বাংলাদেশের রাজনীতি ২০১৩ থেকে ২০১৮(তৃতীয় কিস্তি)– মাহমুদুর রহমান

তৃতীয় কিস্তি

০২ জুলাই ২০১৮

২০১৫ এবং ২০১৬ সালের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি জেলের ভিতরে থেকেই যথাসম্ভব বুঝবার চেষ্টা করেছি। বিএনপির মহাসচিবসহ দেশের প্রধান বিরোধী দলটির অসংখ্য নেতা-কর্মীর জেলজীবনের সংগ্রামও একেবারে কাছ থেকে দেখেছি। ২০ দলীয় জোটের অনেক নেতা এবং কর্মী সেই সময় প্রায় প্রতিদিন গ্রেফতার হয়ে কাশিমপুর জেল ভরে ফেলেছিলেন। বিএনপির কথিত মিত্র জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য অংশ যুদ্ধাপরাধী মামলায় অনেক আগে থেকেই কারাবন্দী ছিলেন। ২০ দলের বাইরে একসময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ছাত্রনেতা এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়রত বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে কী এক টেলিফোন আলাপের অভিযোগে একই সময় দীর্ঘদিন কাশিমপুর কারাগারেই আটক রাখা হয়েছিল। মান্না এবং শওকত মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন এবং সমাজে সম্মানিত রাজনৈতিক নেতাকে ফ্যাসিস্ট প্রশাসন ডিভিশন না দেয়াতে তাদের সঙ্গে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখা সম্ভব হতো না। তবে ডিভিশন ওয়ার্ডে আমার প্রতিবেশী যারা ছিলেন তাদের সাথে স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতি প্রসঙ্গেই বেশি আলাপ হতো। সেই অলস আলাপচারিতায় বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেউ কেউ তাদের রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা আমার কাছে প্রকাশ করতেন। এ সব আলোচনা থেকে আমি দলটির রাজনীতিতে যে পরিবর্তনের আভাস পেতে শুরু করেছিলাম তার কথা খানিক পরে বলছি। আগে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যকার বিচিত্র ভালোবাসা এবং ঘৃণার (Love-hate) রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা না বললে বাংলাদেশের রাজনীতির প্রকৃত চিত্র পাঠকের কাছে পরিস্কার হবে না।

মনোযোগী পাঠক নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে জামায়াতকে আমি বিএনপির কথিত মিত্র বলেছি। ২০০১ সালে দলদু’টি চার দলীয় জোটের ব্যানারে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করেছিল। চার দলীয় জোট সরকারে জামায়াতে ইসলামীর দুই শীর্ষ নেতা কেবিনেট মন্ত্রীও ছিলেন। কিন্তু, দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মধ্যে কখনই বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। বরঞ্চ অনেক সংসদীয় আসনেই বিএনপি এবং জামায়াত পরপস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় তারা প্রায় একই ভোটব্যাংকের উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, চাপাই-নবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ, পাবনা, দিনাজপুর, রাজশাহী, কক্সবাজার এবং দক্ষিন চট্রগ্রামে আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি-জামায়তের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে তীব্র বৈরিতা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার পর থেকে সেই বৈরিতা একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। কারন ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদেও তো এখন মূল দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। সেখানেও তো জোটের প্রশ্ন। মনোনয়ন নিয়ে টানাটানি প্রশ্নে স্মরণ করন যেতে পারে যে, ২০০১ সালের নির্বাচনকালে জামায়াতে ইসলামীকে দক্ষিন চট্রগ্রামে একটি আসন ছেড়ে দেয়াকে কেন্দ্র করেই বিএনপির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা কর্ণেল অলির সঙ্গে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মতবিরোধের জন্ম হয়েছিল। কর্ণেল অলি চন্দনাইশ এবং সাতকানিয়া থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ঐ নির্বাচনে সাতকানিয়া আসনে বিএনপি এবং জামায়াত উভয়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। ত্রিমুখী লড়াইয়ে জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী বিএনপির কর্নেল অলি এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করেছিলেন। অসন্তুষ্ট কর্ণেল অলি ২০০৬ সালে জোট সরকারের অন্তিম লগ্নে বিএনপি ভেঙে এলডিপির জন্ম দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছিলেন। এক-এগারো আসলে একদিনে সৃষ্টি হয়নি। জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামী শক্তিকে বিভক্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিলীন করে দেয়ার চক্রান্ত ২০০১ সালে চার দলীয় জোট সরকারের বিপুল বিজয় লাভ করার পর থেকেই শুরু হয়েছিল।

