মন্দের মোকাবেলা করার উত্তম পন্থা :অধ্যক্ষ বদরুল বিন হারুন ,প্যারিস

এরা ইসলামের প্রকাশ্য শত্রু।প্রকাশ্যে,দিবালোকে এদের ধুয়ে দিতে হবে।এই ধুলাই দেয়া,ধুয়ে দেয়ার বিষয়ে সঠিক কিছু নীতিমালা রয়েছে যা আমাদেরকে মানতে বাধ্য করা হয়েছে।আপনার আবেগ! হ্যা,তা বুঝা যাচ্ছে।
আপনার সাথে একমত।সমস্যা হলো নিবৃত করার উত্তম,কার্যকরী পন্থা কি হতে পারে,তা নিয়ে আলোচনা করা যায়। গোপনে কেহ পাপ করলে তা জানবেন কিভাবে?

প্রকাশ্যে দশজনে জানলো,আর তা মিডিয়ায় দিয়ে দশ লক্ষের কাছে পৌছানো হলো।হয়তো তার এই কাজটি সীমাদ্ধ থাকতো কিছু লোকের মধ্যে,তা না হয়ে এখন তার ফাইলটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিয়ে সমাজে তাকে অচল করে দেয়া হলো…

আমার জানামতে দুনিয়াতেও যে এই প্রচার করলো তার বিষয়ও অল্লাহ চাইলে এই দুনিয়াতে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌছিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন।যা আজকাল হচ্ছে।

একজন কারো একটা গোপন ফাইল সমাজে বের করেছে,পরে দেখাযায় অন্যকেহ তার তিনটা গোপন ফাইল নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করে দিয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়-তাহেরী,তাসলিমা নাসরীনকে প্রকাশ্যে ধুয়ে দিতে গিয়ে কি লাভ হয়েছে?উল্টা এদেরকে বিশ্ব ব্যাপী সেলিব্রেট করা হয়েছে।এখন গর্তের সব খারাপগুলো বের হয়ে প্রকাশ্যে তাদের পক্ষ নিয়েছে।আর দুনিয়াতে তাগুতের সংখ্যা বেশি না কম?

আর পবিত্র কোরআনের ভাষায় “ভালোটা দিয়ে মন্দের মোকাবেলা করার কথা বলা হয়েছে”।

আরো বেশি জানতে সুরা ফুস্সিলাত এর 34 আয়াতের ব্যাখা দেখতে পারেন

وَلَا تَسْتَوِى ٱلْحَسَنَةُ وَلَا ٱلسَّيِّئَةُ ۚ ٱدْفَعْ بِٱلَّتِى هِىَ أَحْسَنُ فَإِذَا ٱلَّذِى بَيْنَكَ وَبَيْنَهُۥ عَدَٰوَةٌ كَأَنَّهُۥ وَلِىٌّ حَمِيمٌ
আর ভাল জিনিস ও মন্দ জিনিস একসমান হতে পারে না। প্রতিহত করো তাই দিয়ে যা অধিকতর উৎকৃষ্ট, ফলে দেখো! তোমার মধ্যে ও তার মধ্যে শত্রুতা থাকলেও সে যেন ছিল অন্তরঙ্গ বন্ধু।

অন্য দিকে-আমি আমার পক্ষের সাফাই গাইতে অন্য পক্ষকে বিবস্র করার চেষ্টা করলাম।কিন্তু অন্যরা কি বসে থাকবে?আর পৃথিবীতে খারাপের সংখ্যা কম না বেশী?যদি বেশী হয়ে থাকে,তাহলে তাদের অন্তরে প্রবেশ করার দায়িত্ব কার?যদি আমি আল্লাহর রাস্তার দায়ি হয়ে থাকি তাহলে এই পন্থা অবলম্বনে তারা কি আমার কাছে আসবে না দূরে যাবে?

পক্ষান্তরে প্রিয় নবী সঃ কি প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে সাহাবীদের দিয়ে ধুলাই দিয়েছিলেন?

তবে হ্যা,হিকমাত অবলম্বন করতে বলা হয়েছে,আমি প্রতিবাদের নামে প্রকাশ্যে তাদের ও তাদের নেতাদের নিয়ে রাস্তায় ঠেনে হিচড়ে তার জামা ছিন্ন করছি,যেমনটি তারা করে থাকে।তাহলে কে উত্তম?হিকমাত কার কাছে?

