ভারত: ইউরোপীয় ইউনিয়নে সিএএ আইন বিরোধী প্রস্তাব

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিতর্কের জন্য এবার প্রস্তাব গ্রহণ করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনার ঝড় উঠল।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড়সড় ধাক্কা খেল ভারত। সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টে গৃহীত হল সিএএ বিরোধী বিতর্কের প্রস্তাব। কাশ্মীরে সরকার এবং প্রশাসনের কার্যকলাপ নিয়েও ইইউ-তে রীতিমতো সমালোচিত হল ভারত। তবে পাল্টা জবাব দিয়ে ভারত সরকার জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক দেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি আইন পাশ হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৭৫১ জনের মধ্যে ৬০০ জনেরও বেশি সদস্য ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ এবং কাশ্মীরে প্রশাসনের আচরণের বিরুদ্ধে বিতর্কের প্রস্তাবে সম্মতি দেন। সেখানে বলা হয়, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে ধর্মীয় বিভেদের কথা বলা হয়েছে। ইইউ যার তীব্র নিন্দা করে এবং এর বিরোধিতা করে। শুধু তাই নয়, প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই আইন পাশ হওয়ার পরে দেশের ভিতরে অরাজক অবস্থা তৈরি হয়েছে। যা যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। এমনকী এই কথাও বলা হয়েছে, ভারতের এই আইন গোটা বিশ্বে সব চেয়ে বড় ‘রাষ্ট্রহীনতার’ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। যা উদ্বেগের এবং আশঙ্কার।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে এই প্রস্তাব পেশ হওয়ার পরেই ভারত সরকারের তরফ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। যাতে বলা হয়েছে, ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে পাশ করার একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি আছে। সংসদের দুই কক্ষে বিতর্কের পরে ভোটাভুটির মাধ্যমে আইনটি পাশ হয়েছে। আইনটি একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। একই সঙ্গে সিএএ-র পক্ষেও সওয়াল করেছে প্রশাসন। বলা হয়েছে, সিএএ কখনওই বিভেদকামী আইন নয়। প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘু জনগণকে আশ্রয় দেওয়ার কথাই কেবল বলা হয়েছে সেখানে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং এনআরসি-র নামে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের অবমাননা করছে বলে অভিযোগ৷ ছবিতে সে কথাই বলছেন জামিয়া মিলিয়ার ছাত্ররা৷ তাঁদের আন্দোলন সংবিধানকে বাঁচানোর৷

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিতর্কে প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে সংসদের ৬টি দল। বাম, উদারপন্থী, গ্রিন পার্টি, গণতান্ত্রিক খ্রিস্টান দল– সকলেই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রস্তাব পাশ হওয়ার আগে ভারতের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও এ দিন বলেছে দলগুলি। যা নিয়ে ভবিষ্যতে পার্লামেন্টে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বলা হয়েছে, সিএএ এবং কাশ্মীর বিষয়ে ভারত নরম মনোভাব না দেখালে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমঝোতার ক্ষেত্রে ভারতের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আগামী সপ্তাহেই এই বিষয়ে ইইউ পার্লামেন্টে বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা।

কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার কিছু দিন পরেই ইইউ-এর দক্ষিণপন্থী দলগুলির কয়েকজন সদস্যকে কাশ্মীরে নিয়ে গিয়েছিল ভারত সরকার। পরে সপ্তাহকয়েক আগে ফের ইইউ সহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে কাশ্মীরে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় ভারত। অন্য দেশগুলি রাজি হলেও ইইউ আপত্তি জানায়। বস্তুত, এর আগে ইইউ-এর সদস্যদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে তারা জানিয়েছিল, ওই সাংসদরা ব্যক্তিগত ভাবে কাশ্মীর গিয়েছিলেন। ইইউ এর প্রতিনিধি হিসেবে নয়। এ দিনের বিতর্কে সে প্রসঙ্গও উত্থাপিত হয়। ইইউ স্পষ্ট করে দেয়, কেন তারা কাশ্মীরে ভারত সরকারের আনুগত্যে যেতে রাজি হয়নি।

বস্তুত, ইইউ সদস্যরা কাশ্মীর যেতে রাজি না হওয়ার পরেই দেশের কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলেছিলেন, আগামী দিনে ভারত চাপের মুখে পড়তে পারে। এরই মধ্যে আগামী মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রাসেলস যাওয়ার কথা। ইইউ-এর এই প্রস্তাবের পর মোদীর সফর সূচিতে কোনও পরিবর্তন হয় কি না, সে জল্পনাও শুরু হয়েছে।

এসজি/জিএইচ (এনডিটিভি, টাইমস অফ ইন্ডিয়া, পিটিআই)

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!