প্যারিসের লাশ নিয়ে কিছু কথা কিছু প্রশ্ন:জাকারিয়া মিঠু

 

প্যারিসের লাশ নিয়ে কিছু কথা কিছু প্রশ্ন

প্যারিসে নতুন পুরাতন মিলে এখন বাংলাদেশী অনেক মানুষই আছেন। হয়তো আরো নতুন মুখ আসবে আমাদের মাঝে। যখন বিদেশে কোন মানুষ আসে আর যদি তাদের পরিচিত কেউ না থাকে, সাধারনত তারা তাদেরই শরণাপন্ন হয় যারা আগে থেকে থাকে। কিন্তু দু:ক্ষজনক হলেও এই তিক্ততা আমাদেরকে মেনে নিতে হবে যে, প্যারিসে এখন আর সেই পরিস্থিতি বিদ্যমান নাই। প্রথমত, আমাদের কমিউনিটি তে একতার অনেক বেশি অভাব। সবাই সবার মতো করে থাকতে চায়। ভালো কোন কাজে আপনি হাত দিবেন, সাহায্য হয়তো তেমন পাবেন না কিন্তু আপনার বারা ভাতে ছাই দেবার মতো মানুষের কোন অভাব হবে না। তাছারা আমরা কোন একটা সমস্যায় পড়লে বড় ভাইদের কাছে যাই পরামর্শ করতে। উপদেশ নিতে। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে যে একটা ইস্যু নিয়ে সারা কমিউনিটিতে কথা হচ্ছে, নিন্দা হচ্ছে, তাতে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই, কর্ণপাত যেন করছেনই না। মনে হচ্ছে সর্ষের মাঝে ভুত ঢুকে পড়েছে। যাই হোক, যেটা নিয়ে কথা বলবো।
যখন একজন প্রবাসী বাংলাদেশী মারা যান তখন বিভিন্ন আইনি জটিতলা পোহাতে হয়। তাছাড়া, লাশ দেশে পাঠানোর জন্যও অনেক খর-কাঠ পোড়াতে হয়। আমরা দেখেছি, যাদের অবস্থাপন্ন নন, তাদেরই ঝামেলা টা হয়। আমরা দেখি কেউ মারা গেলে তার আপন জনের কাছে লাশ পাঠাবার জন্য আমাদের মাঝের অনেক মানুষ কাজ করেন, কেউ টাকা দিয়ে আর কেউ বা তথ্য দিয়ে। যে ভাবে পারেন করেন।
কিন্তু গত কয়েকদিন আগের ঘটনায় আমি সত্যি হতবাক আর স্থব্দ। শেষ পর্যন্ত কি মৃত মানুষের লাশ নিয়েও ব্যাবসা করতে হবে? মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ মনুষত্ব বিকিয়ে কি ঐ লাশ পাঠানোর টাকা মেরে দিতে হবে? কারা এই কাজ করেন, কারা কেউ মারা গেলে অতিরিক্ত আপ্লুত হয়ে পড়েন, মায়ের চেয়ে মাসীর দরদওয়ালা ব্যাক্তিরা কারা তা কিন্তু আমরা সবাই জানি। কিন্তু সবাই নিরব।

এবার কমিউনিটি লিডার,নেতা,বড় ভাইদের কাছে প্রশ্ন. ..
বারবার একটি সংস্থা থেকে কেনো দেশে লাস পাঠাতে হবে? সংস্থা জানাজা সার্ভিস একটি লাসের জন্য কত কমিশন দেয় আর সেই কমিশন কই যায়? প্যারিসে খেটে খাওয়া মানুষের কাছে থেকে মৃত্যু ব্যক্তির জন্য যে টাকা উঠে লাস পাঠানোর পর সেই টাকার হিসাব কেনো নেই? সেই টাকার হিসাব কেনো গোপন থাকে?
দেশে লাস পাঠানোর জন্য কেনো একটি ৫/১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন নেই বা কেনো কোনো সংগঠন নেই?

আমরা তাহলে কি শিখছি? আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কি শিখবে? তাদের সন্তান যখন বড় হয়ে জানবে যে লাশ পাঠানোর মেরে দেয়া অর্থে তাদের কে বড় করে তোলা হয়েছে, এই সন্তানের সামনে দাঁড়ানোর মুখ কি তখন ঐ মানুষগুলোর থাকবে?

তাহলে কি ধরে নেবো তারা নিজেদের মুখ নিজেরা দেখে না আয়নায়…???

বিঃ দ্রঃ আজ বা কাল আমি মারা গেলে আমার লাসের জন্য টাকা উঠিয়ে খেয়ে ফেলবে কেঁউ তা জানবেই না!
এই লাসের প্রতারণার গল্প নিয়ে আমাকে কেউই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে বলে নাই, আমি এই সমাজে বসবাস করি বড় হচ্ছি; খারাপ ভালো দেখার দায়িত্ব আমার আছে সমাজে কি ঘটছে তা জানার অধিকার আমার আছে। এই সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন আমারও দায়িত্ব। ফেসবুকে লেখালেখি করে যদি এর সমাধান না পাই তাহলে এরপর থেকে ভিডিও গ্রাফিক্স আর ভিডিও চিএ করে এই সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে সুন্দর ভাবে তুলে ধরবো। আর এই ব্যাপারে আমি কতটুকু প্রফেশনাল তা এই সমাজের সাংবাদিক,লিডার,নেতা ও বড় ভাই সবাই ভালো করে জানেন। তাই বলছি এবার তোরা মানুষহ।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!