বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষার বেহাল দশা ও তার কারণ

মোঃ মোশারফ হোসেন

উপস্থাপনাঃ মহান আল্লাহ বলেনঃ “ তাদের (মুমিন) প্রত্যেক দলের মধ্যে একটি অংশ থাকবে যারা তাদেরকে দ্বীনের বিষয় বুঝাবে” সুরা তাওবা- ১২২। রাসুল (স) বলেনঃ “ আল্লাহ যার কল্যাণ চায় তিনি তাকে দ্বীনের বিষয় বুঝার সক্ষমতা দান করেন” বুখারি ও মুসলিম। প্রজ্ঞা নির্ভর একমাত্র ধর্মের নাম হল ইসলাম। আদি পিতা ও মানুষ হযরত আদম (আ) ফেরেস্তাদের সাথে জ্ঞানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া থেকে পবিত্র কুরআনের প্রথম অবতারিত বাণী “পড় তোমার প্রভুর নামে …” পর্যন্ত আসমানী ধর্মের সবটুকুই জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ এক পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা এ ইসলাম। জীবনের প্রতিটি স্তরের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য ইসলাম জ্ঞান চর্চা তথা শিক্ষা লাভ করার প্রতি যারপর নাই গুরুত্বারোপ করেছে।

ইসলামী শিক্ষা কীঃ সহজ কথায় বলতে গেলে- যে শিক্ষা মানুষকে পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান দান করে ব্যবহারিক জীবনে তার পরিপূর্ণ প্রতিফলন ঘটায় বা সহায়তা করে তাকে ইসলামি শিক্ষা বলে। এক্ষেত্রে ইসলামি শিক্ষার দুটি দিক রয়েছে- একটি হল পরকালীণ অপরটি হলো পার্থিব। পরকালীণ বিষয় সম্পূর্ণ ওহী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আর পার্থিব বিষয় ওহীর নির্দেশনা ও কল্যাণকর উদ্ভাবনী দ্বারা পরিচালিত। এর সমর্থনে রাসুল (স) বলেনঃ “ আমাকে পরকালীণ জ্ঞান বেশি দেয়া হয়েছে আর তোমাদেরকে দুনিয়াবী জ্ঞান বেশি দেয়া হয়েছে”। শিক্ষা মানে হচ্ছে – যে জ্ঞানার্জনের ফলে মানুষের দৈহিক,মানসিক ও আত্মিক উন্নতি ঘটে। আর এ উন্নতিকে বলা জাতির মেরুদণ্ড। এ কথা শতসিদ্ধ যে, যে দেহের মেরুদণ্ড যত মজবুত সে দেহ তত বেশি শক্তিশালী। তাহলে মুসলিম জাতির মেরুদণ্ড কেমন তা নির্ভর করে এ জাতির শিক্ষার মানকেমন তার উপর। উপমহাদেশ থেকে পৃথক হওয়া এ দেশটি মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের স্বাধীনতাকেই বুঝানো হয়। যেখানে ধর্ম,শিক্ষা, অর্থনীতি ও রাজনীতি ছিল প্রধান বিষয়। অর্থাৎ এসকল বিষয়ে মুসলামানগণ উন্নতি করবে স্বাধীনতার মাধ্যমে। অথচ সময় জন্ম দিয়েছে ‘কিন্তু’! ভারতীয় উপমাহাদেশে যখন প্রশাসনিকভাবে ইসলামের আগমন ঘটে তখন থেকেই এখানকার মানুষেরা ইসলামী শিক্ষা লাভ করেন দ্বীনের উচ্চশিক্ষিত দায়ীদের কাছ থেকে বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায়। আর তা ছিল সনদ বিহীন এবং একমাত্র দ্বীনের স্বার্থে। আর সে শিক্ষার ফলও ছিল শতভাগ কার্যকরী। যার প্রমাণ অন্য ধর্মের মানুষেরা ইসলাম গ্রহণ করত অগণিত সংখ্যায়। তৎকালীন ইসলামী শাসন ও শিক্ষার প্রভাব সমাজ ও দেশের শেকড় থেকে শিখরে বিস্তৃতি লাভ করেছিল। প্রাক ব্রিটিশ উপমাহদেশে মুসলমনদের ইতিহাস যার জ্বলন্ত সাক্ষী। ব্রিটিশরা ভারত দখলের পর ইসলামী শিক্ষা মারাত্মক আহত হয়ে এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে সে দুর্বলতা আজ পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এঅঞ্চলে  সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সামাজিক, রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক,সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হলেও দুখঃজনক বাস্তবতা হয়নি ইসলামী শিক্ষার তুলনামূলক বিকাশ ও উন্নতি। ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগণ মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নেই ইসলামী শিক্ষার লালন,নেই শাসন ও বিচার ব্যবস্থা এবং তৈরি হয়নি সময়োপযুগী ইসলামী চেতনা সমৃদ্ধ জাতি। এ ছাড়াও রয়েছে আরো কিছু কারণ-