যদি আরো প্রশ্ন উত্থাপন করা যায় যে, বিএনপি এবং জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের মধ্যে কি প্রীতির সম্পর্ক রয়েছে? আমি অন্তত এক মুহুর্ত বিলম্ব না করে বলবো, না নেই। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল এবং শিবির এক অপরের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের মধ্যে বিবাদ এবং বৈরিতা ছাত্রলীগের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। সেই আশির দশক থেকেই যখন ছাত্রদলের সোনালী সময়, চারদলীয় জোটভূক্ত দুই দলের ছাত্র সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের তীব্র লড়াই চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল এবং ছাত্রলীগের সামনে শিবিরের কোন উল্লেখযোগ্য অবস্থান না থাকায় সেখানে ছাত্রদল এবং শিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সুযোগ ছিল না। কিন্তু, চট্রগ্রাম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্ন ইতিহাস। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ এবং শিবিরের ত্রিমুখী সংঘর্ষে কেউ কাউকে ছাড় দেয়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল এবং শিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষে অনেকগুলো মূল্যবান প্রাণ ঝরে গেছে। সেই লড়াইয়ে সেক্যুলারিজম এবং প্রগতিশীলতার দাবীদাররা ছাত্রদলকে সমর্থন দিয়েছে। অতীত তিক্ততার ফলস্বরূপ আজ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামে ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবির ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। আশির দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রধান শক্তি সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আদলে কোন প্ল্যাটফর্ম তৈরী করা আজও সম্ভব হয়নি। এই অনৈক্যের পুরো ফায়দা লুটছে ক্ষমতাসীন অবৈধ এবং তাবেদার সরকার। আজ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য। তারা ছাত্রদল এবং শিবিরকে বিশ্ববিদ্যালয় এবং হল থেকে বিতাড়িত করেছে। এই যে, সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা অসীম সহসে ভর করে কোটা বিরোধী আন্দোলন চালাচ্ছে, সেখানেও ছাত্রদল এবং র্শিবির কোন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারছে না। অথচ এমন জনপ্রিয় এবং যৌক্তিক ইস্যুতে সরকারের অবস্থা টাল-মাটাল হয়ে যেতে পারতো।

