ভালোবাসার নগর প্যারিসে স্বপ্নের দিন

আহবাব চৌধুরী 

ইজিজেট নামের অতি ক্ষুদ্রাকৃতির এই উড়োজাহাজটি আমাদের নিয়ে যখন প্যারিসের সার দি গল এয়ারপোর্টে অবতরণ করল, তখন স্থানীয় সময় সকাল ১০টা। ইংল্যান্ডের গ্যাটউইক এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রা শুরু করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে আমাদের সময় লেগেছে মাত্র এক ঘণ্টা। গত বছরের ৭ জুলাই দুই দিনের জন্য গিয়েছিলাম প্যারিস। সঙ্গে আমার বন্ধু যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী সজিবুর রহমান সজিব। সিন নদীর তীরে অবস্থিত প্যারিস নগরী হচ্ছে ফ্রান্সের রাজধানী। দুই হাজার বছরের পুরোনো এই নগরী এখন বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে সমাদৃত। বিশ্বের বৃহত্তম ১০০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে অন্তত ১৫টির সদর দপ্তর এই প্যারিসে। তাদের সরকারের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানের জন্য এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পর্যটকের গন্তব্যস্থল হচ্ছে প্যারিস।

প্যারিসে ঘুরে বেড়ানোর দর্শনীয় অনেক স্থান রয়েছে। আইফেল টাওয়ার, প্যারিস গেট, ফ্রান্স মিনিয়েচার, সায়েন্স সিটি, ল্যুভর মিউজিয়াম, ফিউচার পার্ক, ডিজনি ওয়ার্ল্ড, প্রেসিডেন্ট ভবন এলিসি প্রাসাদ ইত্যাদি অন্যতম। প্যারিসে স্বল্পকালীন ভ্রমণে সেখানে বসবাসরত আমার প্রিয় এলাকাবাসী ও সেই সঙ্গে ফ্রান্সের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ আমার প্রতি যে আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা দেখিয়েছেন, তাতে শুধু আমার এই ভ্রমণ স্মরণীয় হয়ে ওঠেনি, আমাকে চির কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করেছে।

এয়ারপোর্টে আমাদের অভ্যত্থনা জানাতে আগে থেকে উপস্থিত ছিলেন প্যারিসের জনপ্রিয় কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট ও তরুণ রাজনীতিবিদ জুনেদ আহমদ। ফলে এয়ারপোর্টে নেমে আমাদের কোন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি। জুনেদ প্যারিসের ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জের গঙ্গাপুর গ্রামে। ফোনে কথা হলেও সরাসরি এই প্রথম দেখা। তিনি আমার স্কুলজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অধ্যাপক ফরিদ আহমদের ছোট ভাই। তাদের আরেক ভাই সাইদ আহমদ এখন সিলেট জেলা বারের আইনজীবী। তাদের দুই ভাইয়ের সঙ্গে ভালো পরিচয় থাকলেও জুনেদের সঙ্গে দেখা দেখা হয়নি কখনো। আলাপচারিতায় জানলাম, প্রায় দশ বছর ধরে তিনি এখানে আছেন। তার একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। রয়েছে একটি গ্রোসারিও। জুনেদের গাড়িতে করে আলাপ করতে করতে মিনিট দশেকের মধ্যেই আমরা চলে এলাম লি ব্লাঁ মাসিল এলাকায়। জুনেদের মালিকানাধীন টেস্ট অব ইন্ডিয়া রেস্টুরেন্ট এখানে অবস্থিত। এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম ও সকালের নাশতার পর্ব শেষ করি। রেস্টুরেন্টের পেছনেই তাঁর থাকার বাসগৃহ। পরিচয় হলো তাঁর স্ত্রী ও পুত্র কন্যাদের সঙ্গে। ব্যাগ অ্যান্ড ব্যাগেজ আগেই এয়ারপোর্টের কাছে অবস্থিত হোটেল হিলটন ড্রাবোল ট্রিতে রেখে এসেছি। জুনেদের বাসা থেকে আমরা রওনা হলাম সিটির উদ্দেশ্যে। গাড়িতে বসে জানালা দিয়ে দেখছিলাম প্যারিস নগর। এই নগরের গল্প অনেক শুনেছি, কিন্তু এবারই প্রথম দেখা। দেখতে খুব সুন্দর, যেমন নেই বায়ু দূষণ, তেমনি নেই কোনো শব্দ দূষণ। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এই নগর দেখতে যেন ছবির মতো সুন্দর।