প্রশাসনিক কারণঃ ব্রিটিশরা মুসলমানদের কাছ থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়ায় পরস্পরের সম্পর্ক ছিল সাপে নেউলে। খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী ব্রিটিশদের ঘৃণাবোধ থেকে সরকারী সব ধরণের সুবিধা বঞ্চিত মুসলিমগণ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুললে ব্রিটিশ সরকার ইসলামী শিক্ষালয়, পাঠাগার,মসজিদ ও দ্বীন শিক্ষার সব ব্যবস্থাপনার অর্থনৈতিক শেকড় কেটে দিয়েছিল এবং হাজার হাজার আলেম ওলামাকে হত্যা করেছিল। ফলে মুসলমানদের শিক্ষা ব্যবস্থা আত্মগোপনে চলে যায়। ব্রিটিশরা দেশ ছাড়লেও আর কোন প্রশাসনিক ক্ষমতা ইসলামী শিক্ষার হাল ধরেনি। বরং মুসলমানদের দেশে ইসলামী শিক্ষার সিলেবাস কাটছাট হয়েছে শতবার। এখনও বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা নানা শর্ত আর আইনি বেড়াজালে বন্দি।

 ভৌগোলিক কারণঃ যে কোন শিক্ষা বিস্তারে ভৌগোলিক অবস্থান এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দু’বার স্বাধীন হওয়া (ব্রিটিশদের কাছ থেকে একবার পাকিস্তানের কাছ থেকে একবার) বাংলাদেশ সবসময়ই ছিল শোষিত অবস্থানে। ফলে এ ভূখন্ডে গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা,খরা-ঝরা,ঝড়-তুফান,জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্পসহ নানান দুর্যোগ সব সময়ই একসারিতে দাঁড় করিয়েছে ধনী-গরিব উভয়কে। ফলে সফল হয়নি কোন শিক্ষাই। রাষ্ট্রীয় শাসনও ছিল সব সময়ই হাজার মাইল দূরে।

দারিদ্রঃ বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষার পথে প্রধান অন্তরায় হলো এই অঞ্চলের দারিদ্র পীড়িত ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতি। কৃষি নির্ভর দারিদ্র ক্লিষ্ট অধিবাসীদের খাদ্যের যোগান দিতেই যেখানে জীবন হাফিয়ে ওঠে সেখানে পয়সা খরচ করে উচ্চতর ইসলামী ইলম অর্জন করার অভিলাষ খুব বেশি মানুষের ভাগ্যে জোটেনি অতীতেও এমন কি বর্তমানেও। এখনো ইসলামী শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই দরিদ্র পরিবারের। যাদের ধর্মীয় উচ্চশিক্ষার প্রতি কোন স্পৃহা জন্মাতে দেয় না সংসারের অভাব নামের পিছুটান। আজও কর্মসংস্থানের টানে অনেক মেধাবীরা পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। দারিদ্রের কষাঘাতে অর্থেরদিকে ছুটতে দেখা যায় এ দেশের সকল আলেমদেরকেই।

সামাজিক কারণঃ আমাদের সমাজের চরম বাস্তবতা হচ্ছে ইসলামী শিক্ষাকে সব সময়ই বাকা চোখে দেখা হয়। অতীত (ব্রিটিশ শাসন কাল) থেকে বর্তমান ইসলামী শিক্ষা যেন সমাজে এক অবহেলিত অপ্রয়োজনীয় এক প্রথার নাম। সামাজিক এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থামিয়ে দিয়েছে ইসলামী শিক্ষার গতি এবং ঘুরিয়ে দিয়েছে ইসলামী জীবন ধারা। আজ তা কতটা ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছে তার সাক্ষী প্রতিটি মুসলমান।

রাজনৈতিক কারণঃ উপমহাদেশে শত শত বছর ধর্ম ভিত্তিক কোন রাজনৈতিক শক্তি অনুপস্থিত থাকায় অন্যান্য মতবাদীয় রাজনৈতিক শক্তি রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ইসলামী শিক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ ও করুণা করেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর এ শূন্যতা ও দৈন্যতা ইসলামী শিক্ষাকে আষ্টেপিষ্ঠে বেধে রেখেছে। যার উদাহরণ ৯০% মুসলমানদের শিক্ষা নীতিতে উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা সকল স্তরে ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত। যদিও কিছু কিছু সরকারী-বেসরকারী অপ্রতুল প্রচেষ্টা রয়েছে তা জাতির তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারছেনা।

