প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন : লুবনা জাহান

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’-এর যুগ্ম আহবায়ক লুবনা জাহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কথা পুরো জাতিকে হতাশ করেছে। শুক্রবার জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে লুবনা জাহান একথা বলেন।

তিনি বলেন,‘‘কোটা সংস্কার নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যে পুরো বাংলাদেশের মানুষ হতাশ। প্রধানমন্ত্রী ১১ এপ্রিল সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘কোটা বাতিল।’ কিন্তু এখন আবার বলা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা কমানো যাবে না, ৩০ শতাংশ রাখা হবে। কিছুটা রাখুক, আমরাও চাই। কিন্তু ৩০ শতাংশ যেভাবে বলা হচ্ছে, আমরা মনে করি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। পুরো জাতিকে হতাশ করেছে তাঁর এই কথা। আমরা কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আগামী রবিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।”

এদিকে কোটা সংস্কার অন্দোলন নেতাদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলছেই। কেন্দ্রের ঘোষণা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা ৫ দিন ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি অনেক জায়গায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৪টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে বলে জানা গেছে।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘‘আমি যতটুকু জানি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগেই ক্লাস হয়েছে। তবে যে বিভাগগুলোতে ক্লাস হয়নি, সেসব বিভাগের শিার্থীদের বলবো, দাবি-দাওয়া থাকলে বিভাগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে উত্থাপন করতে। আমরা তার সমাধান করবো।” উৎস- আমাদের সময়

আরও পড়ুন- ‘ভোটে না এলে নারী ক্ষমতাহীনই রয়ে যাবেন’

সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ এবারও রাখা হলো না। আরও ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষিত আসনে মনোনীত হয়েই সাংসদ হতে হবে নারীদের। এতে দলের বা দলীয় শীর্ষ ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছা অনুযায়ী এই নির্ধারিত আসনগুলোর সাংসদ হতে পারবেন তাঁরা।

সংরক্ষিত আসনের সাংসদ, রাজনীতিক ও বিশিষ্টজনেরাই বলছেন, বিনা ভোটে সাংসদ হওয়া এই নারীরা একটি ‘ভারী’ পদ বহন করেন ঠিকই, কিন্তু এতে নারীর ক্ষমতায়নের যে উদ্দেশ্য, তা পূরণ হয় সামান্যই। সংবিধানে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের বিধান আরও ২৫ বছর রাখায় ধরেই নেওয়া যায়, এই সময়ের মধ্যে এই আসনগুলোয় সরাসরি নির্বাচন হচ্ছে না। এতে মাঠের রাজনীতিতে নারীদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত হবে না। তাঁরা বলছেন, সরাসরি নির্বাচনের বিধান থাকলে মাঠে নারীরা সক্রিয় থাকতেন। নারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মানসিকতা ও দক্ষতা তৈরি হতো। তা ছাড়া এই মনোনয়নের বিধান সরকারের বিভিন্ন নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন তাঁরা।

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের যাঁরা সাংসদ হন, তাঁরা দলীয় বা দলীয় প্রধানের পছন্দের ভিত্তিতে মনোনীত হন। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতার কোনো মাপকাঠি থাকে না। সাংসদেরা কোনো এলাকার সাংসদও থাকেন না। কাউকে কাউকে কিছু এলাকা দেওয়া হয়। তবে সেখানে নির্বাচিত একজন সাংসদ থাকায় তাঁদের কাজের সুযোগও কম থাকে। ফলে, সংসদের কাজের বাইরে আলাদা কোনো ভূমিকা রাখার তেমন কোনো সুযোগ তাঁরা পান না।

৮ জুলাই জাতীয় সংসদে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী পাস হয়। যেখানে সংরক্ষিত নারী আসন ২৫ বছর করা হয়েছে। সময় বাড়ানো হলেও এবারও আসনসংখ্যা আগের মতোই ৫০ ও সদস্যদের নির্বাচনপদ্ধতি আগের মতোই, অর্থাৎ অনির্বাচিতই থাকছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, জাতীয় নারীনীতিতে যে সুপারিশগুলো ছিল, সেখানে অল্প সময়ের মধ্যে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন করার কথা। সংরক্ষিত আসনে নারীর সঙ্গেই নারীর নির্বাচন হবে; মনোনয়ন নয়। মনোনয়নের বিধান রেখে ২৫ বছর সময় বাড়ানোয় কোনোভাবেই নারীর ক্ষমতায়ন হবে না। স্বাধীনতার ৭০ বছর পরও যদি নারী মনোনীতই হয়ে আসেন, তবে এতে তাঁরা একপ্রকার ক্ষমতাহীনই রয়ে যাবেন। এ সিদ্ধান্তে নারীরা একটা পদ পাবেন, কিন্তু কোনো অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে না। ক্ষমতায়ন তো দূরের ব্যাপার।

১৯৭২ সালের নারীদের জন্য ১৫টি সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৮ সালে বাড়িয়ে তা ৩০ করা হয়। এরপর ৪৫ এবং সর্বশেষ সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি করা হয়। রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারে নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০০৮ সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইন সংশোধন করে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়। ২০২০ সাল আসতে আর মাত্র দেড় বছর বাকি। এরপর এই আইন কার্যকর হবে। অথচ দেড় বছর আগে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের বিধান রেখে সংবিধান সংশোধন ভবিষ্যতে দলগুলোর মধ্যে এই আইন কতটা কার্যকর হবে বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইনের এই ধারা সংশোধন করা হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ-সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!