ভারত ও বিএনপি-মাহবুব সুয়েদ

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযোদ্বে সহায়তা এবং শরনার্থীদের আশ্রয় দানের কারনে ভারতকে আমি “মহান ভারত” নামে অভিহিত করতে কার্পণ্য করিনা।৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানি হায়েনাদের আক্রমনে দিশেহারা প্রায় ১ কোটি শরনার্থীদের শুধু আশ্রয়ই নয়,সেই সাথে যুদ্ব পরিচালনায় সার্বিক সহায়তা প্রদান থেকে নিয়ে আন্তর্জাতিক লবিং সবকিছুতে অকৃত্রিম সহায়তা করেছে ভারত।অনেকের মত আমিও বলব ভারত তাদের স্বার্থেই প্রতিদন্ধী পাকিস্তানকে ভাংতে সহায়তা করেছে তথাপি তাদের দেয়া সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করতেই হয় অন্তত নিজ দেশীয়দের বর্বর হামলার সময়।সেই ভারত কিন্তু আমাদের পুর্বপুরুষদের দেশ।মহান ভারত।ভারতীয় উপমহাদেশ।দ্বিজাতি তত্বের ভুতুড়ে দর্শনে আবেগাপ্লুত বাঙ্গাল দেশের মানুষেরা নিজেদের দুইভাগ হয়ে পাকিস্তানের অংশ হয়েছিল এবং ভারতকে শত্রুদেশ হিসেবে গ্রহন করেছিল।১৯৪৭ এ পাকিস্তান সৃষ্টির পর মাত্র ২৩ বছরের মাথায় স্বাদের পাকিস্তানের সাথে সব বিষয়ে বৈরিতার সুত্রপাত হলে ভারতের সহায়তায় আমরা স্বাধীন-স্বার্বভৌম জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি তা বলতে বা স্বীকারে কার্পণ্যের কিছু দেখছিনা। পাকিস্তানের বৈরীতায় যুদ্বের স্বীকার বাঙ্গালিরা স্বাধীন বাংলাদেশ গঠন করল ভারতের সহায়তায়।৭১এ দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর সময়ই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও সে দেশের ইন্টিলিজেন্স কাজ শুরু করে দেয় এদেশে তাদের খাস লোক নিয়োগ/তৈরির জন্যে।খোদ সরকারীদল আওয়ামীলীগে তারা ডজন ডজন খাস আদমি তৈরিতে সক্ষম হয়।শুরু হয়ে যায় স্বাধীন দেশের সরকার নিয়ন্ত্রের ঘৃন্য অপচেষ্টা।যার ফলশ্রুতিতে একবার মহান নেতা বঙ্গবন্ধু হুংকার দিতে বাধ্য হন এই বলে যে, আমি মুসলমান-আমি বাঙ্গালি।বাংলাদেশকে পদাবনত করে রাখার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল যা আজো চলমান।নানা ঘটনার পরিশেষে দেশ স্বাধীনের মাত্র চার বছরের মাথায় স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর নির্মম শাহাদাতের পর ক্ষমতার মসনদে আসীন হন ভার‍ত বিরুধী হিসেবে পরিচিত আওয়ামীলীগার খোন্দকার মোশতাক।নানা ঘটনার পরে অবশেষে দেশ পরিচালনায় আসেন রনাঙ্গনের বীরযোদ্বা ও বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। শহীদ জিয়া দায়িত্ব গ্রহন করে দেশে নতুন রাজনৈতিক দর্শন প্রবর্তন করেন।যা ছিল “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ”।স্বাধীন দেশের স্বার্বভৌমত্বের ভেতর বসবাসকারি সকল জাতিসত্বার একক পরিচয় “বাংলাদেশী” এই দর্শন জিয়াকে সারাদেশে জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি সদ্য স্বাধীন দেশের মাথা উচু করে দাড়ানোর ইঙ্গিত বহন করা শুরু করে।প্রতিবেশি ভারতের শক্তিশালি প্রতিদন্ধী রাষ্ট্র গনচীন স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশকে জিয়ার আমলে।আঞ্চলিক রাজনীতিতে বাংলাদেশ মাথা উচু করে অবস্থান জানান দিতে শুরু করে।জিয়ার “জাতীয়তাবাদ” ভিত্তিক দলে ভারত বিরুধী, আওয়ামী বিরুধীসব শক্তি একে একে সংহতি জানিয়ে এই দলের পতাকাতলে আসতে শুরু করে।সহজার্থ্যে বলা যায়, ব্যাক্তি জিয়ার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠা বা তার প্রতিষ্টিত দল অল্পদিনে সারা বাংলায় বিস্তৃতি ও জনপ্রিয়তা লাভের প্রধান কারন ছিল ভারত বিরুধী মানস ও স্বার্বভৌমের প্রতি কমিটমেন্ট।