কথা বলছি প্রচলিত কৌশল নিয়ে।কৌশল,আরবীতে যাকে বলা হয় হিকমাত।হিকমাত করতে হলে ও তার নির্ধারিত নীতি,পদ্ধতি রয়েছে।আছে পবিত্র কোরআন সুন্নাহের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা।প্রতিপক্ষকে বাগে আনতে সেই নির্দেশনার তুয়াক্কা না করে,যত্রতত্র তার অপব্যাবহার।আজ স্বয়ং হিকমাতের ধরক বাহকদের কাছেও এখন তা নিরাপদে নেই।

আসুন,প্রতিপক্ষের সাথে মুয়ামালাতের ইসলামিক পদ্ধতি নিয়ে কিছু আলোকপাত করি।পবিত্র কোরআন সুন্নাহ থেকে যে দশটি পদ্ধতি রয়েছে তা পর্যায়ক্রমে নিম্নে দেয়া হয়েছে।

প্রথম পদ্ধতি:

আলকোরানের রুপ রেখা হলো – অন্যের মোকাবেলায় কোন ভাবে অন্যায়ের আশ্রয় নেয়া যাবে না।

প্রতিপক্ষ আমার ভাই।রক্তের ভাই,কারণ সে আদমের সন্তান যদিও সে অন্য ধর্মের।বংশের ভাই,কারণ,সে ইব্রাহীমের বংশের মানুষ,সে মোহাম্মদের উম্মত।সে এক জন মুসলিম।আপন ভাই,কারণ সে ও আমি একই মায়ের দুধ খেছি। উল্লেখিত তিন শ্রেণীর ভাইদের সাথে আমার আচরণ কেমন হবে এর একটি রোপরেখা ইসলাম এভাবে দিয়েছে-
যে ভাইটিকে আপনার পিতা আদম আঃ লালন করেছেন।আপনার মুনিবের একই পরিবারে টাই দিয়ে,যাকে পবিত্র খাবার দিয়ে থাকেন।আলো,বাতাস অক্সিজেনে যে আপনার সমান অধিকারে আছে।সে যেই হোক।আপনার ভাই।সে অমুসলিও হতে পারে কিন্ত আপনার আদম পিতার রক্তের ধন।তাই তিনি বলেন-
وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَىٰ كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا (70) (الإسراء

আর আমরা অবশ্য আদমসন্তানদের মর্যাদাদান করেছি, আর আমরা তাদের বহন করি স্থলে ও জলে, এবং তাদের রিযেক দান করেছি উৎকৃষ্ট বস্তু দিয়ে, আর আমরা যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের উপরে আমরা তাদের প্রাধান্য দিয়েছি শ্রেষ্ঠত্বের সাথে

এই হিসেবে একজন অমুসলিম ও আমি পৃথিবী নামক একই ছাতার নিচে বাস করছি।একই বসুন্ধরার বাসিন্দা।আহার,নিদ্রায় সমান।অবয়বে অভিন্ন।রক্তের একই গ্রুপ।তাই সবাই সমান ও সুন্দর আচরণে পরস্পর একই সূতোয় গাথা।তার সাথে বিরোধ হলে এর সুন্দর নিস্পত্তির পথ এভাবে দেয়া হয়েছে।
নির্দেশ এক-
وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ (151 سورة الانعام
আর তেমন কোনো লোককে হত্যা করো না যাকে আল্লাহ্ নিষেধ করেছেন, — যথাযথ কারণ ব্যতীত। এইসব দিয়ে তিনি তোমাদের আদেশ জারি করেছেন, যেন তোমরা বুঝতে পারো।

নির্দেশ দুই-
وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا ۖ وَإِن كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا ۗ وَكَفَىٰ بِنَا حَاسِبِينَ (47) (الأنبياء)
আমি কেয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি জুলুম হবে না। যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণের জন্যে আমিই যথেষ্ট।

নির্দেশ তিন-

وْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً ۖ وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ (118) (هود
আর তোমার পালনকর্তা যদি ইচ্ছা করতেন, তবে অবশ্যই সব মানুষকে একই জাতিসত্তায় পরিনত করতে পারতেন আর তারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হতো না।
চতুর্থ নির্দেশ-

وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَآمَنَ مَن فِي الْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا ۚ أَفَأَنتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّىٰ يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ (99) (يونس)

আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতে সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?

