বাংলাদেশের একটি অঞ্চল দখল করে আসামের বাঙ্গালীদের পাঠানোর হুমকি প্রবীণ তোগাড়িয়ার!

আন্তর্জাতিক হিন্দু পরিষদের সভাপতি প্রবীণ তোগাড়িয়া কথিত মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের আসাম থেকে বাংলাদেশে পাঠানোর দাবি জানালেন। গত বুধবার (১৮ জুলাই) আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই দাবি জানান।

তোগাড়িয়া বলেন, ‘বিজেপি সরকার জাতি-মাটি-ভিটা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের বিজেপি সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আসামকে বৃহত্তর বাংলাদেশের অংশ বানানোর পথ খুলে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু অাসামের মানুষ কোনোভাবেই বৃহত্তর বাংলাদেশে পরিণত হতে দেবেন না। অাসামের মানুষ ও আমি যতক্ষণ আছি, ততক্ষণ অাসামকে বৃহত্তর বাংলাদেশে পরিণত হতে দেবো না।’

তোগাড়িয়া বলেন, ‘নাগরিক পঞ্জি নবায়ন করে অাসামে থাকা ৫০ লাখ বাংলাদেশিকে বহিষ্কার করতে হবে। চিহ্নিত হওয়া বাংলাদেশিকে কোনোভাবেই ওয়ার্ক পারমিট দেয়া চলবে না। বাংলাদেশিদের বহিষ্কারে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা না করলে ভারতীয় সেনাকে বাংলাদেশের একটি অঞ্চল দখল করে নিতে হবে। বাংলাদেশের ভেতরের ওই অঞ্চলে কলোনি করে বাংলাদেশিদের পাঠিয়ে দিতে হবে।’

আসামে বাংলাদেশিদের কথিত অনুপ্রবেশ নিয়ে তোগাড়িয়ার দাবি প্রসঙ্গে আসামের ‘এসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস’ (এপিসিআর)-এর রাজ্য কমিটির সদস্য আহমদ আলী বড়ভুঁইয়া গতকাল (১৯ জুলাই) বৃহস্পতিবার রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘মুসলিম অনুপ্রবেশ সম্পর্কে তোগাড়িয়ার মন্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত,  ষড়যন্ত্রমূলক ও উসকানিমূলক। মুসলিমরা এখানে আসেনি। দেশভাগ হওয়ার সময় বরং প্রচুর সংখ্যক মুসলিম এখান থেকে চলে গেছে। বাংলাদেশ হওয়ার পরেও সেখান থেকে কোনো মুসলিম এখানে আসেনি। এর হাজারো উদাহরণ আছে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সভা সমিতিতেও আমরা বলেছি, আসামের বরাক উপত্যাকার করিমগঞ্জ শহরের প্রচুর এলাকা যেখানে মুসলিম এলাকা ছিল, সেখানে মসজিদ আছে কিন্তু আজ কোনো মুসলিম সেখানে নেই। এরা সবাই দেশভাগের সময় চলে গেছে। এরকমভাবে বরাক উপত্যকার প্রচুর মানুষ চলে গেছে কিন্তু এখানে আসেনি। সুতরাং ওনার ওই দাবি বা বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং বিপরীত ঘটনায় এখানে প্রচুরসংখ্যক অমুসলিমরা এসেছেন। তারা ১৯৭১ সালের আগেও এসেছেন, ১৯৭১ সালের পরেও এসেছেন। সুতরাং ওনার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক।’

বাংলাদেশ থেকে অাসামে যেসব অমুসলিম নাগরিক এসেছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার তাদেরকে নাগরিকত্ব দিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করানোর চেষ্টা করছে বলেও আহমদ আলী বড়ভুঁইয়া জানান। – পার্সটুডে।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!