রাজনীতি এবং ব্যক্তিজীবনচর্চা- উভয় ক্ষেত্রেই বিএনপি এবং জামায়াতের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। ভারত এবং পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহ সচরাচর বিএনপিকে ইসলামপন্থী দলের ব্র্যাকেটে ফেলে থাকলেও দলটির নেতৃত্বের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ চিন্তা-চেতনা এবং জীবন যাত্রায় পুরোপুরি সেক্যুলার । প্রেসিডেন্ট জিয়া দলের প্রতিষ্ঠালগ্নে বাঙালী মুসলমানের আত্মপরিচয়ের সন্ধানে যুক্তিসঙ্গত ভাবেই ইসলামকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু, ইসলাম বিদ্বেষী পশ্চিমা এবং ভারতীয় শাসকশ্রেণীর সমর্থন লাভের আশা এবং পরিবর্তিত কৌশলের কারনে দলের বর্তমান নীতিনির্ধারকরা ইসলামের যে কোন উল্লেখে বিব্রত বোধ করে থাকেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলাম ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির মতই একটি ধর্মভিত্তিক দল। তাদের ইসলামী রাজনীতির ব্যাখ্যা ভুল না শুদ্ধ এ নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই। আমি এই নিবন্ধে বাংলাদেশের রাজনীতির প্রকৃত চিত্র সততার সঙ্গে পাঠককে কেবল দেখানোর চেষ্টা করছি। বিএনপির নেতৃত্বের এক বিপুল অংশ জামায়াতে ইসলামীকে এক পরিত্যাজ্য বোঝা হিসেবেই বিবেচনা করে। তাদের মধ্যে এমন চিন্তা-চেতনার ব্যক্তিরাও রয়েছেন যারা ১৯৯৮ সালে প্রধানত: মরহুম আনোয়ার জাহিদের উদ্যোগে চারদলীয় জোট সৃষ্টিকে দুই দশক পরে ভুল বলতে চান। প্রখ্যাত সাংবাদিক আনোয়ার জাহিদ তখন বেগম খালেদা জয়ার তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৫ সালের গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি প্রস্তাব গ্রহন করে। সেই প্রস্তাবে সরকারের দমন নীতির সমালোচনা করার পাশাপশি বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের পরামর্শ দেয়। আমার জানামতে বিএনপির অনেক নেতাই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ওই প্রস্তাব সর্বান্তকরনে সমর্থন করেন। দুই ভিন্ন আদর্শের দুটি দলের দীর্ঘ দিন ধরে এক অনিচ্ছুক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে থাকার বিশেষ কোন লাভ আমিও খুঁজে পাই না। রাজনীতিতে নি:সঙ্গ হয়ে পড়ার ভীতি থেকেই সম্ভবত: জামায়াত জোটকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়। অন্যদিকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক মহল সম্ভবত: ভোটের সমীকরন এবং রাজপথের আন্দোলনে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তির প্রতি নির্ভরশীলতার বিবেচনা থেকেই চুড়ান্ত বিচ্ছেদে যেতে চাচ্ছেন না। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ভোট ভাগাভাগির প্রেক্ষাপটেই পরবর্তী দুই দশকের মধ্যে বাংলাদেশে কেবল ফ্যাসিস্ট শাসনই কায়েম হয়নি, দেশটিও তার সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে। জামায়াত এবং বিএনপির এই রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে হয়তো অনেক যুক্তি রয়েছে। তবু আমি মনে করি আদর্শিক ঐক্য না থাকলে, কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে গঠিত এই জাতীয় জোটের আয়ু যেমন দীর্ঘ হতে পারে না, তেমন করেই এই ভঙ্গুর জোটের শক্তি দিয়ে বাংলাদেশের মত ফ্যাসিবাদী, পুলিশী রাষ্ট্রে কোন কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলাও সম্ভব নয়। বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে অবশ্যই বর্তমানে কর্মসূচিভিত্তিক এবং সময়মত নির্বাচনী জোট গঠিত হতে পারে। সেই জাতীয় জোটে অন্যরাও যোগদান করতে পারেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর প্রায় প্রতিদিন জাতীয় ঐক্যের আহবান জানাচ্ছেন। সেই ঐক্য প্রক্রিয়ায় জামায়াতসহ এদেশের সার্বভৌমত্ব এবং গনতান্ত্রিক রাস্ট্রব্যবস্থায় বিশ্বাসী প্রতিটি দল সম্পৃক্ত হতেও কোন বাধা নেই। দেশের স্বাধীনতাকামী জনগনেরও সেটাই প্রত্যাশা। কিন্তু, বর্তমান চেহারায় ২০ দলীয় জোটকে টেনে বেড়ানোর কোন অর্থ আামি অন্তত: খুঁজে পাচ্ছিনা। বরঞ্চ, জোটের ভারমুক্ত হয়ে যার যার দলের আদর্শ অনুসারে রাজনীতি চর্চা করা হলেই সাংগঠনিকভাবে অধিকতর শক্তিশালী হয়ে ওঠা সম্ভব। আমি এটা জেনেই উপরোক্ত মত প্রকাশ করছি যে, আমার মতের প্রবল বিরোধীতা উত্থাপিত হবে। মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি বলেই আমার কাছে সকল বিষয়ে সুস্থ বিতর্কই কাম্য। যাই হোক, বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষন করতে গিয়ে বিএনপি এবং জামায়াতের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোকপাতের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি। আমার কোন রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই। নেতা-নেত্রীর হাতে ফুল দিয়ে কোন দলের সদস্য হওয়ার বাসনাও আমার কখনও হয়নি। কে আমাকে বন্ধু বললো, কারই বা প্রশংসা পেলাম সে সব মাথায় নিয়ে আমি কখনও কলম ধরিনা। নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে যা সত্য বলে অনুভব করি তাই লিখে যাই। পাঠকরা যে যার মত করেই বিবেচনা করবেন।