কথা বলতে বলতে আমরা চলে এলাম সিটির মাক্সদরমী এলাকায়। গাড়ি থেকে নামতেই দেখি মহসিন রাজা আরও কিছু লোক নিয়ে আমাদের অপেক্ষা আছেন। মহসিনের সঙ্গেও আগে দেখা হয়নি কখনো। ফোনে কথা হয় মাঝে মাঝে। মহসিন ফেঞ্চুগঞ্জ আন্তর্জাতিক অনলাইন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক। খুব ভালো সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট। মহসিনকে পেয়ে আমি জুনেদকে বিদায় জানালাম। কারণ, তিনি কাজ ফেলে আমাদের সময় দিচ্ছিলেন।

প্যারিস সিটিতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য সবচেয়ে সহজ যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে মেট্রো ট্রেন। মেট্রো ট্রেন এখানকার সাবওয়ের ভিন্ন নাম। ভূগর্ভস্থ এই ট্রেন, যেগুলোকে নিউইয়র্কে আমরা বলি সাবওয়ে, লন্ডনে এটির নাম হচ্ছে আন্ডার গ্রাউন্ড, আর ফ্রান্সে মেট্রো। আমি মহসিনকে বললাম, গাড়ি নয়, বরং আমরা মেট্রোতে ঘুরি। প্যারিস সিটিতে দর্শনীয় যেসব স্থান রয়েছে আইফেল টাওয়ার তার অন্যতম। প্যারিস এসে সবাই প্রথমে যে স্থান দেখতে যায়, সেটি হচ্ছে আইফেল টাওয়ার। আমরা প্রথমেই মেট্রো ট্রেনে করে গেলাম আইফেল টাওয়ারে। সন্দেহ নেই, আইফেল টাওয়ার বিশ্বের বৃহত্তম স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি ফ্রান্সের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করে।

১৮৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই টাওয়ারটি তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক এই টাওয়ার দেখতে আসে। ফরাসি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ওস্তাভ আইফেলের নামানুসারে এই টাওয়ারের নামকরণ করা হয়েছ আইফেল টাওয়ার। পুরো টাওয়ারটি নির্মাণ করতে লোহা লেগেছ ১৮ হাজার ৩৮ টন। আইফেল টাওয়ারের মূল কাঠামো চারটি বিশাল লোহার পিলারের ওপর তৈরি। ২৫০ জন নির্মাণকর্মী দুই বছর পাঁচ মাস কাজ করে তৈরি করেছে এই টাওয়ার। আইফেল টাওয়ার দিনের চেয়ে রাতে দেখতে বেশি সুন্দর। আইফেল টাওয়ারে লাগানো আছে বিভিন্ন রঙের অসংখ্য বাতি। এগুলো যখন রাতে জ্বালানো হয়, তখন পুরো এলাকা অপূর্ব সুন্দর হয়ে উঠে। আইফেল টাওয়ার দূর থকে দেখতে ছোট মনে হলেও তা কতটা বিশাল, কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়। একসঙ্গে ছয় হাজার দর্শনার্থী আইফেল টাওয়ারের চূড়ায় উঠতে পারে। টাওয়ারের মোট উচ্চতা এক হাজার ৮১ ফুট ৭ ইঞ্চি। টাওয়ারের চূড়া থেকে পুরো প্যারিস নগরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। টাওয়ারের চূড়ায় ওঠার জন্য রয়েছে এলিভেটর ও সিঁড়ি। হাজার হাজার দর্শনার্থী আইফেল টাওয়ারের আশপাশে জটলা করছে। কেউ মনের আনন্দে ছবি তুলছে, আবার কেউ পাশ দিয়ে বহমান সিন নদীর তীরে দাঁড়িয়ে টাওয়ারের সৌন্দর্য উপভোগ করছে। নদীতে আবার রয়েছে ক্রুজ লাইন। এখানে পর্যটকেরা নৌভ্রমণের মাধ্যমে আইফেল টাওয়ারের সৌন্দর্য উপভোগ করে থাকে।
রাতে যখন টাওয়ার এলাকায় গেলাম, তখন চোখে পড়ল এক অন্য রকমে সৌন্দর্য। পৃথিবীর অতি সামান্য দর্শনীয় স্থানগুলো কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। কিন্তু আইফেল টাওয়ারের রাতের সৌন্দর্য দেখে মনে হল, এটি আমার এ পর্যন্ত দেখা শ্রেষ্ঠতম সুন্দর স্থান।

