পাষণ্ড স্বামীর কাণ্ড : স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে রাতভর নির্যাতন করে হত্যা

আব্বুকে শাস্তি দিতে পুলিশ হতে চাই : আট বছরের ছেলে

সিফাত জানায়, ঘুম ভাঙার পর তারা দেখে বাবা সিরাজুল ইসলাম নিরব মাকে বেধড়ক মারধর করছেন। মায়ের দুই হাত ও পা দড়ি দিয়ে বেঁধে পেটানো হচ্ছে। মাঝে মাঝে গলা চেপে ধরা হচ্ছে। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনের চার্জারের তার দিয়ে মায়ের গলা পেঁচিয়ে ধরা হয়। এ সময় বাবার কাছে গিয়ে মাকে মারধরের কারণ জানতে চাই। এরপর কিছু সময় বিরতি দিয়ে আবারও মারধর শুরু হয়। ভোর ৫টা পর্যন্ত মাকে মারধর করা হয়। মাকে হত্যার ঘটনা পুলিশ ও স্থানীয়দের জানিয়েছে দুই শিশু সন্তান। মারধরের একপর্যায়ে স্ত্রীর শরীর পরীক্ষা করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘর থেকে চলে যায় নিরব। স্ত্রীর মৃত্যুর পর সে আত্মগোপন করে আছে।

সিফাত জানায়, বাবা ঘর থেকে চলে গেলে আমরা ভয়ে ভয়ে আম্মুর পাশে গিয়ে কোনো শব্দ না করে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে ঘুম থেকে উঠে আম্মুকে ডাকাডাকি করি। আম্মু কোনো সাড়া না দেয়ায় পাশের বাসায় থাকা দাদিকে ডাকতে যাই। দাদি প্রথমে আসেননি। আবার ডাকতে গেলে বড় ভাই সৌরভ ও দাদি এসে আম্মুকে ঘুম থেকে উঠানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আম্মুর ঘুম ভাঙেনি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সিফাত যুগান্তরকে জানায়, মাকে মারধরের শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। আওয়াজ শুনে মনে হচ্ছিল স্বপ্ন দেখছি। এরপর ভালোভাবে ঘুম ভাঙার পর বুঝতে পারি আম্মুকে আব্বু মারছে। সকালে দাদা-দাদিকে জানালে তারা বলেন, কিছুই হয়নি। মাথায় তেলপানি দিলে ভালো হয়ে যাবে। সে আরও জানায়, আব্বুর শাস্তি দেয়ার জন্য আমি পুলিশ হতে চাই। আমার মায়ের কবরের সামনে আমি বাবাকে মারতে চাই, যাতে মায়ের আত্মায় শান্তি পায়। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে বড় ছেলে সৌরভ হোসেন (১৪), ছোট ছেলে সিফাত (৮) ও একমাত্র কন্যা শিফা (৫) খাওয়া-দাওয়া প্রায়ই ছেড়ে দিয়েছে। মাহারা তিন সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করেন তাদের বড় মামা রশিদুজ্জামান বাবু। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর শাহ আলী থানা এলাকায় গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়।

বোনকে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই রশিদুজ্জামান বাবু বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় খুনি নিরব ও তার ভাই মো. লিটনসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। দুপুরে যুগান্তরকে বাবু বলেন, মামলা করার পর অজ্ঞাত মোবাইল ফোন থেকে মামলা উঠিয়ে নিতে তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে। মামলা তুলে না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়।

তিনি বলেন, শিশু সন্তানরা মাকে হারিয়ে দিন-রাত কান্নাকাটি করছে। কিছুই খাচ্ছে না। কিভাবে তাদের সান্ত্বনা দেব সেটা খুঁজে পাচ্ছি না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবু আরও জানান, এ ঘটনায় তার আব্বা-মা দু’জনই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে শাহানারা সবার ছোট ছিলেন। স্থানীয় লোকজন জানায়, কবুতরের ব্যবসা করত নিরব। বেশ কিছুদিন হল সে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে। এরপর থেকে যৌতুকের জন্য প্রায়ই স্ত্রী শাহানারাকে সে মারধর করত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার এসআই খন্দকার মনিরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বাচ্চাদের মুখে খুনের ঘটনার বর্ণনা শুনে হতভম্ব হয়েছি। চাঞ্চল্যকর এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

যুগান্তর রিপোর্ট

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন!
অনুগ্রহ করিয়া এখানে আপনার নাম লিখুন!