প্রধানমন্ত্রী ইমরানের সামনে চ্যালেঞ্জ:মাসুম খলিলী

Pakistan's cricketer-turned politician Imran Khan of the Pakistan Tehreek-e-Insaf (Movement for Justice) speaks to the media after casting his vote at a polling station during the general election in Islamabad on July 25, 2018. Pakistanis voted July 25 in elections that could propel former World Cup cricketer Imran Khan to power, as security fears intensified with a voting-day blast that killed at least 30 after a campaign marred by claims of military interference. / AFP PHOTO / AAMIR QURESHI

Masum Khalili's Profile Photo, Image may contain: 1 person

পাকিস্তানের এক কালের সাড়া জাগানো ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খান বিশ্বের আলোচিত এই দেশটির সরকার চালানোর নতুন ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন। দেশটির একাদশ সাধারণ নির্বাচনে অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে ইমরান খানের পিটিআই নিশ্চিতভাবে সরকার গঠনের মতো আসনে জয়ী হয়েছেন। ঘোষিত ফলাফল অনুসারে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ ১১৭টি, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ ৫৯ টি, পাকিস্তান পিপলস পার্টি ৪১ টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৯ টি, মুত্তাহিদা মজলিস-এ-আমল ১১ টি, এমকিউএম ৫টি, বিএনপি ৫টি, পিএমএল-কিউ ৪টি, পিপিপি ৩টি এবং জিডিএ ৩টি আসনে আসনে জয়ী হয়েছে।

সাময়িক ফল অনুসারে, প্রদেশগুলোর মধ্যে পাঞ্জাবে পিটিআই এবং পিএমএল নওয়াজ সমান সংখ্যক ১১৩টি আসনে জয়ী হয়েছে। ২৮টি আসনে জয়ী হয়েছে স্বতন্ত্র সদস্যরা। ক্ষুদ্র কয়েকটি দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমর্থনে এখানে পিটিআই সরকার গঠন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিন্ধুতে বরাবরের মতো ৭৩টি আসনে জয়ী হয়ে পিপলস পার্টি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। পিটিআই ২২ আসন নিয়ে সেখানে বিরোধি দলে বসবে। খায়বার পাখতুন খোয়ায় ৬৬টি আসন পেয়ে পিটিআই এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এমএমএ ৯টি আসন পেয়ে বিরোধি দলে বসবে। বেলুচিস্তানে আঞ্চলিক দল বিএপি সর্বাধিক ১২টি আসনে জয় পেয়েছে। সেখানে এমএমএ পেয়েছে ৮টি, বিএনপি ৬টি, স্বতন্ত্র ৫টি, পিটিআই ৪টি এবং অন্যরা ৯টি আসনে জয় পেয়েছে। এখানে একটি কোয়ালিশন সরকার হতে পারে।

পূর্বাভাস ও ফলাফল

পাকিস্তানের নির্বাচন পূর্ববর্তী জনমত জরিপে বোঝা যাচ্ছিল ইমরান খানের দল এবার বেশি আসনে জয় পেতে পারে। কিন্তু আগের বার মুসলিম লীগ নওয়াজ যে ১২২টি আসনে জয় পেয়েছিল তার কাছাকাছি সংখ্যায় পিটিআই পৌঁছে যাবে সেটি কোন জনমত পূর্বাভাসেই দেখা যায়নি। নির্বাচনের ফলাফলে ইমরান খানের পক্ষে এক ধরনের জোয়ারের মতো সৃষ্টি হয়েছিল বলে মনে হচ্ছে। তিনি নিজে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে প্রতিদ্ধন্ধিতা করে ৫টি আসনেই জয়ী হয়েছেন। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী মুসলিম লীগের সভাপতি শাহবাজ শরীফ লাহোরের একটি আসনে জয় পেলেও অন্য দুটি আসনে হেরে গেছেন। পিপিপি প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি তার নানার স্মৃতি বিজড়িত লারকানার আসনে জয়ী হলেও করাচির আসনে ৩ নাম্বার হয়েছেন।

হেরে যাওয়াদের তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খাকান আব্বাসি,
সাবেক মন্ত্রী চৌধুরি নিসার আলী, এমএমএ চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুর রহমান এবং জামায়াতে ইসলামী প্রধান সিরাজুল হকও রয়েছেন।