শহীদ জিয়ার সময় থেকে শুরু করে বেগম জিয়ার ৩ টার্ম সরকার পরিচালনা পর্যন্ত বিএনপি তাদের এ অবস্থান ধরে রেখেছে।আজ অবদি এদলে প্রায় বেশীরভাগ সমর্থকেরা ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরুধী মানস লালন করে আসছে।লীগ বিরুধী ও ভারতীয় গোলামি মানসের বিরুধীতাকারি প্রায় সবার কাছে এদলই ভরসাস্থল। জিয়াপত্নী বেগম খালেদা জিয়াও স্বামীর দেখানো পথে তার রাজনীতি শুরু করে আজ অবদি একিপথে ঠিকে আছেন।শত নির্যাতন, প্রলোভন বা অব্যাহত চাপ তাকে দলের আদর্শিক অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি।এজন্যে সামান্য গৃহবধু থেকে আসা নেত্রী আজ সারাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী।তার শত্রুরাও একথা স্বীকার করতে কুন্ঠিত হয়না।ভারত সফরে গেলে বেগম জিয়ার রাষ্ট্রনায়কোচিত “ফরেইন ডিল” দেশের সচেতন মহলকে আকৃষ্ট করত এবং তার দল ও ব্যাক্তিত্বের ওজন ভারী করত।সেই বেগম জিয়া আজ পড়ন্ত বয়সে নির্জন কারাগারে দন্ড নিয়ে দিনাতিপাত করছেন।প্রবাসে থাকা তার বড় সন্তান দলের সিনিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন পিতার রেখে যাওয়া দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান। কয়দিন আগে দেশীয় ও ভারতীয় মিডিয়ায় ফলাও করে বিএনপির তিন নেতার ভারত সফর নিয়ে খবর প্রকাশ হয়েছে।এবং বিএনপিও তাদের কাউন্টার পার্টের ন্যায় ভারতের সমর্থন লাভের প্রতিযোগিতায় দৌড়াচ্ছে বলে বাতাসে খবর ওড়ছে।তিন নেতার ভারত সফরে যাওয়ার এ সংবাদ সত্য এবং ভারতে গিয়ে দৌঢ়ঝাপের খবরও সঠিক।ছবিতে দেখেছি, তিন সদস্যের এ প্রতিনিধি দলে সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু , ব্যাবসায়ি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং বিএনপির রাজনীতিতে হঠাত করে উথ্বান হওয়া এক প্রবাসী যুবক যার নাম সম্ভবত হুমায়ুন কবির।ভারতে কী সংক্রান্ত আলোচনা তারা করেছে বা কতদুর এগিয়েছে তা নিয়ে খুব একটা স্পষ্ট কিছু জানা না গেলেও যাআ গিয়েছিল এ সফরে তাদের আমলনামা দেখে সুখকর সংবাদ আশা করছিনা বা স্বস্থিবোধ করছিনা।আমির খসরুর হঠাত উথ্বান ও দলে গুরুত্বপুর্ন হয়ে উঠা দেখেই কিছুটা অনুমান করা যায় কোন লবি কতদুর কাজ করছে।আর শেখ হাসিনার ঘনিষ্টজন আউয়াল মিন্টু বিগত জোট সরকার আমলে সরকার বিরুধী কাজে লিপ্ত ছিলেন সর্বদা।এখন হঠাত করে তার বিএনপি নেতা বনে যাওয়া দেখে তাজ্জবই বনতে হচ্ছে।অপরদিকে লন্ডনবাসি যার কথা উল্লেখ করেছি, সে কোনদিন বিএনপি করেছিল বলেও সেখানকার কেউ জানেনা।কিন্তু কী হবে দল না করলেও।আকাশ থেকে পরিচালিত হয় এ দল।লন্ডনবাসী এ যুবক এখন দলের কেন্দ্রীয় নেতা। দেশের জনগনের উপর আস্থা, স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বের প্রতি দরদী বিএনপি দেখে অভ্যস্ত দেশের জনসাধারন।এদলটির মুল পুজি হচ্ছে, ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরুধী অবস্থান ও দেশীয় ভৌগলিক সীমারেখার জাতীয়তাবাদ।এপথ ছেড়ে অন্যকোন পথে হাঠার মানে হবে আত্মঘাতী এবং এর জন্যে দলকে চরম মূল্য দিতে হবে।কারন, সব বিকিয়ে দিতে প্রস্তুত একপক্ষ থাকতে আপনাদের কোলে তুলে নিয়ে নাচার মত কাচা বিদেশনীতিতে বিশ্বাসী নয় ভারত।সুতরাং সাধু সাবধান।দেশ, দেশের জনগন ও নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখুন। লেখক: প্রবাসী কলামিস্ট ইমেইল- mksuyed@gmail.com

 

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!