বহিষ্কারের কারণ জানতে ছাত্রলীগ নেত্রীর সংবাদ সম্মেলন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে পাল্টা ২৪ জনকে বহিষ্কার করাকে ‘অগঠনতান্ত্রিক’ বলছেন এক কেন্দ্রীয় নেত্রী। এই নেত্রীর নাম খালেদা হোসেন। বহিষ্কৃত হওয়ার আগে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেন খালেদা হোসেন। তিনি জানতে চান, কেন এবং কীভাবে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই নেত্রীর দাবি, ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করেনি। ফলে তিনি দোষী না নির্দোষ, কিংবা তিনি কী দোষ করেছেন, তা নিয়ে অন্ধকারে আছেন। পুনরায় সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানান খালেদা।

৮ এপ্রিল কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ছাত্রীরা রাতে হল থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। এঁদের কয়েকজনকে কক্ষে আটকে নির্যাতনের অভিযোগে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাতকে অবরুদ্ধ করেন অন্য ছাত্রীরা। হলের ভেতরে ছাত্রীরা ও বাইরে কয়েক হাজার ছাত্র মধ্যরাতে প্রায় চার ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের মুখে ইফফাতকে বহিষ্কার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন তদন্ত কমিটি করে ছাত্রলীগ। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলীয় বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হয়। পাল্টা ২৪ জনকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ।

পরবর্তীতে বহিষ্কৃত নেতাদের একজন এই খালেদা হোসেন। তিনি ইফফাতের আগে সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে যাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে, তাঁদের কেউ কেউ আমার অনুসারী ছিলেন। তাঁদের কার কী ভূমিকা ছিল, তা আমি জানি না। কিন্তু বহিষ্কৃত একজন ওই ঘটনার আগে থেকেই বিদেশে আছেন। তালিকায় অনেকের পুরো নাম নেই। এমনকি কয়েকজনের বিভাগের নামেও ভুল আছে। একজন দুই সপ্তাহের বেড রেস্টে। সে কীভাবে অন্য কাউকে হেনস্তা করতে পারে?’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে খালেদা হোসেন বলেন, ‘ইফফাত নিজেও আমার অনুসারী ছিল। সে আমার অনেক আদরের জুনিয়র। চার বছর আমরা একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। তাঁর মাধ্যমে অনেক ছাত্রীকে আমি হলে তুলেছি। তাঁর সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। যাঁরা এমন বলছেন, তাঁরা হয় ভুল বলছেন, নয়তো তাঁদের ভুল বোঝানো হয়েছে।’

হল প্রশাসনের বদলে ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে কাউকে হলে তোলার এখতিয়ার সম্পর্কে জানতে চাইলে সুফিয়া কামাল হল শাখার সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘যাঁদের হলে ওঠা খুব জরুরি, থাকার জায়গা নেই, তাঁদের আমরা সহযোগিতা করি। প্রথমে গেস্ট পারমিশন নিয়ে তাঁদের গণরুমে তুলি। পরে বৈধ করে নিই।’

তবে নেত্রীদের বিরুদ্ধে কাউকে জোর করে কর্মসূচিতে নিয়ে যাওয়া বা ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে খালেদা বলেন, ‘আমি যত দিন হলে ছিলাম, শতভাগ সাধারণ ছাত্রী আমার ওপর সন্তুষ্ট ছিল।’প্রথম আলো

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!