ইমরানের রাজনৈতিক বক্তব্য বা আদর্শের সাথে মুসলিম লীগের বড় রকমের কোন পার্থক্য নেই। পার্থক্য হলো দুর্নীতি, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার ব্যাপারে বক্তব্যে। মুসলিম লীগ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভালো করেছে। কিন্তু তাদের নেতাদের ব্যাপারে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। খায়বার পাখতুন খোয়ায় পিটিআই সরকারের ব্যাপারে সেই অভিযোগ নেই। ইসলামিস্টরা এবার আলাদা জোট গঠন করে তেমন আবেদন সৃষ্টি করতে পারেননি বলে সাধারণ পাকিস্তানীরা ইমরানের মধ্যে বিকল্প খুঁজে নিয়েছেন।

ইমরান খান ছাড়া বাকি সব দলের নেতারা এবারের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির কথা বলেছেন। শাহবাজ শরীফতো বলেছেন এমন নোঙরা নির্বাচন পাকিস্তানে আর হয়নি। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান অবশ্য এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগ অনুসারে সেনা বাহিনীর হস্তক্ষেপ সক্রিয় ছিল নির্বাচনে। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ অনুসারে, পাকিস্তানে সাধারণভাবে যে মানের নির্বাচন হয়ে থাকে এবার তার ব্যতিক্রম কিছু হয়নি।

ফলে হেরে যাওয়া রাজনৈতিক দলগুলো যতই আন্দোলনের কথা বলে সমর্থকদের উত্তেজিত বা শান্ত করতে চেষ্টা করুক না কেন এক সময় এই উত্তেজনা আর থাকবে না। এর মধ্যে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগুবে ইমরান খানের। ইমরানকে ১৩৭ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্টতার জন্য স্বতন্ত্র সদস্য এবং কয়েকটি ছোট দলের সমর্থন পেতে হবে। এরপর সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন হয়ে গেলে সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে তাকে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না।

ইমরানের আসল চ্যালেঞ্জ অর্থনীতিতে

ইমরান খানকে অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে অর্থনীতি নিয়ে। গত কয়েক মাস ধরেই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। রুপির মান দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। রিজার্ভের পরিমাণ কমে এরই মধ্যে ৯.৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। যা দিয়ে কোন রকমে এক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করতে না পারায় চীন পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ইমরানকে শুরুটা করতে হবে অবশ্যই দেশের অর্থনৈতিক শক্তি ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়ে। রুপির অবমূল্যায়ন এবং বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ সঙ্কট ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

অর্থনৈতিক সঙ্কট উত্তরণের জন্য নতুন সরকারকে চীনের সাথে সমঝোতার প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। অথবা ধর্ণা দিতে হবে আইএমএফ’র কাছে। নওয়াজ সরকারের সাথে চীনের যে সমঝোতা হয়েছিল সম্ভবত পরে তা নিয়ে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়। এতে অর্থনৈতিক করিডোরের কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। এর পথ ধরে অর্থনৈতিক সঙ্কটের শুরুটা আসে।

ইমরান খানের বিষয়টি অজানা থাকার কথা নয়। তিনি নির্বাচনে জয়ের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে সংস্কারের কথা বলেছেন। দায়িত্ব নেবার পর চীনের সাথে বোঝাপড়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। চীনের বহু বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এবং সাম্প্রতিক এক বিলিয়ন ডলার ঋণ সত্বেও পরবর্তী সরকারকে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সঙ্কটের মুখে পড়তে হবে। আবার চীনা বিনিয়োগ শ্লথ হয়ে গেলে এর প্রভাব প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান দুটোর উপরই পড়বে। বৈদেশিক মুদ্রার অন্ত:প্রবাহের চেয়ে বহি:প্রবাহ বেড়ে যাবে। এ রকম পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে আবারও সহায়তার জন্য আইএমএফের কাছে যেতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারণায় ইমরান খান দুর্নীতি আর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু চীনের সাথে বোঝাপড়া না হলে দেশকে দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচানোর জন্য তাকেও সেই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে যেতে হবে। এতে একদিকে আইএমএফের ঋণের সাথে এমন কিছু শর্ত দেয়া হবে যাতে আমেরিকার সাথে সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। যা আবার চীনের সাথে সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে। ১৯৯৯ সালে পারভেজ মুশাররফ যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তখন এখনকার মতই ছিল। তার সরকার ঋণের জন্য আইএমএফের কাছে গিয়েছিল। একটি সামরিক সরকারের পক্ষে ঋণ পাওয়ার কঠিন পূর্বশর্ত হজম করা যতটা সহজ ততটা একটি নির্বাচিত সরকারের পক্ষে সহজ হবে না। এর সাথে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা মতবাদ ও পররাষ্ট্র নীতির বিষয়টিও জড়িত। আগামী সরকারের জন্য এটা একটা চ্যালেঞ্জ যে হবে তাতে সন্দেহ নেই।

