বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার খায়রুজ্জামান মালেশিয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

কুয়ালালামপুর: গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার মোহাম্মদ খায়রুজ্জামানকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

তার স্ত্রী রীতা রহমানের ভাষ্যমতে, কয়েক মিনিট আগে তিনি তাকে ফোন করেছিলেন সুখবরটি জানাতে।

“তিনি আমাকে বলেছিলেন যে তার আইনজীবীরা তাকে গ্রহণ করতে সেখানে ছিলেন এবং তাকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে আনছেন।

“আল্লাহর শোকরিয়া এবং যারা তার মুক্তিতে সাহায্য করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ । আমি এর জন্য মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানাই,” তিনি একটি সাক্ষাৎকারে এফএমটিকে বলেন।

খায়রুজ্জামানের আইনজীবী এনজিও চৌ ইং বলেন, তার মুক্তির ক্ষেত্রে কোনো শর্ত বাঁধা হয়নি এবং তিনি এখন একজন মুক্ত মানুষ।

“আমাদের অফিসে দুপুর ১টার দিকে তার মুক্তির কথা জানানো হয়েছিল এবং আমাদের তাকে আসতে বলা হয়েছিল,” তিনি FMT কে বলেছেন।

৭০ বছর বয়সী খায়রুজ্জামান বলেন, তার মুক্তির কথা বলা হলে তিনি অভিভূত হয়েছিলেন এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আদালত, তার আইনজীবী এবং মালয়েশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

“বাংলাদেশ সরকারের এই মিথ্যা অভিযোগে আটক হওয়ার পর আমি অনেক বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিলাম।

“আমার পরিবারের সদস্যরাও উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল এবং তারা আমার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত চিন্তিত ছিল,” তিনি একটি ফোন সাক্ষাত্কারে এফএমটিকে বলেছিলেন।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে পাবলিক ডোমেনে অনেক অফিসিয়াল রেকর্ড এবং নথি রয়েছে যা দেখায় যে তিনি কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।

“এই মুহূর্তে, আমি যা করতে চাই তা হল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমার স্ত্রীর সাথে দেখা করা।

“আমার মুক্তির পরপরই আমি তার সাথে ফোনে কথা বলেছিলাম এবং সে খুব আনন্দিত,” তিনি বলেছিলেন।

https://www.freemalaysiatoday.com/category/nation/2022/02/16/former-bangladesh-envoy-released-from-custody/

স্থগিতাদেশ

গতকাল মালেশিয়ার আদালত খায়রুজ্জামানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়ে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারী পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।

বাংলাদেশ সরকার তাকে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিলেও বাধা হয়ে দাড়িয়েছে জাতিসঙ্ঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশ সরকার এম খায়রুজ্জামানের পাসপোর্ট বাতিল করার পর শরনার্থী হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। তাই তাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারে না। কারণ এতে তার জীবন বিপন্ন হওয়ার শঙ্কা আছে।

খায়রুজ্জামানের স্ত্রী রিতা রহমান আইনি লড়াই করেছেন তাকে মালয়েশিয়ায় রাখতে। তিনি  গতকাল দেশটির সংবাদ মাধ্যমে বলেন, তার স্বামীকে বাংলাদেশে পাঠালে তাকে মেরে ফেলা হবে। কারণ সে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তাছাড়া সে একজন রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থী এবং তার বৈধ শরনার্থী কার্ড রয়েছে।

খায়রুজ্জামানের আইনজীবী বলেন, আমরা আদালতে আবেদন করেছি এম খায়রুজ্জামানকে হাজির করা সহ তাকে নিজ দেশে ফেরতের প্রক্রিয়া স্থগিত করে তাকে মুক্তি দিতে।

খায়রুজ্জামানকে গ্রেফতারের খবর আসার পর বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, অভিবাসন আইন ভাঙায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার নিজ দেশের অনুরোধেই খায়রুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে।

১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ায় শরণার্থী হিসেবে বসবাস করে আসছেন সাবেক মেজর এম খায়রুজ্জামান। তার বিরুদ্ধে ১৯৭৫ সালে কারাগারে চার জাতীয় নেতাকে জেল হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হাই কমিশনার করে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয় তাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়। কিন্তু প্রাণের ভয়ে তিনি কুয়ালালামপুর থেকে জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী কার্ড নিয়ে সেখানেই থেকে যান।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!