বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর মান্নান স্বাধীনতাবিরোধী – মহিউদ্দিন আহমদ

বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নানের এই দেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ। যমুনা টেলিভিশনের টকশো ২৪ঘণ্টা’র আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, কথাবার্তায় আমরা কিছু ভিন্নতা দেখছি। বলা হলো যে, পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ। কে বললো এটা? মাহী বি. চৌধুরী। তাকে নিয়েও এখন আলাপ করতে হচ্ছে, কিছুই করার নেই।

এ সময় সাপ্লিমেন্টারি দিয়ে সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, উনি যে প্রস্তাবনাটি উত্থাপন করলেন- মাহী বি. চৌধুরীর। মাহী বি. চৌধুরী কিন্তু ইনডাইরেক্টলি বলেছেন, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ হচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী এবং তিনি তার বাবাকে বলেছেন- আমার বাবাও ভুল করেছেন।

টকশো’র সঞ্চালক বলেন, এটা কিন্তু ড. কামাল হোসেন এবং বি. চৌধুরী ঘোষণা দিচ্ছিলেন তখন সেখানেও এই বিষয়টি ছিল। পরে তিনি বিশ্লেষণ করেছেন।

এ পর্যায়ে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি একটা এক্সাম্পল দিই। মাহী বি. চৌধুরীদের পার্টি যেটা, এ পার্টির সেক্রেটারি কে?
টকশো’র অন্য আলোচক ও গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী উত্তর দিয়ে বলেন, মান্নান। আলোচক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, মান্নান সাহেব।

মহিউদ্দিন আহমেদ ফের প্রশ্ন করেন, মান্নান কে?

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, আবদুল মান্নান। বিএনপির লোক।

এবার মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, না- বিএনপির লোক তো হয়েছে বিএনপি হওয়ার পরে। ১৯৭১ সালে সে কে ছিল। মেজর মান্নান পাকিস্তানি আর্মির কমান্ডো অফিসার ছিল। তাদের গুলিতেই শমসের মবিন চৌধুরী আহত হয়েছে। আমি তাকে ইন্টারভিউ করেছি, সে বলেছে- তার নেতৃত্বে আনোয়ারায় একটি কমান্ডো বাহিনী নেমেছে, নেমেই এলোপাতাড়ি গুলি কইরা মানুষজন মারছে। পরে সে চলে যায় পাকিস্তানে, রিপ্যাট্রিয়ট হয়ে ফিরে এসেছে। বঙ্গবন্ধু তারে আর চাকরিতে পুনর্বাসন করে নাই। এই হলো মেজর মান্নান। যুদ্ধাপরাধী। যুদ্ধাপরাধী বলবো না, স্বাধীনতাবিরোধী। সেই হচ্ছে দলের সেক্রেটারি। তো এখন বাবা ভুল করছে, বাবা বলুক না- আমি ভুল করছি।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, চাচাও তো তাহলে ভুল করেছে।

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, পুরোটাই তো তাই। কোলের মধ্যে একজন সেক্রেটারি বানালেন, একটা লোককে- যে হইলো একদম মানে দেশবিরোধী। আপনি বলতেছেন, পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে ইয়ে…। তাহলে তো বাবার পক্ষ ত্যাগ করা উচিত তার। মাহী তখন ছোট ছিল বা জন্ম হয়নি- তাই সে হয়তো বলতে পারে আমার দায় নাই। কিন্তু মান্নান সাহেবের ব্যাপারটা তো সবাই জানে। এটা তো নতুন কিছু না। যে কারণে জামায়াতের রাজনীতি করা বা ইসলাম পছন্দ পার্টিগুলো ১৯৭১ সালে, পরবর্তীতে সংবিধানে যাদের রাজনীতির অধিকার ছিল না। একই অর্থে আমি তো মনে করি, মান্নান সাহেবদেরও রাজনীতি করার কোনো রাইট নাই এই দেশে। যতদিন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা আছেন।

উল্লেখ্য, বিকল্প ধারার সভাপতি প্রফেসর ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র স্বাধীনতা বিরোধীদের ব্যাপারে ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ’ দুটি শব্দ যুক্ত করা হয়। জাতীয় ঐক্যের ঘোষণার দিন বি. চৌধুরী বা তার দলের শীর্ষ কোনো নেতা উপস্থিত না থাকা ও পরে এক অনুষ্ঠানে বিকল্প ধারার অন্যতম শীর্ষ নেতা মাহী বি. চৌধুরী শব্দ দুইটির যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা রাজনৈতিক মহলে জন্ম দিয়েছে নানামুখী আলোচনা ও গুঞ্জন। 

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!