২০১৬ সালের নভেম্বরের ২৩ তারিখে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পাই। আগেই বলেছি জেল থেকেই বিএনপির রাজনীতির পরিবর্তনের আভাস পাচ্ছিলাম। প্রকাশ্যে না বললেও দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, অবসরপ্রাপ্ত বিএনপি সমর্থক আমলাগোষ্ঠী এবং দলসমর্থক বুদ্ধিজীবীদের উল্লেখযোগ্য অংশ অনানুষ্ঠিক আলোচনায় ততদিনে বলতে শুরু করেছেন যে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে অংশগ্রহন না করার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি সমালোচনার সাহস করে উঠতে না পেরে তারা তখন বর্জনের সিদ্ধান্তের পিছনের বলির পাঠাদের (Scapegoat) ) খুঁজছেন। আমি ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল থেকে জেলে থাকলেও বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিস্ময়করভাবে আমাকেও পাঠাদের দলভূক্ত করেছেন। পরাজিত মানুষরাই দূর্বলতা ঢাকতে বলির পাঠা খুঁজে বেড়ায়। বিএনপির নেতারাও যে খুঁজবেন তাতে আর বিস্ময়ের কি আছে। জেল থেকে বেড়িয়ে দেখলাম দলটির অনেক নেতার শরীরী ভাষাতে ফ্যাসিস্ট শাসকদের বিরুদ্ধে ঘৃনা কিংবা ক্রোধের প্রকাশ দেখা যাচ্ছে না। অনেকেই শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বকে প্রকাশ্যে অবৈধ বলতেও ভয় পাচ্ছেন। গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করা ব্যক্তিকে মাননীয় বলতে বলতে তারা মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন। ইতোমধ্যে অবৈধ সরকারের বশংবদ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত ২০ দলীয় জোট নিয়ে ফেলেছে। সে সব নির্বাচনে পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন মহল ভোটকেন্দ্র দখল করে দুপুরের আগেই নির্বাচনী নাটকের যবনিকা টেনে দিচ্ছে। সেই ভোট ডাকাতি প্রতিরোধের ক্ষমতা বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতেই ২০ দলীয় জোটের নেই। তবু তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েই যাচ্ছেন। তাদের মতে এটা নাকি আন্দোলনেরই অংশ। একের পর এক নির্বাচনী নাটকে অংশগ্রহন করেই নাকি সরকারের অগনতান্ত্রিক চরিত্র উন্মোচিত হবে। অর্থাৎ তাদের মতে জনগনের কাছে শেখ হাসিনা সরকারের ফ্যাসিবাদি চরিত্র এখনও উন্মোচিত হয়নি!!! কতগুলো এ ধরনের নাটকে অংশ নিলে সরকারের চরিত্র পুরোপুরি উন্মোচিত হবে সে সম্পর্কে বিএনপি কিংবা জামায়াত কিংবা ২০ দলের তরফ থেকে কোন বক্তব্য অবশ্য জনগন অদ্যাবধি শুনতে পায়নি। জামায়াতে ইসলামীও সরকারের পাতানো নির্বাচনে অংশ নেয়ায় ব্যাপারে বিস্ময়কর উৎসাহ দেখিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতের এই উৎসাহ অবশ্য নতুন নয়। ১৯৮৬ সালের এরশাদ আমলে এবং ২০০৮ সালের মইন আমলে দলটির তরফ থেকে একই ধরনের আত্মঘাতি উৎসাহ জনগন দেখেছে। বিএনপি এবং জামায়াতের যুক্তি হচ্ছে, নির্বাচনে অংশ নিলে জনসম্পৃক্ততা এবং দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সারা দেশ ঘুরে আমার ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে। ২০১৫ সালের আন্দোলনে ব্যর্থতার পর প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রতিরোধহীন আত্মসমর্পন তৃনমূল কর্মীদের আরো হতোদ্যম করেছে। হতাশার মধ্য থেকেই যাবতীয় আপসকামিতার জন্ম হয়। বিএনপি-জামায়াতের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিরোধী দলের সেই আপসকামিতার চরিত্র উদঘাটনের আগে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের রাষ্ট্রযন্ত্র দখলের ক্রমান্বয় ইতিহাস বর্ণনা করা আবশ্যক। দখলের প্রক্রিয়ার সেই ভয়াবহ বর্ণনা বাদ থেকে গেলে বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান চিত্রটি অসম্পূর্ন রয়ে যাবে।

