাট সংসদেই আছে, তাদের ফাঁসি দেন: এরশাদ

মাদক নির্মূলের নামে বন্দুকযুদ্ধে নির্বিচারে হত্যার কঠোর সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, মাদক নির্মূলের নামে যাদের হত্যা করা হচ্ছে তারা কারা আমরা জানি না। মাদক সম্রাট তো সংসদেই আছে। তাদের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝোলান।

বুধবার কাকরাইলে ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এরশাদ বলেন, এভাবে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করতে পারেন না। প্রত্যেক নাগরিকেরই সাংবিধানিকভাবে বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। কোথাও এর (ক্রসফায়ার) নজির নেই। বিশ্ব এটা মেনে নেবে না। মাদক নিমূর্লে আগামী সংসদ অধিবেশনই সর্ব্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আইন করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

ঢাকা শহরের যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যানজটের কারণে প্রতিদিন ৫১ লাখ ঘণ্টা অপব্যয় হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে এগুলো বাস্তবায়ন করে ঢাকাকে যানজট মুক্ত করব।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলের নেতা ও দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, জহিরুল আলম রুবেল প্রমুখ। সংবাদ উৎস- জাগো নিউজ

আরও পড়ুন- ‘মেজবান’র ময়লার ঝুড়িতে মিলল কাপড়ের ক্ষতিকর রংয়ের কৌটা

রাজধানীর ধানমন্ডিতে দাওয়াত-ই-মেজবান রেস্টুরেন্টের ময়লার ঝুড়ি থেকে শিল্প কারখানার কাপড়ে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রংয়ের কৌটা উদ্ধার করেছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। র‌্যাবের অভিযানের সংবাদ পেয়ে রংয়ের কৌটাটি ময়লার ঝুড়িতে ফেলেছিল রেস্টুরেন্টের লোকজন। বুধবার দুপুরে র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় দাওয়াত-ই-মেজবানকে জরিমানা করা হয় ৪ লাখ টাকা।

সরেজমিনে ধানমন্ডির ৭৪/৫/এ নম্বর চতুর্থ তলায় চট্টগ্রামের মেজবান ও কালাভুনার জন্য বিখ্যাত দাওয়াত-ই-মেকজবান’র রান্না ঘরে গিয়ে দেখা গেছে, তিনটি বড় পলিথিনে গতকালের গ্রাহকদের খাবারের উদ্ধৃতাংশ (ঝুটা খাবার) রাখা হয়েছে। বাসী এই খাবার থেকে গন্ধ বের হচ্ছিল। দুইটি ডিপ ফ্রিজ ছিল। প্রথম ফ্রিজটির ভেতর কয়েকদিন আগের রান্না করা জমাট গরুর মাংস, মাছের ও মুরগীর ফ্রাই রাখা।

রেডিফুট ডিপ ফ্রিজে কেন? ম্যাজিস্ট্রেটের এমন প্রশ্নে রেস্টুরেন্টের ইনচার্জ মো. ইমন উত্তর দেন, ‘ইফতারের সময় সবকিছু একসঙ্গে রেডি করা যায় না, তাই আগে থেকে তৈরি করা।’

ভ্রাম্যমাণ আদালত বলছে, বাসী খাবারগুলো ইফতারে গ্রাহকদের পরিবেশনের জন্য রাখা হয়েছে।দ্বিতীয় ডিপ ফ্রিজটি খুলে কাঁচা মাংসসহ দীর্ঘদিনের পুরনো ছোট চিংড়ি মাছের ভর্তা পাওয়া গেছে। কাঁচা অবস্থায় ভর্তা করা চিংড়িগুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।

তবে দাওয়াত-ই-মেজবানের সবচেয়ে বড় অপরাধ পাওয়া যায় অভিযানের শেষ অংশে। তাদের ডাইন-ইন রুমের ময়লার ঝুড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় কাপড়ের একটি ক্ষতিকারক রংয়ের কৌটা।

অভিযান সম্পর্কে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, গ্রাহকদের থেকে খাবারের জন্য মোটা অংকের টাকা নিলেও রেস্টুরেন্টটি মানসম্মত খাবার পরিবেশন করছে না। রেস্টুরেন্টের ফ্রিজের ওপরের অংশে জং ধরা। দীর্ঘদিন ধরে এটি পরিষ্কার করা হয়নি। ফ্রিজের পাশ থেকে এক জোড়া জুতা পাওয়া গেছে, যা এখানে থাকার কথা না। ফ্রিজ থেকে রান্না করা বাসী মাছ-মাংস পাওয়া গেছে। তাদের কেনা কোয়েলের ডিমগুলো পচে গন্ধ বের হচ্ছিল।

‘অভিযানে কাপড়ের ক্ষতিকারক রং ভর্তি একটি কৌটা উদ্ধার করা হয়েছে। এই রং দিয়ে তারা জর্দা তৈরি করতো বলে জানিয়েছে। অথচ এতে স্পষ্ট করে লেখা আছে -ইন্ডাস্ট্রিয়ালের মেটেরিয়াল (শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল)। জর্দায় ব্যবহৃত ফুড গ্রেডেড রং প্রতি কেজি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। আর কাপড়ের এই রং মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০। এই রং মানবদেহে গেলে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার হওয়ার কারণ হতে পারে। তারা এই রং ব্যবহার করে মানুষের স্বাস্থ্যের যে ক্ষতি করছে তা টাকায় পরিমাপযোগ্য নয়। তবুও তাদের ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে-’, বলেন ম্যাজিস্ট্রেট ।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!