প্রবীণ রাজনীতিক অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আর নাই

 অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। বয়সের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে প্রবীণ রাজনীতিবিদ। আর মাত্র দুই বছর বাঁচলে তাঁর বয়স হতো শত বছর।শতবর্ষী হলেন না দেশের প্রবীণ এই নেতা। উপমহাদেশের বাম রাজনীতির অন্যতম পুরোধা, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আজ মারা গেলেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

আজকের এই প্রজন্ম তথা আমাদের কাছে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ অনেকটাই অপরিচিত। কারণ তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন বহু আগে। ঢাকা কলেজ এবং তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন। রাজনীতির জন্য শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। বাংলাদেশেও এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে মারা যান ৯৮ বছর বয়সী প্রবীণ এই রাজনীতিক। বাংলাদেশসহ বাম ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনীতিতে কিংবদন্তিতুল্য মোজাফফর আহমদ ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লার দেবিদ্বারের এলাহাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নিজেকে তিনি সবসময় ‘কুঁড়েঘরের মোজাফফর’ বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন।ত৭ার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৩৭ সালে। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানস্বরূপ সরকার ২০১৫ সালে তাকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন। বেশ কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর বারিধারায় মেয়ের বাসায় দিন কাটাচ্ছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ।

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক সম্পর্কে তিনি লিখেছিলেন, ‘তিনিই প্রথম জাতীয় নেতা যাকে বাংলার আমজনতা তাদের আপন লোক ভাবতে পেরেছিলেন।’ মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সম্পর্কে লিখেছিলেন, ‘এ দেশের রাজনীতি বড়লোকের প্রাসাদ থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে নিয়ে আসার ব্যাপারে শেরেবাংলা ফজলুল হকের চেয়ে মওলানা ভাসানীর অবদান কম নয়।’

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!