পন্চম নির্দেশ-

وَإِن جَادَلُوكَ فَقُلِ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ (68)
اللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ (69) (الحج)

তারা যদি আপনার সাথে বিতর্ক করে, তবে বলে দিন, তোমরা যা কর, সে সর্ম্পকে আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।
তোমরা যে বিষয়ে মতবিরোধ করছ, আল্লাহ কিয়ামতের দিন সেই বিষয়ে তোমাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন।

ষষ্ট নির্দেশ

وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ (107) (الأنبياء

হে নবী আমি আপনাকে বিশ্ববাসির জন্য রহমত হিসাবে প্রেরণ করেছি।

সপ্তম নির্দেশ-

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ الحجرات(13)
হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।

অষ্টম নির্দেশ-

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِي الْأَرْضِ وَالْفُلْكَ تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِأَمْرِهِ وَيُمْسِكُ السَّمَاءَ أَن تَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ الحج(65)
তুমি কি দেখ না যে, ভূপৃষ্টে যা আছে এবং সমুদ্রে চলমান নৌকা তৎসমুদয়কে আল্লাহ নিজ আদেশে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন এবং তিনি আকাশ স্থির রাখেন, যাতে তাঁর আদেশ ব্যতীত ভূপৃষ্টে পতিত না হয়। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি করুণাশীল, দয়াবান।

নবম নির্দেশ-

وسارعوا إلى مغفرةٍ من ربِّكم وجنَّةٍ عرضُها السَّماوات والأرض أعدَّت للمتَّقين * الذين ينفِقُونَ في السَّرَّاء والضَّرَّاء والكاظمين الغيظ والعافين عن النَّاس واللّه يُحبُّ المحسنين * والذين إذا فعلوا فاحشةً أو ظلموا أنفسهم ذكروا اللّه فاستغفروا لذنوبهم ومن يغفر الذُّنوب إلاَّ اللّه ولـم يُصرُّوا على ما فعلوا وهم يعلمون * أولئك جزاؤهم مغفرةٌ من ربِّهم وجنَّاتٌ تجري من تحتها الأنهار خالدين فيها ونعم أجرُ العاملين] ال عمران (133ـ136).
তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও যমীন, যা তৈরী করা হয়েছে পরহেযগারদের জন্য।

যারা স্বচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, বস্তুতঃ আল্লাহ সৎকর্মশীলদিগকেই ভালবাসেন

তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না।

তাদেরই জন্য প্রতিদান হলো তাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে প্রস্রবণ যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। যারা কাজ করে তাদের জন্য কতইনা চমৎকার প্রতিদান

দশম নির্দেশ-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ المايدة(8)

হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অবিচল থাকবে এবং কোন সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না। সুবিচার কর এটাই খোদাভীতির অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে খুব জ্ঞাত।

অত এব,প্রতিটি মানব সন্তানের সাথে কথা বার্তায় মনে রাখতে হবে সে আপনার ভাই।সে হতে পারে অন্য ধর্মের।হতে পারে আপনার শত্রুপক্ষের।তার সাথে কথা বলতে হবে ইনসাফের সাথে।যেনো বাড়া বাড়ি না থাকে।

আলহাদিসের নির্দেশনা :

– أنَّ قَيْسَ بنَ سَعْدٍ، وَسَهْلَ بنَ حُنَيْفٍ، كَانَا بالقَادِسِيَّةِ فَمَرَّتْ بهِما جِنَازَةٌ فَقَامَا، فقِيلَ لهمَا: إنَّهَا مِن أَهْلِ الأرْضِ، فَقالَا: إنَّ رَسولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وَسَلَّمَ مَرَّتْ به جِنَازَةٌ، فَقَامَ فقِيلَ: إنَّه يَهُودِيٌّ، فَقالَ: أَليسَتْ نَفْسًا. [وفي رواية]: كُنَّا مع رَسولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وَسَلَّمَ فَمَرَّتْ عَلَيْنَا جِنَازَةٌ

একবার রাসুলুল্লাহ সঃ এর পাশ দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হয়ে ছিলো।রাসুল সঃ এই লাশের সম্মানে দাড়িয়ে গেলেন।তাঁকে বলা হলো -লোকটি ত এহুদি।তিনি বললেন,সে কি মানুষ না?

প্রিয় মুসলিম,আজ আমাদের মধ্যে এমন সম্মান বোধের অভাবই অন্যকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে পারি না।আমরা সম্মান দিতে প্রান্তিক হয়ে যাই।আমার দলের হলে সম্মান,অপর পক্ষের হলে হেয় করতে হয়।

ইজমা থেকে নেয়া

শুয়াইব আলাইহিস সালাম ছিলেন অসাধারণ বাক প্রতিভার অধিকারী। এজন্য তাঁর উপাধি হচ্ছে, ‘খতিবুল আম্বিয়া’ অর্থাৎ নবীদের ভাষ্যকার। এরপরও মাদায়েনের অধিবাসীরা তাঁর আহ্বানকে প্রত্যাখান করেছিল।

বলেছিল, ‘আপনি যা বলেন, আমরা তো তা বুঝিই না।’ সবচে’ সুন্দর করে বলতে পারা মানুষটির কথাকেও বুঝতে না পারার মিথ্যে অজুহাত তুলে তারা পরিহাস করত।