ইমরানের ভাবনা ও পররাষ্ট্র চ্যালেঞ্জ

বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে নির্বাচনে বিজয়ের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ইমরান খান দেশের বিভিন্ন খাতে ব্যাপক সংস্কারের আভাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২২ বছর আগে যে কর্মপরিকল্পনা তিনি নিয়েছিলেন, এবার তা বাস্তবায়নের সুযোগ পাচ্ছেন। সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইমরান বলেন, ‘কেন আমি রাজনীতিতে এসেছি, তা স্পষ্ট করতে চাই। রাজনীতি আমাকে কিছু দেয়নি। আমি চেয়েছিলাম, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ যেমন পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখেছিলেন, এই দেশটি তেমন হোক। মদিনায় যেমন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তেমন পাকিস্তানের স্বপ্ন আমি দেখি, যেখানে বিধবা ও দরিদ্রদের প্রতি খেয়াল রাখা হবে। আজ এই রাষ্ট্র বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। আমাদের সব নীতির লক্ষ্য কম সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের সাহায্য করা।’ ইমরান খান বলেন, ‘ধনীদের দ্বীপ ও গরিব মানুষের সমুদ্র নিয়ে থাকা কোনো দেশ উন্নতি করতে পারে না।’

পররাষ্ট্র সম্পর্ক প্রশ্নে ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্র চীন আফগানিস্তান ইরান সৌদি আরবের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের নীতির কথা বলেছেন। তিনি ভারতের সঙ্গে মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান বলেও উল্লেখ করেছেন। ইমরানের এসব কথা রেটরিক হিসাবে বলা যতটা সহজ ততটাই কঠিন তা বাস্তবায়ন করা। এখানে চীন-যুক্তরাষ্ট্র, ইরান-সৌদি আরব সম্পর্ক পরষ্পর বিরোধি ও জটিল। আফগান ও কাষ্মীর নীতির সাথে ভারতের সাথে সম্পর্কের বিষয় যুক্ত রয়েছে। এসব বিষয়ের সাথে পাকিস্তানের রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অখন্ডতার অনেক গভীর কিছু যুক্ত রয়েছে ।

এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে সম্পৃক্ত করে আফগান সমস্যার সমাধান করতে চায়। আর আফগানিস্তানে ভারতের যে কোন উপস্থিতি পাকিস্তানকে ঘিরে ফেলার মতো একটি অবস্থা তৈরি করবে। সন্ত্রাস বিরোধি যুদ্ধে পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবার পরও যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে এখন এফএটিএফ গ্রে-লিস্টে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ইমরান খান তার এক ধরনের মার্কিন-বিরোধী মনোভাবের জন্য পরিচিত। কিন্তু পাশ্চাত্যের সাথে তার এক ধরনের সম্পৃক্ততাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা কতটা এখনো বলা মুশকিল। এতোদিন চীন আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের ঝোঁকটা বেইজিংয়ের দিকেই বেশি ছিল। সেই ঝোঁকে কোন পরিবর্তন আসে কিনা সেটিও দেখার বিষয়। আর বাস্তবতা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে সেটা করতে হবে আফগানিস্তানের মাধ্যমে। ইমরান খান আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করলেও তালেবানদের সাথে সংলাপের ব্যাপারে তিনিও সোচ্চার। পাকিস্তান-ভিত্তিক হোক বা আফগানিস্তান-ভিত্তিক হোক, আলোচনার পক্ষে তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রও এখন আফগান তালেবানদের সাথে সরাসরি আলোচনায় আগ্রহী এবং পাকিস্তানকেও সঙ্গে রাখতে চায়। সে ক্ষেত্রে ইমরান খান হয়তো আফগানিস্তানে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে দরকষাকষির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে পারেন এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে পারে। তবে এই অঞ্চলে চীন রাশিয়া ইরান পাকিস্তান চতুর্পক্ষীয় একটি উদ্যোগ রয়েছে। সেটাকে পরিত্যাগ করাও দীর্ঘ মেয়াদে ইসলামাবাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ পাকিস্তানকে ভাগ বিভাজনের পরিকল্পনা রহিত হয়ে গেছে এমন কোন তথ্য জানা যায় না।

