ফ্রান্সে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত

গতকাল ফ্রান্সে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে! পূর্ব নির্ধারিত সময়ের আগে মানুষ দলে দলে Place de la Nation এলাকাতে সমবেত হন ।
পরে বেলা ২টা হতে বিভিন্ন শ্লোগান লিখিত ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে মিছিল সহকারে Stalingrad (স্টালিংগার্ড) সমাবেশ স্থলে সমবেত হন লাখো মানুষ । চতুর দিক থেকে আসা সমাবেশ স্থলে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের নানান শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মিউনিসিপাল কাউন্সিল প্রার্থী বিসিএফ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট নয়ন এনকে ও শ্রমিক গ্রুপের সেক্রেটারি ওবায়দুল কয়েছের নেতৃত্রে বাংলাদেশী প্রবাসীদের একাংশ বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন!
বেলা বাড়ার সাথে সাথে আন্দোলনকারী মানুষের ঢল নামে সমাবেশ স্থলে । তাদের সকলের একটাই দাবি করোনা সংকটময় পরিস্থিতে সকল অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতা দেয়া এবং সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হবে।
সমাবেশ স্থল ও আশে পাশের এলাকাতে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ ।

বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্য দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি বিসিএফ, ফ্রান্স বাংলাদেশ শ্রমিক গ্রুপ, আভেক রব্বানী এসোসিয়েশন , ইপিএস কমিউনিটি ইন ফ্রান্স, বরিশাল বিভাগীয় কমিউনিটিসহ বাংলাদেশী অনেক সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা । সংগঠনের বাহিরে ও অনেক প্রবাসী যোগদান করেন এই বিক্ষোভ সমাবেশে। এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে অনেক ফরাসিরাও অংশগ্রহণ করেন ।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা বক্তব্য দেন। বাংলাদেশী কমিউনিটির পক্ষে বক্তব্য দেন ফ্রান্সের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার বিসিএফ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এনকে নয়ন ও শ্রমিক গ্রুপের সেক্রেটারি উবায়দুল্লাহ কয়েস।

এর আগে ৩০ জুন পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একই দাবিতে প্যারিসে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় । কিন্তু আজকের এই সমাবেশে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি ছিল ।

উল্লেখ ইতিমধ্যে ইতালি, স্পেন ও পর্তুগাল বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে করোনা কালিন সময়ে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন । তারই ধারাবাহিকতায় গত ১২ এপ্রিল ফ্রান্স পার্লামেন্টের ১০৪ জন এমপি করোনা সংকটময় সময়ে ফ্রান্সে থাকা প্রায় ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার দাবি জানিয়ে ফ্রান্স প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন । তারা বলেন – যে নিয়মে ১৯৮১ এবং ১৯৯৭ সালে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতার আওতায় আনা হয়েছিল , ঠিক সেভাবেই যেন এই সংকটময় মুহূর্তে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতা দেয়া হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে তখন সন্তোষ জনক কোন আশ্বাস না পাওয়াতে ফ্রান্সের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার দাবি জানিয়ে আবার আন্দোলনে নামেন ।

বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়া অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি আশাবাদ ব্যক্ত বলেন – এবারের আন্দোলনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য একটি ভাল সুসংবাদ আসবে ।

(ফ্রান্স বাংলা অবলম্বনে)

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!