মুসা আ. তাঁর জামাতা। যখন মিসরে তিনি নবী হিসেবে প্রেরিত হলেন, খোদ তাঁর উপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপের চেষ্টা করা হলো। পতিতালয় থেকে এক পতিতাকে অর্থের বিনিময়ে এনে জনসমাবেশে বলানো হলো, ‘মুসা প্রায়শই রাতে আমার কাছে আসে।’

মিসরের রাজালয়ে ইউসুফ আ. এঁর উপর ধর্ষণ চেষ্টার মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

ঈসা আ. এঁর উপর অবৈধ সন্তানের কলঙ্ক আরোপ করার চেষ্টা হলো। মরিয়ম আ. মত এঁর সাধবি নারীর উপর এই অপবাদ লোকেরা প্রচার করলো।

খোদ রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিদ্রুপ করে কখনো কবি, কখনো পাগল, কখনো গণক, কখনো জাদুকর বলা হত।

উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রা. এঁর উপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করলো মুনাফিকরা। এমনকি কোরআন সাক্ষী দেবার পরও আজও পৃথিবীতে তাদেরই উত্তরসূরী বহুজন এই মিথ্যার প্রচার করে।

সূরা আল আনকাবূতে আল্লাহ নবীগনের প্রতি এইরকম বহু বিচিত্র পরীক্ষার বহু বর্ণনা দিয়েছেন। প্রায় সহস্র বছরের দাওয়াতি চেষ্টার পরও নূহ আ. কে তাঁর কওমের স্বল্পকজন বাদে বাকি সব লোকই প্রত্যাখান করেছিল।

ইবরাহীম আ. এঁর সাথে তার সম্প্রদায় কেমন আচরণ করেছিল সেই ভয়াবহতার বর্ণনাও কোরআন দিয়েছে। হুদ ও সালিহ আ. এঁর সাথে তাঁদের স্বজাতির প্রত্যাখান ও দুর্ব্যবহারের সাক্ষীও কোরআন দিচ্ছে।

আর আমরা তো নিতান্ত সাধারণ মানুষ। না সেই উত্তম চরিত্র, না সেই ধৈর্য, না সেই ত্যাগ আমাদের রয়েছে! ফলত আমাদের উপরও যদি নেমে আসে কোনও অন্যায় আরোপ- তাতে আশ্চর্যান্বিত হবার কিছু নেই। এটা অভূতপূর্ব, অশ্রুতপূর্ব কিছুই নয়।

বরং আমরাও সেভাবেই সবরের পথেই হাঁটব। লোকেদের প্রত্যাখ্যান, মন্দবাক্যে বিচলিত হবার কিছুই নেই। ইমাম শামিল রহ. বলতেন, ‘আমি একশোটা কাজের মধ্যে নিরানব্বুইটি কাজও যদি ভালো করি। আর তাতে একটিও যদি ভুল হয়, আল্লাহর কসম লোকেরা কেবল সেই ভুলটির কথাই বলবে।’

ফলত লোকে যা বলুক, যে যত গালি দিক, যত কলঙ্ক আরোপ করুক, যত নিন্দামন্দই করুক আমরা ন্যায়ের পথ থেকে সরব না, বিচলিত হব না। এমনকি উচিত তো এটাই যে, আমরা তাদের ব্যাপারেও কল্যাণ ও মঙ্গলের ভাবনা নিয়েই এগোব।

শোয়াইব আ. এঁর ক্বওম তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাঁর নামাজের নিন্দা করেছিল। তাঁকে অপমান করেছিল। নিজেদের অপকর্মের দরুণই তারা আল্লাহর গযবে ধ্বংস হয়েছিল। তবুও তাদের জন্য ব্যথিত হৃদয়ে কাঁদতে কাঁদতে শুয়াইব আ. এঁর চোখ অন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

কারো আনুকূল্যের প্রয়োজন নেই, কারো অনুকম্পা কিম্বা দয়ার মুখাপেক্ষী আমরা নই৷ আমাদের অন্তর হবে মানুষের কাছে বিনিময়ের প্রত্যাশা ব্যতীতই ভালোবাসায় পূর্ণ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সূরা আত-তাওবায় বলছেন,

فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ

‘এরপরও যদি তারা প্রত্যাখ্যান করে তবে জানিয়ে দিন, আমার জন্যে তো আল্লাহই যথেষ্ট।’
অন্যায়ের মোকাবেলায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা মানে মশা মারতে কামান দাগানোর নামান্তর।অত এব সর্বাবস্তায় ন্যায়ের কাঠগড়ায় দাড়িয়ে অন্যায়ের মোকাবলা করাই হচ্ছে ইনসাফ।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!