ভারত আপন রাজনৈতিক স্বার্থেই ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা দিয়েছিল। এটা কোন দয়া-দাক্ষিণ্যের ব্যাপার ছিল না। চিরশত্রু পাকিস্তানকে ভেঙে ফেলা ছাড়াও পূর্ব সীমান্তে সামরিক শক্তিতে অপেক্ষকৃত দূর্বল একটি আজ্ঞাবহ রাষ্ট্র থাকলে সেখানে সার্বিক নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা লাভ করা সহজ হয়, ভারতীয় শাসকশ্রেণী ১৯৪৭ থেকেই এই কৌশল বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়েছে। নেহরু-প্যাটেল ডকট্রিন বাস্তবায়নের সুযোগ পেতে আগ্রাসী আঞ্চলিক শক্তিকে খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। মাত্র ২৪ বছরের মধ্যেই নেহরু তনয়া শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী শতাব্দীর সেরা সুযোগ গ্রহন করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সহ¯্র বছরের প্রতিশোধ নিতে পেরেছিলেন। পাকিস্তান দ্বি-খন্ডিত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও সেই নব্য স্বাধীন দেশকে নিয়ন্ত্রন করতে অবশ্য ভারতকে যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে, সময়ও লেগেছে ২৪ বছরের চাইতে ঢের বেশি। ১৯৭১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত পয়ত্রিশ বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী লড়াকু জনগোষ্ঠী দিল্লির আগ্রাসন মোটামুটি ঠেকিয়ে রাখতে সমর্থ হয়। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের গনমানুষের স্বাধীনতার চেতনার গৌরবজ্জ্বল প্রতিফলন ঘটেছিল। পরবর্তী তিন দশক ধরে ভারতীয় শাসকশ্রেণী বিভিন্ন পন্থায় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে এদেশে ভারতপন্থী সুশীল সমাজ, পৌত্তলিকতার আদর্শে অনুপ্রাণিত নানাবিধ সাংস্কৃতিক জোট এবং ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়া প্রতিষ্ঠা করে। এ ছাড়াও রাষ্ট্রযন্ত্রের অতীব গুরুত্বপূর্ন এবং নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে আঞ্চলিক সা¤্রাজ্যবাদের এজেন্টদের অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়। এক এগারোর সামরিক অভ্যুত্থান আমাদের মাতৃভূমিকে ভারতীয়করন প্রক্রিয়ারই চূড়ান্ত অংশ ছিল। তৎকালিন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ভারত সফরকালে শেখ হসিনার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন। বিনিময়ে ভারত তৎকালিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রনব মুখার্জীর মাধ্যমে জেনারেল মইনকে সার্বিক নিরাপত্তা এবং ক্ষমতা হস্তান্তর শেষে দেশ থেকে নিরাপদ প্রস্থানের প্রতিশ্রুতি দেয়। (The Coalition years, Pranab Mukherjee) ফেব্রুয়ারীর ওই বিশেষ দিনে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বেরও সমাপ্তি ঘটে।