মিশ্র ভাষা ও সংস্কৃতিঃ ইসলামের ভাষা আরবি আর আমাদের ভাষা বাংলা হলেও ধর্ম শিক্ষা ক্ষেত্রে উর্দু, ফার্সি, পশতু ও অন্যান্য নানান ভাষা ইসলামী শিক্ষাকে অনেকটা গলাচেপে ধরে রেখেছে আবহমান কাল থেকে। যদিও অন্য ভাষা শিক্ষা করা ইসলামে অনুমোদিত। কিন্তু কখনো কখনো ভাষা শিক্ষাই যেন ধর্ম বনে গিয়েছিল অনেক সময়। যার উদাহরণ বাংলাভাষায় পর্যাপ্ত ইসলামী সাহিত্য না থাকা। আর অধিকাংশ নাগরিক মুসলমান হলেও অন্য ধর্মের ধর্মীয় রীতি হয়ে গেছে বাংঙ্গালি সংস্কৃতি। সংস্কৃতি সব সময়ই শিক্ষার সহগামী হয়ে থাকে।

অপরিপক্ক সিলেবাসঃ ইসলামী শিক্ষা উৎকর্ষতা না পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো সময়ের সাথে চাহিদানুপাতে পরিবর্তিত অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিলেবাস না থাকা। অপ্রাসঙ্গিক সিলেবাস দিকভ্রম নৌকার মত। আজও পর্যন্ত জাতীয় পর্যায় থেকে ইসলামী শিক্ষার একমুখী স্তরবিন্যাস আকারে যুগোপযুগী সিলেবাস দেয়া যায়নি। পরিপূর্ণ ধর্ম ইসলামের শিক্ষা জাতি থেকে যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দেশের মাদ্রাসা গুলো যার যার মত সিলেবাস গ্রহণ করছে নিজেদের প্রয়োজনানুযায়ী। ফলে ইসলাম ধর্ম যেন এক বিতর্কের বিষয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

ভ্রান্ত ধর্মগুলোর কুপ্রভাবঃ বাংলাদেশে ইসলামের আগমন প্রায় হাজার বছর হলেও এ দেশের পূর্বে অবস্থান করা অন্যান্য জাতির ধর্ম বিশ্বাস ও কর্ম মুসলমানদের মাঝে বিভিন্ন রুপে প্রবেশ করায় অনেক সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কার নামক ব্যাধি থেকে মুক্ত করা যায় নি ইসলামী শিক্ষার অভাবে। বরং বিভিন্ন সময়ে সমন্বয়ের সুযোগে স্থায়িত্বপায় ভ্রান্ত আকিদা এবং পরবর্তীতে এর কুপ্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ইসলামী শিক্ষা। এ সকল ভ্রান্ত ধর্ম গুলোর যেমন হিন্দু,বৌদ্ধ,জৈন,খ্রিস্টান ধর্মের ধ্যান,মারিফত চর্চা,প্রভু দর্শন পদ্ধতি তন্ত্র বিদ্যা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া ইসলামী শিক্ষার বিশাল জায়গা জুড়ে শিয়া,মু’তাযিলা,খারেজি আক্বিদারও নীরব অনুপ্রবেশ বিরাট ক্ষতি করেছে যার তেমন সংস্কার করা হয়নি।

 

ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা পদ্ধতিঃ প্রতিটি শিক্ষা ব্যবস্থা বিকাশ ঘটে তার উচ্চতর গবেষণা,উদ্ভাবনী, শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কৌশলের উপর ভিত্তি করে। আমাদের দেশের ইসলামী শিক্ষা ক্ষেত্রে এর কোনটিই নেই বললেই চলে। যা আছে তার প্রয়োগ হয়ত বাণিজ্যিক নয়তো তলানীতে। সময়ের চাহিদায় অন্যান্য শিক্ষা যেখানে প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে সামনের দিকে অগ্রসরমান সেখানে আমাদের দেশের ইসলামী শিক্ষা শেকেলে পদ্ধতিতেই মজ্জা পুকুরের অবস্থা। দুঃখ জনক বাস্তবতা হচ্ছে অধিকাংশ ইসলামী ব্যক্তিত্ব আধুনিক ডিভাইস ব্যবহারে নিজেরা যেমন অদক্ষ তেমনি তারা এগুলোর সাহায্যে জ্ঞানার্জনকেও নিরুৎসাহিত করেন।

