বাঁধার প্রাচীর অতিক্রম করে আবারো ‘আমার দেশ’-এর আত্মপ্রকাশ

বাঁধার প্রাচীর অতিক্রম করে মানবাধিকারের কথা বলতে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে আবারো আমার দেশ পাঠকের সামনে হাজির হয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, আমার দেশ আগের মতই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা এবং মানুষের কথা বলার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে লড়াই অব্যাহত রাখবে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে রিজেন্ট লেক হলে অনুষ্ঠিত প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে পুনরায় প্রকাশনা শুরু করতে যাচ্ছে আমার দেশ। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আসলেই কি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বাধীনতা আছে? বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বাধীনতা যে নেই, সেটা ইন্ডিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মূখার্জির লেখা একটি বইয়ে স্পষ্ট করে গেছেন। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধানের চাকুরি নিয়ে তাঁর সাথে আলোচনার বিষয়টি বইয়ে স্পষ্ট করেই লিখেছেন। সেনাবাহিনীর সাবেক একজন জেনারেলও সম্প্রতি বলেছেন, সেনাপ্রধান নিয়োগের আগে ভারতের অনুমতি নেওয়া লাগে।
ইউকে বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি লন্ডনে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রবীন ব্যক্তিত্ব কে এম আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুর থেকে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন, লেখক ও বুদ্ধিজীবী মিনার রশিদ, অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ শিবলী সোহায়েল। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, সাবেক রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের ইউরোপের আমীর প্রফেসর মাওলানা আবদুল কাদির সালেহ, হেফাজতে ইসলাম নেতা মুফতি শাহ সদর উদ্দিন, যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক রোজী ফেরদৌস, বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার এম এ সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. কামরুল হাসান, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালিক, টাওয়ার হেমলেটস কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি মেয়র ওহিদ আহমদ, মাওলানা শোয়াইব আহমদ, শিক্ষাবিদ শাহ আলম, যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত সপ্তাহিক সুরমার সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, ব্যারিষ্টার গোলাম আজম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য নসরুল্লাহ খান জোনায়েদ, বুয়েটের সাবেক ভিপি ব্যারিষ্টার তারিক বিন আজিজ প্রমূখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন, আজকে এমন একটি সময় আমরা আমার দেশ পুনরায় প্রকাশ করতে যাচ্ছি যখন বাংলাদেশ জালিমদের দ্বারা শাসিত হচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে এই আমার দেশ-এর পুনরায় প্রকাশনির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ, স্বাধীনতার দুটি ডাইমেনশন আছে। একটি হচ্ছে রাষ্ট্রের স্বাধীনতা। দ্বিতীয় ডাইমেনশন হচ্ছে জনগনের লিবার্টি। এই রাষ্ট্রে যারা বসবাস করেন, তাদের অধিকার। এই ডাইমেনশন গুলোর বিবেচনা করলে কোনভাইবে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র বলা যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা চলে গেছে দিল্লীর হাতে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অফিসাররা বলেন, সেনাপ্রধান কে হবেন সেটা নির্ধারিত হয় দিল্লী থেকে। কিছুদিন আগে নবম পদাতিক ডিভিশনের সাবেক জিওসি, জেনারেল সোহরাওয়ার্দি পরিস্কারভাবেই বলেছেন, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান নির্ধারিত হচ্ছে দিল্লী থেকে। মাহমুদুর রহমান এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে ভারত যে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সেই দিকেই জাতিসংঘে ভোট দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার যে দু’টি দেশে ভারতের আধিপত্য বিরাজ করছে তার একটি দেশে ১৯৪৭ সাল থেকে আরেকটি দেশে ২০০৭ সাল থেকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সেদিনই চলে গেছে, যেদিন মঈন-ফখরুদ্দিন সরকার একটি সাংবিধানিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর সেটিকে পাকাপোক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন অধিকার বিহীন জাতিতে পরিণত হয়েছে। মাহমুদুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল দু’টি কারণে। তার একটি কারণ হল ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা এবং আরেকটি কারণ হল-অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তি লাভ করা। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক অধিকার এবং শোষণ মুক্তির জন্যই স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল। তিনি বলেন, অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ২৫ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। অথচ, বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। সকল গণতান্ত্রিক অধিকার কুক্ষিগত করেছে একটি ফ্যাসিষ্ট শাসক গোষ্ঠী। অর্থনৈতিক শোষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোটিপতি ধনীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তারচেয়ে বেশি বাড়ছে দরিদ্রের সংখ্যা। অর্থনৈতিক বৈষম্য দিনে দিনে বাড়ছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য কি পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে,তার প্রমান হচ্ছে শেখ হাসিনার বেয়াইয়ের ছোট ভাই দু’হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রের সম্পদক লুট করার অভিযোগে এই সরকার তাঁকে গ্রেফতার করেছে। তিনি বলেন, আমরা যে দু’টি কারণে মুক্তিযুদ্ধ করেছি সে দু’টি আজ অনুপস্থিত। আজকে যে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হচ্ছে সেটা একটা ফেইক স্বাধীনতা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে হলে এখন আবার নূতন করে স্বাধীনতার লড়াই করতে হবে। স্বাধীনার সেই লড়াইয়ের ডাকটি দেওয়ার জন্যেই আমার দেশ-এর পুনরায় প্রকাশের তারিখ ২৬ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লড়াইয়ের বিষয়টি দিল্লীর তাবেদার শেখ হাসিনাকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যেই ২৬ মার্চ আমার দেশ নিজের মত করে যাত্র শুরু করেছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব পুরুদ্ধারের লড়াইয়ে আমার দেশ-এর পাশে থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আবদুল কাদির সালেহ বলেন, আমার দেশ একটি লড়াই ও সংগ্রামের নাম। পত্রিকাটি শুরু থেকেই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও আমার দেশ-এর লড়াই অব্যাহত থাকবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের লড়াইয়ে যোগ দিতে জনগণ প্রস্তুত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!