শেখ হাসিনার ক্ষমতা দখলের বিষয়টি দিল্লিতে নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এ দেশের ক্ষমতাসীন শাসক পরিবার এবং তাদের বিদেশী বন্ধুরা সম্মিলিতভাবে ১৫ কোটি বাঙালী মুসলমানের আবাসভূমি চিরতরে পদানত করার কৌশল নির্ধারনে ব্যাপৃত হয়। সজীব ওয়াজেদ জয় (শেখ হাসিনার পুত্র) এবং তার মার্কিন বন্ধু কার্ল সিওভাচ্চো (Carl Ciovacco) যৌথভাবে,,Stemming the  Rise of Islamic Extremism in Bangladesh শিরোনামে একটি নিবন্ধ ২০০৮ সালের নভেম্বরে i Harvard Internationl Reviewতে প্রকাশ করেন। ক্ষমতা হাতে পেলে আওয়ামী লীগ সেনাবাহিনীতে কি কৌশলে লেখকদের ভাষায় ইসলামপন্থী সৈনিকদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালাবে তারই কিছু বর্ণনা উপরোক্ত লেখায় দেয়া হয়েছিল। পাঠকের সুবিধার্থে সেই লেখা থেকেই প্রাসঙ্গিক কিছু অংশ এখানে উদ্ধৃত করছি:
Rahman’s Awami League has long been the standard bearer of secularism and if elected, it could roll back the growing tide of Islamism in Bangladesh. The Awami League must, however, implement certain changes to proactively check this Islamism if it hopes to secure long lasting secularism and democracy
(রহমানের আওয়ামী লীগই সেক্যুলারিজমের পতাকাবাহী এবং নির্বাচিত হলে দলটি বাংলাদেশে ইসলামপন্থার উত্থানকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম। আওয়ামী লীগ যদি দীর্ঘমেয়াদে সেক্যুলারিজম এবং গনতন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে চায় তাহলে তাদেরকে অবশ্যই ইসলামপন্থাকে সক্রিয়ভাবে প্রতিহত করার জন্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।)
নিবন্ধটিতে লেখকদ্বয় দাবী করেছেন যে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপির শাসনকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩৫ শতাংশই মাদ্রাসা থেকে নেয়া হয়েছিল। লেখাটিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, এই ইসলামপন্থী সৈনিকরা সেক্যুলার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটাতে পারে। এই কথিত ইসলামপন্থীদের মোকাবেলার জন্য নি¤েœাক্ত কৌশল গ্রহনের পরামর্শ দিয়েছেন কার্ল সিওভাচ্চো এবং সজীব ওয়াজেদ জয়:

Islamic extremism is also on the rise in Bangladesh because of the growing numbers of Islamists in the military. The Islamists cleverly began growing their numbers within the Army by training for the Army Entrance Exams at madrassas…..

It should increase the recruitment of secular-minded students into the military from secular cadet academies……

To counter the increased military recruitment from the madrassas, more youths-especially the secular-minded- must also be taught how to pass the Army’s Entrance Exams. It is not enough to desire more secularly-taught youth to enter to the military, but the plan must place them on the same playing field with the madrassa recruits. Instead of  outwardly restricting madrassa training for the Entrance Exams, secular school Entrance Exam training would counter JI’s strategy to Islamify the military and thus the nation. An alternative source of recruits could switch back the military’s ideological balance to a more secular recruit base.

(সেনাবাহিনীতে ইসলামপন্থীদের সংখ্যাবৃদ্ধির কারনেও বাংলাদেশে ইসলামিক চরমপন্থা বেড়েছে। সেনাবাহিনীর ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ার জন মাদ্রাসায় বিশেষ প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করে ইসলামপন্থীরা চতুরতার সাথে সেনাবাহিনীতে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করছে।—–
সেনাবাহিনীতে সেক্যুলার মনোভাবাসম্পন্নদের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সেক্যুলার ক্যাডেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অধিকহারে নিয়োগ দেয়া উচিৎ।——

