পুটিয়া নদীর সীমানা নিয়ে ছাতক ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দু’গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা

নিউজ ডেস্ক: পুটিয়া নদীর সীমানা নিয়ে ছাতক ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দু’গ্রামবাসীর মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সরকারী খতিয়ান ভুক্ত পুটিয়া নদী ভোগ দখল নিয়ে যেকোন মুহুর্তে বড় রকমের সংঘর্ষসহ হতাহতের ঘটনা ঘটার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে নিস্পত্তির চেষ্টার করা হলেও একটি পক্ষের অসহযোগিতার কারনে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। নদীর দখল প্রক্রিয়া নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে উভয় এলাকার লোকজনের মধ্যে রণ প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে নিস্পত্তির স্বার্থে একটি পক্ষের কাছ থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সময় নেন মধ্যস্থতাকারীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পূর্বপাগলা ইউনিয়নের বেতকুনা ও ছাতক উপজেলার বড়কাপন আটগ্রাম এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া পুটিয়া নদীর সীমানা নিয়ে দু’এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সরকারী ১নং খতিয়ান ভুক্ত দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পিঠাপই চক মৌজার ৭৫ নং দাগে পুটিয়া নদী। আবার একই খতিয়ানভুক্ত ছাতক উপজেলার বড়কাপন মৌজার ৬০ ও ২৮৯ নং দাগেও পুটিয়া নদী। দু’উপজেলার দু’মৌজার ভিন্ন দাগে পুটিয়া নদীর অবস্থান থাকায় নদী পাড় সংলগ্ন বেতকুনা ও বড়কাপন আটগ্রামের লোকজন নদীর সীমানা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এদিকে নদীর পাড় সংলগ্ন বেতকুনা গ্রামের লোকজনের বিরুদ্ধে নদীর পাড় দখল করে বসতঘর নির্মাণসহ নদীপাড় ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। বেতকুনা গ্রামবাসী নদী পাড় দখল করে বসতঘর তৈরীসহ ব্যবহারের ফলে যেকোন সময় নদীর পানি স্বাভাবিক প্রবাহে বাঁধাগ্রস্থ হয়ে প্রকৃতির বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হওয়ার আশংকা রয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বিএডিসির উদ্যোগে ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রায় ২ কিলোমিটার নদীর খনন কাজ করা হলে মৃত প্রায় এ নদীটি আবারো যৌবনা হয়ে উঠে। নদীর খনন কাজ করায় বড়কাপন আটগ্রামের লোকজন আটগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নের লক্ষে নদীতে মাছ চাষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পুটিয়া নদীর ভোগ-দখল এককভাবে নিয়ন্ত্রনে রাখতে বেতকুনা গ্রামের লোকজন মাথাছাড়া দিয়ে উঠলে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন চরম আকার ধারন করে। ছাতক উপজেলা পরিষদের গত মাসিক সমন্বয় সভায় জাউয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন বিষয়টি উপস্থাপন করে পুটিয়া নদীর সীমানা নির্ধারনসহ স্থায়ী সমাধানের দাবী জানান। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালামকে অবগত করে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে সালিশে নিস্পত্তির উদ্যোগ গ্রহন করেন। এ লক্ষ্যে জাউয়া ও পূর্বপাগলা ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে আটগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে এক সালিশি বৈঠকের আহবান করা হয়। কিন্তু পূর্ব নির্ধারিত এ বৈঠকে সালিশ না মানার শর্তে উপস্থিত হয়নি বেতকুনা গ্রামের লোকজন। তারা সালিশ-বৈঠক মানেনা বলে তাদের চেয়ারম্যানকে সরাসরি জানিয়ে দেয়। ফলে আটগ্রামের লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা। সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির আশংকায় মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল ঘটনাস্থলে পৌছে গ্রামবাসীদের নিবৃত করে নিস্পত্তির জন্য ২ দিনের সময় চেয়ে নিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এ ব্যাপারে পূর্বপাগলা ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন জানান, সমঝোতার ভিত্তিতে বিষয়টি নিস্পত্তির চেষ্টা চলছে। জাউয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হোসন জানান, বিষয়টি নিয়ে বার-বার চেষ্টা করা হচ্ছে। সমঝোতার ভিত্তিতে বিষয়টি নিস্পত্তি হওয়াটা সবার কাম্য। অন্যতায় বড়ধরনের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারী খতিয়ান ভুক্ত নদী কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠির ভোগ-দখল করার কোন সুযোগ নেই। দু’ ইউপি চেয়ারম্যানদের রেখে বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধানের উদ্যোগে নেই। কিন্ত বেতকুনা গ্রামের লোকজন সালিশ অমান্য করা ধৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছেন। আগামী শুক্রবারের মধ্যে বিষয়টি নিস্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।##

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!