প্যারিসে বিসিএফ এর ঈদ ফেস্টিভ্যাল অনুষ্টিত

রিপোর্ট: মোহাম্মদ নাজমুল কবির,
সকাল থেকে সংশয়ের কালো মেঘ বিসিএফ এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যদের কপালে ভাঁজ পড়ে গিয়েছিলো। অনলাইনের আবহাওয়ার ফোরকাস্টিংটা আমাদের ঈদ ফেস্টিভ্যালের পুরো আয়োজনকেই নস্যাত করবার জানান দিচ্ছিলো। কিন্তু বিসিএফ উৎসব আয়োজনে ছিলো অবিচল। কেননা সব কিছু তৈরি! কেবল সোনালী বিকেলটির অপেক্ষা! ওমা প্যারিসে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির মানুষজনেরা যখন স্রোতের মত আসতে শুরু করলো, Parc de la Villette এর নির্জনতা ভেঙে দিয়ে আবালবৃদ্ধবনিতা আসতে থাকলো, বেরসিক বর্ষা তখনই নেমে এলো দুর্দান্ত গতিতে, এমন কি শিলাবৃষ্টি! মূহুর্তেই যেন সব এলোমেলো হয়ে যায়, আগত মানুষজনেরা অনেকেই চলে যেতে থাকে। কিন্তু অধিকাংশই অপেক্ষায় থাকে, কখন বৃষ্টির রাজত্ব শেষ হবে।Image may contain: 8 people, people smiling, people standing, wedding and outdoor
অতপর বৃষ্টি আত্মসমর্পণ করলো অনুষ্ঠানের কাছে! প্রবাসী এই মানুষজনেরা আজ এক বছর পর এক জায়গায় মিলিত হয়েছে দুদন্ড শান্তির জন্য। আয়োজনে বিসিএফ।
বৃষ্টির বাধাকে উপেক্ষা করে সহস্রাধিক মানুষ থেকে যায় পার্কের সবুজ চত্তরে।
ঈদ উৎসবে হাজির হয় প্যারিসে বসবাসরত ফ্যামিলির সদস্যরা, তাদের শিশুসন্তানদের নিয়ে। এমন কি ৩০ দিন বয়সী এক শিশুও আজ তার বাবামায়ের সংগে ঈদ উৎসবের এই আয়োজনে উপস্থিত।
রংবেরঙের নতুন পোশাক পড়ে শিশুরা পার্কটিকে মুখর করে তুলেছিলো মিষ্টি বিকেলটিকে। শিশুদের এই বাধাহীন ছোটাছুটি এক মুগ্ধতায় ভরিয়ে দিয়েছিলো।

বিসিএফ এর এক্সিকিউটিভ সদস্য যারা পরিবার নিয়ে প্যারিসে বসবাস করে তারা নিজ হাতে রান্না করে অভ্যাগতদের জন্য বিরিয়ানী, পায়েস, সেমাই, নুডলস তৈরি করে নিয়ে এসেছে। বাসায় রান্বা করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসায় বসে তৃপ্তিসহকারে খাবে – এটিকে তারা গুরু দেয়নি। বরং কমিউনিটির সকলকে নিয়ে উন্মুক্ত সবুজ চত্বরে বসে খাবে, এমনটিই প্রাধান্য পেয়েছে, জয়ী হয়েছে। কেননা এর অন্তর্নিহিত তাগিদটি প্রবলভাবে টেনে এনেছে এখানে, এই সবুজ প্রান্তরে।

কমিউনিটির প্রাণের বিসিএফ এমন একটি আয়োজনে ভূমিকা রেখেছে বরাবর অতীতের মতই। ক্রমশ এই আয়োজনের বিস্তৃতি ঘটছে, ব্যাপকতা লাভ করছে। বিসিএফ নীতি নির্ধারনী কমিটিও এটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, ভাবছে আরো বড়, আরো ব্যাপক আয়জন কিভাবে করা যায় তা নিয়ে।

আপ্যায়ণপর্বে Artist Ant এর রান্না করা বিরানী এবং রোস্ট আয়োজনের শেষদিকে অনেকের রসনাই তৃপ্ত হয়েছে। Artist Ant এর পরিবারটি তাদের ঘরোয়া ঈদ উদযাপনকে বাতিল করে প্রচুর পরিমানে খাবার রান্না করে বিসিএফ এর উৎসব আয়োজনে শামিল হয়। বাচ্চাদের জন্য নানা উপহারসামগ্রী নিয়ে যথারীতি রিভোলি স্টোর হাজির বরাবরের মত। আজ এই ঈদ উৎসবে শিশুদের কি খালি হাতে ফেরানো যায়!

পুরো পার্ক জুড়েই প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো। প্রবাসের গৎবাঁধা জীবনের একঘেয়েমি থেকে বাঁচতে একে অপরের সাথে পরিচিত হতে আমরা আসি। শিশুরা শেখে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, সামাজিকীকরণ ঘটে, এডাপ্টেশনের শক্তি বাড়ায়, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়। পারস্পরিক সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে ওঠে।

আয়োজনে খেলা ছিলো, গান ছিলো। অনুষ্ঠান শেষে ছিলো আপ্যায়ন পর্ব।
অনুষ্ঠান শেষ হলেও মানুষগুলো সবুজ এই চত্তর ছেড়ে যাচ্ছিলো না। যাই যাই করেও যেতে পারছিলো না অনেকেই!
বিসিএফ ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠানে আরো নতুনত্ব আনবে, আকর্ষণ বাড়াবে এই প্রত্যাশা।

Image may contain: 5 people, people smiling, outdoor and nature

Image may contain: 12 people, including Md Nur, people smiling, people standing and outdoor

Image may contain: 10 people, people smiling, people standing, outdoor and nature

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!