এসব কারণে ইমরান খানের সরকারকে খুব সাবধানে তার পররাষ্ট্র নীতি ঠিক করতে হবে। বাস্তবতা হলো রাশিয়া ও ইরানের সাথে সুসম্পর্ক আঞ্চলিক কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি হলেও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আর্থিক সঙ্কট কাটানো এবং রফতানি বাজার গড়ে তোলার জন্য ইউরোপ আমেরিকার গুরুত্ব বেশি। এ কারণে পিটিআই সরকারের জন্য স্থিতিশীলতা ও উত্তরণের পথ হবে বেশ জটিল। নতুন সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতি – উভয় ক্ষেত্রেই ভাঙাচোরা পথ ঠিক করে এগুতে হবে।

সেনাবাহিনীর সাথে সম্পর্ক

ইমরান খানের এবারের বিজয়ের পেছনে পাকিস্তানের সেনা প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলে প্রতিপক্ষ অভিযোগ করছেন। নওয়াজ শরীফ তিন বার প্রধানমন্ত্রী হবার পর প্রতিবারই সেনাবাহিনীর সাথে তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় অসময়ে তাকে বিদায় নিতে হয়েছে। পাকিস্তানের জনগণ নিরাপত্তার জন্য সেনা প্রতিষ্ঠানের উপর বিশেষ আস্থা রাখে। দেশটি ৭ দশকের ইতিহাসে প্রত্যক্ষ সেনা শাসনে ছিল প্রায় তিন দশক। এখন সেনা বাহিনী প্রত্যক্ষভাবে ক্ষমতা নেবে বলে মনে হয় না। কিন্তু পররাষ্ট্র্র সম্পর্ক ও নিরাপত্তা কৌশলে তারা ভূমিকা পালন করতে চাইবে। এটি না মেনে নওয়াজ শরীফ রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়ে ডিপ স্টেটের বার বার বিরাগ ভাজন হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বা পাশ্চাত্যের বড় বড় দেশ- সব খানেই ডিপ স্টেট রয়েছে। তবে সেসব দেশে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা প্রচ্ছন্ন থাকে। পাকিস্তানে সে রকম থাকে না।

পাকিস্তানে নেতৃত্ব দিতে হলে এই বাস্তবতা মানতে হবে। এখানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব স্বাধীনভাবে নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র কৌশল নির্ধারণ করতে পারবে না। এখানে পরামর্শ করতে হবে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সাথে। এই বিষয়টি ইমরান খান উপলব্ধি করে দেশে সুশাসন এবং ভারসাম্যমূলক জনকল্যাণের একটি ব্যবস্থা উপহার দিতে পারলে তিনি সফলকাম হতে পারেন।

তবে তার সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে ভারসাম্য রক্ষা। এই ভারসাম্য তাকে রক্ষা করতে হবে চীন- যুক্তরাষ্ট্র, ইরান-সৌদি আরবের সাথে সম্পর্ক নিয়ে। একই সাথে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিতে গতি আনার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থও তাকে দেখতে হবে। এটি করতে পারলে তিনি সফল ক্রিকেট অধিনায়ক হিসাবে স্বীকৃতি প্রাপ্তির মতো সফল রাষ্ট্র নায়ক হিসাবেও স্বীকৃতি পেতে পারেন। তা না হলে ভাঙাচুরা সংসার যেভাবে তার ব্যক্তি জীবনে এক ধরনের ব্যত্যয় তৈরি করেছে তেমনি তার রাজনৈতিক জীবনেও এক ধরনের ব্যর্থতা একই রকম কালো দাগ তৈরি করতে পারে।
#

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!