দেখতে গেলাম প্যারিসের মুসলিম ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক গ্রেট মস্ক। এই মসজিদটি বাংলাদেশিদের কাছে বড় মসজিদ নামে পরিচিত। প্যারিসের আরোদিসিমেন্ট এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদের সুউচ্চ মিনারগুলো দেখে মনে হল, এগুলো যেন মুসলিম সভ্যতার সাক্ষী হয়ে এখনো প্যারিসে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কথিত আছে, প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে নিহত কয়েক লাখ মুসলিম সেনাদের স্মরণে যুদ্ধের পর পরই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। ফ্রান্সে ইসলাম হচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। জেনে খুশি হলাম, প্যারিসে ছোট বড় মিলিয়ে ৬০টি মসজিদ রয়েছে।
প্যারিসে বাংলাদেশি অধ্যুষিত গো নর্দ সিটি যেন প্যারিসের বুকে এক খণ্ড বাংলাদেশ। বাংলাদেশি পণ্য ও খাদ্যের স্বাদ নিতে হলে যেতে হবে গো নর্দ সিটিতে। এখানে গেলে যেমনি দেখতে পারবেন দেশি মানুষ, তেমনি দেখতে পারবেন বাংলাদেশি পণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। বাংলাদেশি এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে দুই বেঙ্গল, শুকরিয়া তন্দুরি, ক্যাফে বাংলা, রয়েল ক্যাফে, যমুনা, জাহান সুপার মার্কেট, বাংলাবাজার, এবং ইকরা। এই সিটিতে অবস্থিত শুকরিয়া রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেতে গিয়ে মনে হলো যেন, আমি বাংলাদেশে এসেছি। এখানে দেখা হলো খছরু, মালেক, সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গির ও জয়নাল আবেদিন খানসহ অনেকের সঙ্গে। রেস্টুরেন্টে খাবারের মেনু দেখে অবাক হলাম। সাদা ভাত, গরু মাংস ভুনা, বেগুন ভাজি, আলু ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা ও বোয়াল মাছ ভাজি। খোদ প্যারিস সিটির প্রাণকেন্দ্রে এমন বাঙালি খাবার খেয়ে ও দেখে বুঝতে পারলাম, এখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশকে কতটুকু ধারণ করে আছেন। এই বাঙালি রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী খছরুজ্জামানের বাড়ি আমার গ্রামের বাড়ির কাছেই। কিন্তু তাঁর সঙ্গে প্রায় পঁচিশ বছর পর প্যারিসে দেখা। ভালো লাগল বাংলাদেশিরা এখানে ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ভালো আছেন দেখে।

খছরু জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্রান্সের সহসভাপতি এবং ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি। এখানে এলাকার আরও অনেকের সঙ্গে পরিচয় ও দেখা হল। সবার আতিথেয়তা ও আন্তরিকতা ভোলার নয়। এদিন সন্ধ্যায় আমি যোগ দিয়েছিলাম একটি মতবিনিময় সভায়। ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্রান্স আয়োজিত এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় ক্যাফে বাংলা রেস্টুরেন্টে। গোটা প্যারিস তখন একদিকে ভাসছে আনন্দে, অন্যদিকে উদ্বেগে। পরদিন বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলবে ফ্রান্স। হার-জিতের এই অন্তিম মুহূর্তে আমি বেড়াতে এসেছি এই ফ্রান্সে। রাতে একটি রেস্টুরেন্টে চায়ের দাওয়াত রাখতে গিয়ে দেখি এই রেস্টুরেন্টেরও মালিক আমার এলাকার। নাম এস আর আমিন। এক সময় তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার বাসিন্দা ছিলেন। প্যারিসে গিয়ে এমন অনেকের সঙ্গে দেখা হল, যারা দেশে বিভিন্ন জেলায় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের অনেকই দেশের রাজনৈতিক অবস্থার কারণে আশ্রয় নিয়েছেন স্বপ্নের এই ফ্রান্সে। গত কয়েক বছরে এই ফ্রান্সে শুধু রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন ২০ হাজার লোক। সন্ধ্যায় জমে উঠল আড্ডা। রাত যত বাড়ছিল আড্ডাও তত বাড়ছিল। যেমন আড্ডা আমি দেখেছি ইষ্ট লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপল, জেদ্দার গুলাইল সিটি ও নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইট্সে। রাতে দেখতে গেলাম প্যারিস গেইটি। আমার এই প্যারিস ভ্রমণে কয়েকজন মানুষের সৌজন্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রনি হাসান, কামরুল চৌধুরী, হেনু মিয়া ও জুবায়ের আহমদ। রনির বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জের চত্রিশ গ্রামে। রনির বাবা মরহুম নাজিম উদ্দীন ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা। রনিকে আগে আমি কখনো দেখিনি। কিন্তু সেই সকালে আমাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য হোটেলে এসেছে। তাকে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি প্যারিসের অনেক দর্শনীয় স্থান। প্যারিস সিটি ঘুরতে গিয়ে সেইন্ট মিশেল এলাকায় চোখে পড়ল বেশ কিছু বইয়ের দোকান। খোঁজ নিয়ে জানলাম, এসব দোকানে কর্মরত সবাই নাকি রিটায়ার্ড পারসন। চাকরি থেকে অবসর নিয়ে বৃদ্ধ বয়সে তারা সময় কাটানোর জন্য বেঁচে নিয়েছে বই বিক্রির এই পেশা।