সেনাবাহিনীতে মাদ্রাসা থেকে শিক্ষাপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে সেক্যুলার মানসিকতার তরুনদের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ন করানোর জন্য বিশেষভাবে শিক্ষাদান করতে হবে। সেক্যুলারদের অধিক হারে নিয়োগদানের ইচ্ছা থাকলেই কেবল হবে না, মাদ্রাসায় শিক্ষিতদের সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য তাদের উপযুক্ত করে তুলতে হবে। মাদ্রাসায় প্রশিক্ষন কার্যক্রম বন্ধ করবার চাইতে সেক্যুলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধিক হারে সেনাবাহিনীতে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়ার শিক্ষা প্রদান করা হলে বরঞ্চ জামায়াতে ইসলামীর সেনাবাহিনী এবং জাতিকে ইসলামপন্থী বানানোর কৌশলকে পরাজিত করা সম্ভব হবে। সেনাসদস্য নিয়োগের বিকল্প উৎস তৈরী করা গেলে সেনাবাহিনীর ইসলামিক আদর্শকে সেক্যুলারে রূপান্তর করা সহজ হবে।)
আওয়ামী লীগ এবং তাদের বিদেশী বন্ধুদের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে উদ্বেগ ১৯৭৫ সালের ঘটনাবলী থেকে উদ্ভূত। ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর থিংক-ট্যাংক সঠিকভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্বাধীনচেতা জাতীয়তাবাদী চরিত্রে পরিবর্তন আনা না গেলে এদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হবে। সেই কারনেই হাভার্ড ইন্টারন্যাশনাল রিভিউতে প্রকাশিত উপরোক্ত নিবন্ধে সেনাবাহিনীর আদর্শিক অবস্থান এবং কাঠামো পরিবর্তনের প্রতি এতটা জোর দেয়া হয়েছে।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী কেবল সেনাবাহিনী থেকেই নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি শাখা (প্রশাসন, আইনসভা এবং বিচার বিভাগ) হতে ইসলামের চেতনা ও মূল্যবোধ উৎপাটনের কাজে লেগে পড়ে। ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রের মূল নীতি থেকে, ‘আল্লাহ’র প্রতি সম্পূর্ন আস্থা এবং ইমান’- অংশটি বর্জন করে। একবিংশ শতাব্দীতে ইসলাম বিদ্বেষী আন্তর্জাতিক সা¤্রাজ্যবাদের প্রধান কৌশলই হলো ইসলামিক রাষ্ট্রসমূহে আরবী নামধারী এবং মুসলমানের মুখোসধারী শাসকদের দিয়েই ইসলামী মূল্যবোধ পরিপন্থী শাসনব্যবস্থা কায়েম করা। মিসরের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ সৈয়দ কুতুব এই ধরনের সরকারকে জাহেলিয়াতের অনুসারী আখ্যা দিয়েছিলেন। দক্ষিন এশিয়ায় একচ্ছত্র প্রভাব বলয় সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়েই হিন্দুত্ববাদী ভারত প্রেসিডেন্ট বুশ জুনিয়রের কথিত ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ আবরনে ইসলামী বিশ্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত সভ্যতার সংঘাতে (Clash of Civilisation) যোগদান করেছে। পাঁচ দশকব্যাপী শীতলযুদ্ধ চলাকালে সোভিয়েট ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ মিত্র কেবল অভিন্ন ইসলাম বিদ্বেষের নীতির কারনেই আজ মার্কিন শিবিরে যোগদান করেছে। এতদসত্ত্বেও বিগত এক দশকে একমাত্র বাংলাদেশ ব্যতীত দক্ষিন এশিয়ার সকল রাষ্ট্রে ভারতীয় আধিপত্যবাদ পরাজিত হয়ে পশ্চাদপসরন করতে বাধ্য হয়েছে। দূর্ভাগ্যবশত: বাঙালী মুসলমানের গৌরবজনক জাতি পরিচয় এবং ঐতিহ্যের প্রতি এক প্রকার অজ্ঞতা ও নির্লিপ্ততার ফলেই প্রথাগত সামরিক আগ্রাসন ব্যতিরেকেই ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশকে ক্ষমতাসীন দেশবিরোধী অপশক্তির সহায়তায় ভারত পদানত করতে পেরেছে। সেক্যুলারিজমের মোড়কে ইসলাম বিদ্বেষী, ফ্যাসিস্ট শাসকশ্রেণী এদেশে ক্ষমতা দখল করতে সক্ষম হলেও বিপুল জনগনের স্বাধীনতা এবং জাতিচেতনার পুনরুজ্জীবনের আশংকামুক্ত কখনই হতে পারেনি। সেই কারনেই এ দেশে ইসলামী চেতনার বিকাশ ব্যহত করবার লক্ষ্যে শাসকগোষ্ঠী তাদের প্রয়াস ২০০৯ থেকে অব্যাহত রেখেছে। বিগত এক দশকে রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ পদে বেছে বেছে ইসলাম বিদ্বেষীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কার্ল সিওভাচ্চোর ব্যবস্থাপত্র অনুসারে সেনাবাহিনীতে সম্ভবত: সবচেয়ে কার্যকর অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে। সুতরাং, স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং জাতীয় চেতনার পুনরুজ্জীবনের এক দীর্ঘ লড়াই আমাদের জন্য অপেক্ষমান। (চলবে)

সম্পাাদক, দৈনিক আমার দেশ।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!