দলাদলিঃ আমাদের দেশের ইসলামী শিক্ষা যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরেই সীমাবদ্ধ তাতে কোন সন্দেহ নেই। সমাজে যারা আলেম,মুফাসসির,মুফতি,মুহাদ্দিস নামে পরিচিত তারা আসলে ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমিক স্তর পাড়ি দিয়েছেন খুব কম সংখ্যকই। কথায় আছে ‘অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী’ সত্যিই সমাজে ব্যবহারিক জীবনে ইসলামের অনুপস্থিতি ও দলাদলির মূল দায়িত্ব যেন তারাই নিয়েছেন। দাওয়াতি কাজের নামে তারা মানুষের মাঝে ধর্মীয় আবেগ তৈরি করেছেন ঠিকই জাতিকে সংগঠিত করতে তারা ব্যর্থতার পরিচয়ও দিয়েছেন হতাশার সমান। বাহ্যত দেখা গেছে প্রাতিষ্ঠানিক সনদ গ্রহণের পর জীবনে আর কিতাবের সাথে দেখা হয়না তথা কথিত বেশিরভাগ আলেমের।

 যোগ্য নেতৃত্বের অভাবঃ ব্রিটিশ সময়ে অঘোষিত নির্বাসনে পাঠানো ইসলামী শিক্ষার কোন সরকার যেমন হাল ধরেনি তেমনি তেমন কোন যোগ্য নেতারও আবির্ভাব হয়নি যিনি ইসলামী শিক্ষাকে এ দেশের জাতীয় বুনিয়াদি শিক্ষায় রুপ দান করেন। যার ফল আমরা দেখতে পাই সবার গ্রহণযোগ্য ফকিহ,মুফাসসির বা মুহাদ্দিসের অনুপস্থিতি। যদিও দু-চার জনের আবির্ভাব হয়েছে তাদেরকে যে কারণেই হোক সফল হতে দেয়া হয়নি।

দুনিয়ামুখীতাঃ ইসলাম পরকালকে প্রাধান্য দেয়া ও দুনিয়াকে পরকালের উত্তম ক্ষেত্রে পরিণত করার এমন উন্নত ধর্মের শিক্ষাব্যবস্থা যাদের হাতে তারা যদি উল্টো পথে হাটে তখন সে শিক্ষা ব্যবস্থার যে পরিণতি হতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমাদের সোনার বাংলাদেশ। এ শিক্ষার কর্ণধারদের শতধা বিভক্তির সবচেয়ে বড় কারণ হলো দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয়া। যার উদাহরণ দেখা যায় বিভিন্ন সেক্যুলার দলে নিজেদের বিকিয়ে দেয়া, অর্থ আর স্বার্থের লোভে ইসলাম বিরোধী ও বিদ্বেষীদের কর্মী হয়ে যাওয়া, বিভিন্ন লবিং-গ্রুপিংয়ে নেতৃত্ব বা তোষামোদে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

পরিশেষে বলব এতদ সত্ত্বেও সর্বকালে ও সর্ব যুগে কিছু নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তি থাকে যারা দ্বীনের গোড়ায় প্রাণ শক্তি সিঞ্জিত করে যায় নীরবে-নিবৃত্তে। যাদের ত্যাগ আর তিতিক্ষার ফলে এত কারণ ও বারণ থাকার পরেও ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষা আজও আলো দিয়ে যাচ্ছে গ্রীষ্মের মধ্য দুপুরের ত্যাজদীপ্ত সূর্যের ন্যায়। ইদানিং কিছু জ্ঞান পিপাষু ব্যক্তিবর্গ আধুনিক যুগে এসে ইসলামী শিক্ষার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে নিজেদের তৈরি করে নিচ্ছেন সময়ের চাহিদায় ধর্মের প্রয়োজনে। প্রতিটি মুসলমানের উচিত উল্লিখিত কারণ ছাড়াও আরো যত বাধা ইসলামী শিক্ষার কণ্ঠ রোধ করতে চায় তার জন্য সচেতন ও সোচ্চার হওয়া। এ দায়িত্ব সবার। আল্লাহ ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে প্রত্যেকের প্রচেষ্টাই ক্ববুল করুন; আমিন।

মোঃ মোশারফ হোসেন

এম.ফিল গবেষক

ঘাটাইল টাংগাইল।

professormosharafiu@gmail.com

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!