প্রধানমন্ত্রি ফিলিপের্ গমন এবং নতুন প্রধানমন্ত্রি জন এর আগমন :পর্দার অন্তরালের কারণ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম,প্যারিস
ফিলিপ সাহেব পদত্যাগের পরে আমাদের দেশের একটা নিউজপেপারে একটা ভুল সংবাদ দেয়া হয়েছিল যে উনি করোনা মোকাবেলাতে ব্যর্থ বলে পদত্যাগ করেছেন।আসলে মূল বিষয়টা সেইটা না,উনি আসলেই খুব ভালোভাবে ফ্রান্সের জন্যে Covid-19 পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন এবং পরে দেখা গিয়েছে জরিপে তাঁর জনপ্রিয়তাও বৃদ্ধি পেয়েছে।দেশের একটা জাতীয় পত্রিকা এমন ভুল নিউজ করবে আসলে দেখে হতাশ হয়েছি!
মূল বিষয়টা অন্য দিকে, আর দুই বছর পরেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।ইতোমধ্যে এই সরকার যদি পাশ করতে চায় তাহলে একইসাথে কট্টর কনজারভেটিভ এবং নতুন গ্রিন পার্টির যেই জোয়ার আসতেসে সেইটা ঠিকভাবে ম্যানেজ করতে হবে।ফিলিপ সাহেব একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং রাজনীতিবিদ, তাই যেকোনো রিফর্ম তিনি যদি ঘোষণা করেন তাহলে দেখা যাবে তাঁর নিজের এলাকা এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে একটা বাজে ইমেজ অনেকের কাছেই তৈরি হতে পারে।এই জন্যে অন্যসব বেশ কিছু বড় সিটিগুলোতে সরকারের প্রার্থীগুলো পরাজিত হলেও ফিলিপ সাহেব নিজ এলাকায় পাশ করাতে সরকার অনেক স্বস্তি ফিল করেছে এবং বুঝেছে এটাই মোক্ষম সময় ওনার সরে যাওয়ার।সরকারের কিংবা তাঁর নিজেরও পরে বড় ধরণের প্ল্যান আছে নির্বাচন নিয়ে।তাঁর কার্ডটা পরে খেলার জন্যে রেখে দেয়া হয়েছে,সরকার এবং ফিলিপ সাহেব দুইজনেই সেফ সাইড থেকে খেলেছেন !
এইবার আসি নতুন প্রধানমন্ত্রি জন সাহেবকে নিয়ে।তাঁর ক্যারিয়ার দেখলে পুরোদস্তুর আমলা বলা যায় ,পড়াশোনা করেছেন ফ্রান্সের রাজনীতিবিদ তৈরির কারখানা বলে পরিচিত ENA(École nationale d’administration) থেকে ।যদিও উনি একসময় মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। উনি রক্ষণশীল ঘরোনার লোক এবং বর্তমান সরকারের আগামী বেশ কয়েকটা কঠিন রিফর্ম ওনাকে দিয়েই ঘোষণা করানো হবে বলে মনে করি।আর ওনার একটা ইমেজ আছে যে উনি যেকোনো কাজ সম্পন্ন করে ফেলতে পারেন দৃঢ়ভাবে। এই জন্যে দায়িত্ব নিয়ে নতুন মন্ত্রিদের নাম ঘোষণা করার আগেই বলে দিয়েছিলেন পেনশন রিফর্ম নিয়ে যেই উদ্যোগ সরকারের ছিল সেইটা শেষ করবেন।আর একটা কারণ হচ্ছে ট্রেড ইউনিয়নের সাথে তাঁর সম্পর্ক ভালো।সব মিলিয়ে,পেনশন রিফর্মের বিরোধিতা করা সবাইকেই চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।কট্টর ট্রেড ইউনিয়ন CGTএর মার্টিনেজ সাহেবরাও দেখতেসেন নতুন প্রধানমন্ত্রি কোনভাবে পেনশন রিফর্মের বিষয়টা হ্যান্ডেল করেন।
শুধু ট্রেড ইউনিয়ন না এর আগেও প্রেসিডেন্টদের সাথে কাজ করার ফলে তাঁর লিংক খুব ভালো এবং সব সেক্টরেই তাঁর বন্ধু আছে। ম্যাক্রোনের টিম এই বিষয়টা কাজে লাগাতে চাইছে আর জন সাহেবও ভাবসেন আর কত পর্দার পেছনে থাকবে তাই নিজেরও সামনে আসার দরকার। তাই ম্যাক্রোনের টিমে জয়েন করলেন !
যাইহোক,একদিকে পেনশন রিফর্ম নিয়ে ট্রেড ইউনিয়নকে মোকাবেলা করা,গ্রিন জোয়ারের ভোটারদের মন জয় ,করোনাতে আর্থিক ক্ষতি মোকাবেলাসহ আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত চাপে থাকবে বর্তমান সরকার। নিচের ছবিতে আমাদের নতুন প্রধানমন্ত্রি এবং প্রেসিডেন্ট সাহেব আর ব্যাকগ্রাউন্ডে এই গান চালিয়ে দিলাম !
♫♫ছেড়ো না ছেড়ো না হাত ,
দেব না ,দেব না গো যেতে থাকো আমার পাশে । ♫♫ (সূত্র:Nil Manush এর টাইমলাইন থেকে)

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!