আমাদের দেশের পানের দোকানের মতো ফুটপাতে এই স্টলগুলোতে বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। দোকানগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় দেখে বুঝলাম, ফরাসিরা কতটা বইপ্রেমী। এরই মধ্যে কামরুল চৌধুরী আমাদের নিয়ে গেলেন লা সাপেল এলাকায় একটি সাউথ ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে। এই সিটিতে সাউথ ইন্ডিয়ান ফুড বেশ জনপ্রিয়। পুরো ফ্রান্সে ৬০ হাজারের মতো বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ্য বসবাস করেন প্যারিস নগরে। তবে বাংলাদেশিদের মধ্যে বেশির ভাগই রেস্টুরেন্ট ও খাবার দোকানে কাজ করেন। কিছু লোক ব্যবসা বাণিজ্যও করেন। বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই থাকেন সারসেল ও কেতসীমা এলাকায়। আমি এই এলাকায় গিয়ে তাদের জীবনযাত্রা দেখার চেষ্টা করেছি।

২২ লাখ বাসিন্দার এই প্যারিস নগরের আয়তন ১০৫ বর্গ কিলোমিটার। পুরো ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যার ১৮ শতাংশ মানুষ বসবাস করে এই নগরে। পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির লালন কেন্দ্র হচ্ছে এই প্যারিস। শহরজুড়ে রয়েছে ১৭৩টি জাদুঘর। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত মিউজিয়াম হল ল্যুভর মিউজিয়াম। লিওনার্দো দ্য বিঞ্চির শ্রেষ্ঠ কীর্তি মোনালিসা চিত্রকর্মটি এখানে রক্ষিত আছে। শুধু মোনালিসা চিত্রকর্মই নয়, এই জাদুঘরে রয়েছে বিশ্বের খ্যাতনামা বিভিন্ন চিত্রকরদের আরও ৩ লাখ ৮০ হাজার চিত্রকর্ম। এই অমর কীর্তির জন্য বোধ করি প্রতি বছর সারা বিশ্ব থেকে ৯ মিলিয়নের বেশি পর্যটক আসে এই নগরে। অন্যদিকে কঠোর আইনের প্রয়োগ নগরটিকে যেন স্বর্গভূমিতে পরিণত করে রেখেছে। এই নগরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সিন নদী। আর এই নদীর ওপরে রয়েছে অনেক ব্রিজ। এসব ব্রিজ পায়ে হেঁটে পার হলে ব্রিজের রেলিংয়ে দেখা যাবে অসংখ্য তালা। এই তালাগুলোকে প্যারিসের ভাষায় ‘লাভ প্যাডলক’ বলা হয়ে থাকে।

এই তালাগুলোতে রয়েছে প্রেমিক–প্রেমিকাদের ভালোবাসার নিদর্শন। এখানকার প্রেমিক–প্রেমিকারা প্রতিটি তালায় তাদের নাম খচিত করে ব্রিজের রেলিংয়ে লাগিয়ে দিয়ে চাবি ফেলে দিয়েছে সিন নদীতে। ভালোবাসা প্রকাশের এমন রীতি ও সংস্কৃতির কারণে প্যারিসকে বলা হয় ভালোবাসার শহর। প্যারিস নগর দেখার জন্য দুই দিন মোটেই যথেষ্ট সময় নয়। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত সময়ে প্যারিস ঘুরে মনে হল, বিধাতা সব সম্পদ, রূপ আর জৌলুশ দিয়ে যেন গড়েছেন স্বপ্নের এই নগরকে। এ জন্য পুরো পৃথিবী থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ছুটে আসেন এই নগরের নান্দনিকতা উপভোগ করতে।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!