প্যারিসের অপরূপ সেন নদী

শাহ সুহেল আহমদ, প্যারিস

সেন নদী

ভালবাসার শহর কিংবা স্বপ্নের শহর যে নামেই ডাকুন, ভুল হবে না। মোহময় প্যারিসকে বিশ্বের একেকজন গুণি একেক রকম নাম দিয়েছেন। তবে শিল্প সাহিত্যের শহর আর ভালবাসার শহর নামেই বেশ পরিচিতি প্যারিস।

প্যারিসের আরেক আশ্চর্য ধরা হয় প্যারিসের বুক চিরে বয়ে চলা সেন নদীকে। এ নদীর ধারে বসে কত শত-সহস্র কবিতা জন্ম নিয়েছে তার হিসেব নেই।

তবে বিশ্ববিখ্যাত কবিদের বিভিন্ন লেখায় তা কিছুটা অনুমেয়। তাদের অনেকের লেখায়ই এ নদীর কথা ফুঠে উঠেছে।

রাজধানীর মতো মানুষের কোলাহলযুক্ত একটি শহরের বুকে সন্ধ্যা কতটা উপভোগ্য হয়, সে অনুভূতি মেলে প্যারিসের সেন নদীতে। যখন সন্ধ্যা নামে, চারপাশের সমস্ত ঐতিহাসিক স্থাপত্যে আলোয় জ্বলে ওঠে, রঙ-বেরঙয়ের কত রূপই না ধরে প্যারিস। তখন মুহূর্তের জন্যে যেন স্তব্ধ হয়ে ওঠে সময়।

বাংলায় যেকোনো নদ-নদীর গঠনরূপ, পর্যায়, প্রকৃতি ও ক্রিয়াকাণ্ড নিয়তই বিবর্তনশীল। তাছাড়া নদ-নদীর এ নিরন্তর ছুটে চলার সঙ্গে মানুষ নিবিড়ভাবে একাত্ম হয়ে আছে।

কিন্তু সেন নদীর পাশ দিয়ে যখন হাঁটবেন, দেখবেন নীল জলরাশি পুরো নদীকে নিয়ন্ত্রিত করে রেখেছে।

দুষিত বুড়িগঙ্গা দেখতে দেখতে রাজধানী ঘেঁসা একটা নদীর কথা শুনলেই আমাদের সহজ ধারণা- ঘোলা পানি, দুর্গন্ধ আর নদীতে ভেসে থাকা শহরের বর্জ্য বয়ে চলবে নদীটি।

প্যারিসও একটি রাজধানী শহর। কিন্তু সাজানো-গোছানো সেন নদীর দুপার, কোথাও অট্টালিকা আবার কোথাও গাছপালায় প্রকৃতির অপরূপ সাঝ নিয়ে এ নদীর চলা। অনেকটা স্বচ্ছ জলের মতো বহমান এ নদীর পানি।

প্যারিসকে ভালো করে দেখতে হলে দিনের আলোয় সেন নদীর বুকে নৌকায় ভেসে ভেসে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন অসংখ্য ভ্রমণলেখক।

আবার কেউ বলেন দিনে নয় সেন নদীতে ভেসে রাতের আলোকিত অপূর্ব প্যারিসকে দেখা উচিত।

কোথাও সারি সারি নানা রকম গাছের সমাহার, কোথাও নীলজলরাশিকে সামনে রেখে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জন্য রাখা হয়েছে বেঞ্চ।

নদীর পারে কোথাও যদি একটু ময়লা চোখে পড়বে মনে করে হাঁটেন, তবে আপনি এখনও প্যারিস নিয়ে বোকার রাজ্যে রয়েছেন। শুধু সেন নদীর পারই নয়, গোটা প্যারিসেও কোথাও ময়লা চোখে পড়বে না।

তবে ইদানিং বিদেশী অধ্যুষিত দু’একটি এলাকায় ময়লা কিছুটা দেখা গেলেও তা কিছু মুহুর্তের জন্য। একটু পরপরই ময়লার গাড়ি তা পরিষ্কার করে নিয়ে যায়।

পড়ন্ত বিকেলে বের হলে দেখা যায়, নদীর পাশে কোথাও কোথাও খাবারের পসরা বসিয়ে অন্যরকম এক বিকেল উপভোগ করছে প্যারিসবাসী।

নদীর দু’পাশ সান বাঁধানো ওয়াল দিয়ে পানি ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত করে রাখা হয়েছে। নদীর পানি এলাকা ভেদে স্তরে স্তরে কম/বেশি করে রাখা হয়েছে। মাঝারি আকারের নদী হলেও এ নদী দিয়ে নিয়মিত লঞ্চ চলতে পারে।

তবে তাও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত। সেন নদীর ঠিক পাশে দুটি লেন করে রাখা হয়েছে। একটিতে মানুষ হাঁটে অন্যটিতে সাইকেল।

প্রাচীনকালে নদীটি সেকুয়ানা নামে পরিচিত ছিল।

সেন নদীর মোহনাটি প্রায় ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং এটির দুপাশে ল্যা আভ্র্‌ এবং ওঁফ্লর বন্দর শহরগুলি অবস্থিত। নদীটির মোট দৈর্ঘ্য ৭৭৬ কিলোমিটার। মোহনা থেকে ৫৬০ কিলোমিটার উজানে বার-সুর-সেন শহর পর্যন্ত নদীটি নৌপরিবহনের উপযোগী।

প্যারিস ঘুরানো পর্যটকদের কেউ কখনও সেন নদী দেখা থেকে বিরত থেকেছে বলে মনে হয় না।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!