বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নিয়ে দুই পক্ষ : আপনি কোন পক্ষে? মোহাম্মদ ইব্রাহিম

বিশ্বের ৫৭ নম্বর দেশ হিসাবে বাংলাদেশ তাঁর নিজস্ব স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে এবং এই জন্যে গতকাল নির্ধারিত থাকলেও কিছু কম্পিউটারভিত্তিক হিসাব-নিকাশের কারণে স্থগিত হয়েছে । লাইভে পুরো প্রক্রিয়া দেখতে গিয়ে কিংবা ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দেখতে গিয়ে দেখলাম স্বাভাবিকভাবেই দুইটি পক্ষ হয়ে গিয়েছে । তবে আমাদের রসবোধের প্রশংসা করতে হয়, ওই লাইভের কমেন্ট দেখলে বুঝবেন মানুষ কত শৈল্পিকভাবে কমেন্ট করতে পারেন !

সরকারপক্ষ : ——————— এদের উচ্ছাসের মাত্রা এমন পর্যায়ে গিয়েছে মনে হচ্ছে বিনামূল্যে /অনেক কম খরচে কিংবা কোনো দুর্নীতি ছাড়াই এতো বড় একটা কাজ হয়েছে । আর রকেটটা উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে এবং এটার মাধ্যমে অনেক টাকা সাশ্রয় হবে । তবে মূলকথা হলো, পুরো প্রজেক্টের বিস্তারিত পড়লে বুঝতে পারবেন কত টাকা কিভাবে যাচ্ছে এবং পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সাথে তুলনা করলেই টের পাবেন দুর্নীতি কাহাকে বলে । আর হ্যা সরকারি খরচে হলেও, মালিকানাতে দরবেশ বাবা রয়েছেন । আপনার দল ভালো কিছু করছে আনন্দ করুন কিন্তু সাথে সমালোচনা করলে আপনার দলের জন্যেই ভালো , শুধু চোখ বন্ধ করে উচ্ছাস করে নিজের দলেরই ক্ষতি করছেন ! ———————

বিপক্ষ : ——————— এরাও কম যায় না । এদের পোস্ট এবং ভিডিও দেখে মনে হয়েছে, তাঁরা তাদের সময়েই এই স্যাটেলাইট বানিয়ে ধোলাই খালে লুকিয়ে রেখেছিলো যেন পরবর্তিতে নির্বাচনের আগে চমক দেখতে পারে । কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সরকার ধোলাই খাল থেকে হয়তো চুরি করে নিয়ে গিয়েছে এমন একটা ভাব । তবে হ্যা দুর্নীতি আপনারাও যে করতেন না তা কিন্তু না । আপনারাও এই ব্যাপারে এক্সপার্ট । মনে আছে, জ্বালানিমন্ত্রি শুধু একটা দামি গাড়ির কারণে নাইকোর কাছে নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছিলেন । হ্যা আপনি অনেক ‘ত্যানা পেঁচাইতে’ পারেন যে দেশের অনেক প্রব্লেম আছে এই টাকা এখানে দেন,…. ব্লা ব্লা । এই যুগে চলতে গেলে অনেক হিসাব-নিকাশ করে চলতে হয় । আপনি যেই হিসাব করেছেন এই হিসাব করলে আমেরিকার মতন দেশেও মানুষ না খেয়ে ঘুমাতে যেত না । তাই এই নীতি কথা বলে একটা কাজের বিপক্ষে বলার মানে হয় না । সরকারকারকে সমর্থন না করলেও এইভাবে উদ্ভট যুক্তি দেখানোর মানে হয় না । ———————

আমজনতা : ——————— আমরা সাধারণ মানুষের আসলে দুই পক্ষের ঠেলা-ঠেলিতে “ফাইস্যা গেসি মাইনকা চিপায় ” অবস্থা । কারণ এখন এমন একটা অবস্থা যে আপনি সরকারের ভালো কাজের কথা বললে শুনতে হয় আওয়ামীলীগ এবং বিপক্ষে বললে হয়ে যেতে হয় বিএনপি । কোনো কিছু বলতেও অনেকবার চিন্তা করতে হয় যে আমাকে কোন গ্রুপে ফেলে দেয় । আবার অনেকসময় চুপ করে থাকতে হয় এইসব ট্যাগ খাওয়ার ভয়ে । যাই হোক, কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে না আমি বাংলাদেশী হিসাবেই খুশি এবং ভালো আছি । আপনিও চাইলে সেই হিসাবে খুশি থাকতে পারেন । ইলোন মাস্কের নিজস্ব কোম্পানি Space-X নিয়ে অনেক আগেই জানতাম কিন্তু কখনোই লাইভে রকেট উৎক্ষেপণ দেখা হয় নি । এমনকি মঙ্গলগ্রহের অরবিটে পাঠানো ‘Falcon Heavy’ নিয়ে অনেক সাড়া জাগালেও সেটাও দেখি নি । কিন্তু যখন নিজের দেশের এমন একটি কাজ হতে যাচ্ছে কেন জানি মনের অজান্তেই মনে হচ্ছিলো এতো সমালোচনা হবার পরেও যদি আমাদের দেশ ৫৭ নম্বর হিসাবেও স্যাটেলাইট পাঠায় তাইবা কম কিসে । স্বাভাবিকভাবেই পুরো প্রক্রিয়াটা লাইভে দেখছিলাম এবং যখন বারবার নিজের দেশের নাম বলছিলো তখন গর্ববোধ করছিলাম । শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে নিক্ষেপণ সম্পন্ন না হলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই, এটি পুরো প্রক্রিয়ার একটি অংশ । বরং বিশ্বের বড় বড় দেশের পত্রিকাতে এই বিখ্যাত কোম্পানির এমন পেছানো নিয়ে খবর ছাপানো হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবেই চলে এসেছে বাংলাদেশের নাম । এতে করে অনেক বিনিয়োগকারিরা কমপক্ষে জানতে পারবেন যে আমাদের দেশও পিছিয়ে নেই, আমরা এতো প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছি ! কিছু কিছু মানুষের কারণে কিংবা কিছু কিছু অর্জনের কারণে মনের অজান্তেই দেশপ্রেম চলে আসে । দেশপ্রেম আসার জন্যে এবং দেশকে ভালোবাসার জন্যে রাজনৈতিক দল করতে হয় না । আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাঁরা কোন দলকে ভালোবেসে জীবন দেন নি । তাঁরা দেশমাতৃকাকে ভালোবেসেই জীবন দিয়েছিলেন । তাই আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের সন্মান এবং দেশের উন্নতির জন্যে কাজ করে গেলেই হবে, আমাদের দেশেও একদিন পরিবর্তন আসবে ,আসতেই হবে !

(বি.দ্রঃ স্যাটেলাইটটি বানিয়েছে Thales Alenia Space (ফ্রান্স-ইতালির মালিকানা) । এর সদরদপ্তর ফ্রান্সের কানে !)

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!